Joy Jugantor | online newspaper

রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর প্রয়াণ দিবস আজ

ফিচার ডেস্ক 

প্রকাশিত: ১৮:৩৫, ২১ জুন ২০২২

রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর প্রয়াণ দিবস আজ

রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

দ্রোহ ও প্রেম- এই দুই চৈতন্যে বাহ্যিক শব্দকে নিজেই কবিতার তিনি ধারণ করেছিলেন। নিজেই গড়ে তুলেছেন নিজস্ব কাব্যসত্বার ক্যানভাস। রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর কথা বলছি। আজ তার প্রয়াণ দিবস। ১৯৯১ সালের ২১ জুন খুব অল্প বয়সেই তিনি মারা যান। 

অতি আধুনিক বাংলা কবিতা নির্মাণে নিজের সংবেদনশীল কবি সত্বাকে রুপায়ন করেছেন নিজস্ব নির্মাণ কৌশলে। তাইতো তিনি দ্রোহের কবি, চেতনায় জাতিসত্বার কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ একাধারে কবি ও গীতিকার যিনি প্রতিবাদী রোমান্টিক হিসাবে খ্যাত। আশির দশকে কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠে যে কয়েকজন কবি বাংলাদেশি শ্রোতাদের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি তাদের অন্যতম। তার জনপ্রিয় কবিতার মধ্যে অন্যতম ‘যে মাঠ থেকে এসেছিল স্বাধীনতার ডাক, সে মাঠে আজ বসে নেশার হাট’, ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’। 

কবি রুদ্র ছিলেন আমাদের আবহমান অস্তিত্ব সংগ্রামের দহন থেকে উঠে আসা এক কণ্ঠস্বর। একাত্তর পরবর্তী বাঙালির বিক্ষোভগুলো তার কবিতাকে ধারণ করে মূর্ত হয়ে ওঠে। তাই তার কবিতা আর সবার কবিতার থেকে ব্যতিক্রমী। ১৯৭৩ সালে ঢাকার ওয়েষ্ট অ্যান্ড হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং ঢাকা কলেজ থেকে আইএসসি পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮০ সালে বাংলায় স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি ও ১৯৮৪ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে কবির প্রথম কাব্য গ্রন্থ প্রকাশিত হয় বরেণ্য চিন্তাবিদ, গবেষক কবি আহমদ ছফার আনুকূল্যে। যার প্রকাশক ছিলেন আহমদ ছফা। তরুণ কবিতা কর্মীর সৃষ্টিশীলতাকে বুঝতে বেগ পেতে হয়নি তাকে। তিনি জাতীয় কবিতা পরিষদ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের অন্যতম উদ্যোক্তা।

১৯৮০ সালে কবি নুরুল হুদা ও কবি কামাল চৌধুরীকে নিয়ে দ্রাবিড় প্রকাশনা সংস্থা গঠিত হলে দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘ফিরে চাই স্বর্ণ গ্রাম’ এই প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়। ১৯৮৪ সালের এপ্রিলে তৃতীয় কাব্য ‘মানুষের মানচিত্র’ প্রকাশিত হলে ভিনধর্মী কাব্য ও নিজস্বতার জন্য বিপুলভাবে প্রশংসিত হন কবি। ১৯৮৪ সালে চতুর্থ কাব্য গ্রন্থ ছোবল, এবং ১৯৮৭ সালে পঞ্চম কাব্য গ্রন্থ ‘গল্প’ প্রকাশিত হয় নিখিল প্রকাশনী থেকে। ষষ্ঠ কাব্য ‘দিয়েছিলে সকল আকাশ’ প্রকাশ পায় মুক্তধারা থেকে ১৯৮৮ সালে এবং ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয় ‘মৌলিক মুখোশ’।

মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়েছিলো কাব্যগ্রন্থ ‘এক গ্লাস অন্ধকার’ (১৯৯২) এবং কাব্যনাট্য ‘বিষ বিরিক্ষের বীজ' (১৯৯২)। মৃত্যুর তিন বছর পর ১৯৯৪ সালে কবির শেষ জীবনের বন্ধু অগ্রজ কবি অসীম সাহার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ গ্রন্থটি। শ্রেষ্ঠ কবিতা গ্রন্থে কবির বেশ কয়েকটি অপ্রকাশিত কবিতাও প্রকাশিত হয়েছিলো। 

১৯৮৯ সালে কবি কবিতার পাশাপাশি গানও রচনা শুরু করেন। তার রচিত ‘ভালো আছি, ভালো থেকো/ আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’ গানটি আজো সমান জনপ্রিয়।

১৯৮১ সালের ২৯ জানুয়ারি বহুল আলোচিত নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে বিয়ে করেন। ১৯৮৮ সালে তাদের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে।

তসলিমা নাসরিনের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ আরো মুক্ত জীবন যাপন করতে শুরু করেন। তিনি খাওয়া-দাওয়ায় অনিয়ম করতেন। ঠিকঠাক সময়ে খেতেন না এবং নিজের শরীরের যত্ন নিতেন না। ফলে তার পাকস্থলিতে ক্ষত তৈরি হয়েছিল। ১৯৯১ সালের ২১ জুন ঢাকার নিজের থাকার কক্ষেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।