Joy Jugantor | online newspaper

টাইটানিক বিতর্ক: ‘জ্যাকও বাঁচতে পারতো’, স্বীকার করলেন ক্যামেরন!

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৪:৩৫, ২১ মার্চ ২০২৩

টাইটানিক বিতর্ক: ‘জ্যাকও বাঁচতে পারতো’, স্বীকার করলেন ক্যামেরন!

টাইটানিক ছবির শেষ অংশের দৃশ্য।

১৯৯৭ সালে মুক্তি পেয়েছিল হলিউডের কালজয়ী চলচ্চিত্র 'টাইটানিক'। হলিউড চলচ্চিত্র নির্মাতা জেমস ক্যামেরনের ক্যারিয়ারে তো বটেই, গোটা সিনেমা জগতের ইতিহাসে অন্যতম সুপারহিট ছবি ছিল এটি। লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও ও কেট উইন্সলেট অভিনীত এই সিনেমাটি সবার হৃদয় জয় করে নিয়েছিল। এক আসরে ১১টি অস্কার জিতেও রেকর্ড গড়েছিল এই ছবি।

কিন্তু 'টাইটানিক' নিয়ে সিনেমাপ্রেমীদের মনে সবচেয়ে বড় আফসোসের জায়গা হলো সিনেমার শেষের দিকে নায়ক জ্যাক- অর্থাৎ লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর মৃত্যু নিয়ে। ছবির শেষে টাইটানিক জাহাজডুবির এক নির্মম ট্র্যাজেডি দেখানো হয়েছে, যেখানে নায়িকা রোজকে (কেট উইন্সলেট অভিনীত) একটি ভাঙা দরজার ওপর তুলে দিয়ে জ্যাক আটলান্টিকের হিমশীতল পানিতেই থেকে যায় এবং সেই ঠান্ডায় তার মৃত্যু হয়।

কিন্তু পুরো সিনেমাজুড়ে জ্যাক-রোজের অসাধারণ প্রেমের গল্পের পর এই ট্র্যাজেডি মানতে পারেননি সিনেমাপ্রেমীরা। তাই তো দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে চলছে সেই একই বিতর্ক- 'জ্যাককে কি বাঁচানো যেত না ছবিতে?'

বাস্তবতা হলো, উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের হিমশীতল পানিতে থাকলে কারো পক্ষেই বেঁচে থাকা সম্ভব নয় এবং সেই বিরূপ আবহাওয়ায়, হাঁড় কাঁপানো শীতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সমুদ্রে থাকলেও কারো পক্ষে বেঁচে থাকা কঠিন। তাই ধরে নেওয়া যায়, লাইফবোটে যারা ছিল, তাদের বাইরে টাইটানিকের আর কোনো যাত্রীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা শূন্য। তবে সিনেমার গল্পের খাতিরেই জেমস ক্যামেরন জ্যাক এর মৃত্যু ঘটিয়েছিলেন তা আগেপরেও তিনি জানিয়েছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের বিশেষভাবে নির্মিত 'টাইটানিক: টুয়েন্টি ফাইভ ইয়ারস লেটার উইথ জেমস ক্যামেরন'- এ তিনি এই বিতর্ককে অনেকটা বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। ক্যামেরন জানিয়েছেন- তিনি দুটি কস্টিউমড স্টান্ট ডাবল, একটি প্রচন্ড ঠান্ডা পানির পুল, একটি নকল দরজা এবং শীতল পরিবেশ সৃষ্টি করেছিলেন সিনেমার দৃশ্যটির পুনরাবৃত্তি করতে।

যেহেতু মিথবাস্টারস আগেই জানিয়েছিল যে দুজন ব্যক্তি একটি দরজার ওপর ওঠার চেষ্টা করলে তা ডুবেই যাবে এবং সেক্ষেত্রে দুজনেরই মৃত্যু হতো।  কিন্তু বেশ কয়েকবার চেষ্টার পর স্টান্ট পারফর্মাররা দরজার ওপরে থাকার এমন একটি অবস্থান খুঁজে পেয়েছেন যেখানে দুজন মানুষই শরীরের ওপরের অংশ দরজার ওপর রাখতে পারতেন। এর ফলে তাদের দেহের প্রধান অঙ্গগুলো হিমশীতল পানি থেকে দূরে থাকতো।

ক্যামেরনের ভাষ্যে, "ওভাবে দরজায় উঠতে পারলে জ্যাক অন্তত আরও কয়েক ঘণ্টা টিকে থাকতে পারতো।" অর্থাৎ, জ্যাকের আসলেই বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ছিল! আর একথা স্বীকার করেছেন ক্যামেরন নিজেই।

কিন্তু স্টান্ট ডাবল দিয়ে যে কাজ ক্যামেরন করিয়েছেন এবং এতে তাদের একাধিকবার চেষ্টার প্রয়োজন হয়েছে, তা আটলান্টিক মহাসাগরে সম্ভব নয়। সেখানে প্রচণ্ড ঠান্ডায় আপনি বারবার চেষ্টা করার চিন্তাও হয়তো আনতে পারবেন না।

পরিশেষে বলা যায়, 'জ্যাক হয়তোবা বাঁচতে পারতো, কিন্তু সেখানে নানা শর্ত দেওয়া ছিল। কিন্তু জ্যাক হয়তো ভেবেছিল সে এমন কিছু করবে না যাতে রোজ কোনো শক পায়, আর এটা শতভাগই তার চরিত্রের মধ্যে ছিল।"

সূত্র: টিবিএস