Joy Jugantor | online newspaper

সিরাজগঞ্জ-১ আসন 

কাজিপুরে ফায়দা লুটতে গুজব রটাচ্ছে দুষ্কৃতিকারীরা

খোরশেদ আলম

প্রকাশিত: ১৬:০৩, ৩০ মে ২০২১

আপডেট: ১৮:৪০, ৩০ মে ২০২১

কাজিপুরে ফায়দা লুটতে গুজব রটাচ্ছে দুষ্কৃতিকারীরা

ছবি- জয়যুগান্তর

আওয়ামী লীগের রাজনীতে বিশেষ করে সিরাজগঞ্জে শহীদ ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মুনসুর আলী পরিবার অনবদ্য দ্যূতি ছড়িয়ে যাচ্ছেন গণমানুষের উপকারের মধ্য দিয়ে। ভোটের মাঠে মানুষও তার প্রতিফলন দেখিয়েছে। কিন্তু ১/১১ এ উল্টোরথে চলা কিছু রাজনৈতিক বরাবরই প্রতিকূলতার দেয়াল তুলেছেন এই পরিবারের বিরুদ্ধে, যা এখনো চলমান। এরই অংশ হিসেবেই সম্প্রতি কাজিপুরের সাংসদ এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে বিভাজনের কাল্পনিক তথ্যও তারা প্রচার করছেন। নেতারা বলছেন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা লটুতে কিছু দুষ্কৃতিকারীরা এমন গুজব রটাচ্ছে। 

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুনসুর আলীর সন্তান মোহাম্মদ নাসিম সিরাজগঞ্জ-১ আসনে ১৯৮৬, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ১/১১ তে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্যাতনে অসুস্থ হওয়ার কারণে ২০০৮ সালে এখানে সাংসদ হন তার ছেলে তানভীর শাকিল জয়। এই নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়েই মূলত কাজিপুরের রাজনীতির নতুন দিক উন্মোচন হয়। তখন অনেকের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেই দল থেকে তানভীর শাকিলের নাম এককভাবে কেন্দ্রে পাঠানো হয়। এতে বিরোধী অবস্থানে কিছু নেতাকর্মী প্রক্যাশ্যে চলে আসেন। তারাই কার্যত অবৈধভাবে ফায়দা লুটতে সাংসদ প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয় ও কাজীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান সিরাজীর মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছেন।   

২০১৪ সালে নাসিম সিরাজগঞ্জ-১ আসন থেকে সাংসদ হন। গত বছরের ১৩ জুন মোহাম্মদ নাসিম মারা যান। এ কারণে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। উপ-নির্বাচনে বিপুল ভোটে ফের সাংসদ হন তার ছেলে তানভীর শাকিল জয়।
আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, বর্তমানে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কাজিপুরে রাজনৈতি সৌহার্দের মধ্য দিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে যাচ্ছে। সাংসদের অনুপস্থিতিতে কাজিপুরে তার প্রতিনিধিত্ব করেন খলিল। তিনি সাংসদ নাসিমেরও প্রতিনিধি ছিলেন। মূলত ক্যাপ্টেন পরিবারের কাছে আ. লীগ নেতা খলিল অত্যন্ত বিশ্বস্ত রাজনৈতিক হিসেবে পরিচিত। অথচ তাকে ও জয়কে ঘিরে কুৎসা রটাচ্ছে রাজনীতির লেবাসে দুর্নীতিবাজ বহিস্কৃত নেতারা। 

এমন গুজব কাজীপুরের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য করা হচ্ছে বলে মনে করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত হোসেন। জানান, ক্যাপ্টেন মুনসুর পরিবার কাজিপুরের উন্নয়নের রূপকার। বাবার মৃত্যুর আগে থেকেই তার ছেলে জয় কাজিপুরের উন্নয়নের হাল ধরেছেন। তার এই কাজকে মাঠ পর্যায় থেকে সুষ্ঠুভাবে দেখাশোনা করছে আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ। তার সাথে জয়ের অন্তত মুধর সম্পর্ক। কিছু সুবিধাবাধী লোকজন তাদের বিরুদ্ধে গোপনে কুৎসা রটাচ্ছে। তাদের কাজ উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা। 

কাজিপুরের রাজনীতিতে সাংসদ জয়-খলিল আলাদা নয় বলে মন্তব্য করেছেন কাজিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক ও বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুল আমীন। বলেন, সাংসদ জয় ও উপেজলা চেয়ারম্যান খলিল আমার চেয়ে বয়সে অনেক ছোট। কিন্তু খলিল হঠাৎ জেগে ওঠা কোনো নেতা নন; মাঠ থেকে উঠে আসা এক জলন্ত ছাত্রনেতা। একজন দক্ষ সংগঠক। তানভীর শাকিল জয় ও খলিল অভিন্ন। এখানে আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় অবস্থানে রয়েছে সাংসদ জয়-খলিলের জনপ্রিয়তা। 

১৯৭৬ সাল থেকে রাজনীতির সাথে জড়িত কাজিপুর থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নজরুল ইসলাম। তার ভাষ্য, বাংলাদেশ মানেই বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু মানেই ক্যাপ্টেন মুনসুর আহমেদ। বাংলাদেশ মানেই শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা মানেই মোহাম্মদ নাসিম। সেই অর্থে জয়ও এখন জাতীয় রাজনীতির অংশ। খলিল জয়ের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তাদের সম্পর্ক অভিন্ন। ক্যাপ্টেন পরিবার শুধু রাজনীতির ক্ষেত্রে নয়, এটি কাজিপুরবাসীর জন্য একটি অনুভূতির জায়গা। 

দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খলিল একজন দক্ষ সংগঠক। তিনি জয়ের রাজনীতির সবচেয়ে প্রভাবশালী খেলোয়াড়। তরুণ নেতৃত্ব জয়ের দেখানো পথে হেঁটে উপজেলা আওয়ামী লীগকে একটি পরিবারের আবদ্ধ করতে পেরেছেন এই নেতা। কাজিপুরের জনগণ এখন তানভীর শাকিল জয়কে চান। কাজিপুরের জনগণ এখন খলিল সিরাজকে মাঠে চান। ২০১৩ সালের পর থেকে কাজিপুরের দলীয় রাজনীতিতে নতুন মোড় আসে। এরপর থেকে কিছু দুর্নীতিবাজ ও বহিষ্কৃতরা বিএনপির জামায়াতের সাথে আঁতাত করে কাজিপুরের আওয়ামী রাজনীতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। 

কাজীপুর থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, বিএনপি-জামায়াতের বিচ্ছিন্ন কিছু লোকজন নিয়ে কেউ কেউ ষড়যন্ত্র করলেও তা সফল হয়নি। গত উপনির্বাচন তার যথেষ্ঠ প্রমাণ। 
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অনুভূতির অন্যতম প্রাণ পুরুষ ক্যাপ্টেন মুনসুর আলী পরিবার কাজীপুরের জন্য আশির্বাদ। জয় এই পরিবারের সন্তান। এটাও কাজিপুরবাসীর গর্বের বিষয়ও মনে করেন নিশ্চিন্তপুর ইউনিয় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন মাস্টার। বলেন, জয় এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে খলিলের মতো একজন বিশ্বস্ত মানুষ পেয়েছে এটাও কাজিপুরের রাজনীতির জন্য সুখের খবর। তাদের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ কাজিপুরবাসীর নয়, এটা বিচ্ছিন্ন কয়েকজন মানুষের মন্তব্য।

সাংসদ জয় ও আ. লীগ নেতা খলিলের মধ্যে অসাধারণ সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আসলাম বলেন, একদিন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার ক্লিয়ার হবে। সত্য উদঘাটন হবে। তখন কাজিপুরের নিয়ে কুৎসা রটনাকীরা মুখ লুকাবে অন্ধকারে।  

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান বলেন, কাজিপুরে যখন নাসিম সাংসদ ছিলেন তখন এলাকায় খলিল সিরাজী তার উন্নয়মূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এখন জয়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন। অথচ হুট করেই কিছু দুষ্কৃতকারী তাদের মধ্যে বিভাজনের স্বপ্ন দেখলেন। তারা আসলে কাজিপুরের উন্নয়ন চান। উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতেই বেইমানের দল এমন করছেন। 

১/১১ এর সময়ে যারা দুর্নীতি করে শূন্য থেকে অঢেল সম্পদ, বাড়ি-গাড়ির মালিক বনে গেছেন তারাই এখন নতুন চক্রান্তে মেতেছেন বলে মন্তব্য করেছেন উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক দ্বীন মো. বাচ্চু। তিনি বলেন, কাজিপুরের আওয়ামী লীগ একটি সুসংগঠিত দল। প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে জামায়াত-বিএনপি কাঁধে ভর দেওয়া একটি গ্রুপ কাজিপুরের সংগঠিত রাজনীতি নিয়ে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলছেন। অন্ধকার জগতের মিডিয়ায় তারা মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছেন। এটা কাজিপুরবাসী প্রতিহত করবে।  

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজু আহম্মেদ বলেন, বিরোধীদল ও ১/১১ তে কাজিপুরের রাজনীতিতে ত্যাগী নেতাদের পরিচয় মিলেছে। ওই সময়ের প্রমাণিত নেতা খলিল সিরাজী। এই সময়ে বিভিন্ন নির্যাতন সহ্য করে খলিল ক্যাপ্টেন পরিবারের জন্য রাজনীতি করে গেছেন। অথচ ওই সময়ে মধু খাওয়া নেতারা বেইমানি করেছেন দলের সাথে। ওইসব বেইমানেরাই এখন রাজনীতির মাঠ ঘোলা করতে চাচ্ছে। ষড়যন্ত্রকারীরা ক্যাপ্টেন পরিবারকে মাইনাস করতে চায়। তারা খলিল ও জয়ের মধ্যে মিথ্যা অভিযোগ তুলে বিশৃংখলা তৈরি করতে চায়। এরপর জয় রাজনীতির মাঠে কিছুটা একা হলে সেই সুযোগ গ্রহণ করতে চায় সুবিধাবাদী বেইমানের দল। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। 

নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আব্দুর রহিম সরকার বলেন, খলিল ষড়যন্ত্র করে নয় সাংগাঠনিক দক্ষতা দিয়ে দলীয় সাধারণ সম্পাদক হয়েছে। তিনি ক্যাপ্টের পরিবারের বিশ্বস্ত মানুষ। জনগণের নেতা। মাঠের সংগঠক। জয় এবং খলিলের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট করতে পারলে গুটিকয়েক জনবিচ্ছিন্ন নেতা লাভবান হবেন। তারাই মূলত ভিত্তিহীন সংবাদ রটাচ্ছে। তাদের শক্ত হাতে দমন করার সময় এসেছে। 

বাংলাদেশের মধ্যে কাজীপুরের রাজনীতি সৌহার্দপূণ। এখানে অন্য আলাপের কোনো স্থান নেই বলে মন্তব্য করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ মোমলেম উদ্দিন সরকার। 

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর বলেন, কাজিপুরে দুর্নীতিবাজেরা আমাকে নিয়ে রাজনীতি করছে না; তারা ক্যাপ্টেন পরিবারের ক্ষতি করতে চান। কৌশলে তারা সুবিধা নিতে চান। কাজীপুরে আ. লীগ সুসংগঠিত। এই প্রতিহিংসার যারা জ্বলছেন তারাই গুজব রটাচ্ছে। মিথ্যাচার করছেন। নাসিমের দুর্গ ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য তারা রাজনৈতিকভাবে পায়তারা করছেন।    

জানতে চাইলে সাংসদ প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয় বলেন, খলিল ও আমাকে নিয়ে কল্পনাপ্রসূত গল্প তৈরি করে আমাদের রাজনৈতিক সৌহার্দ নষ্ট করতে চায় কাজিপুরের কয়েকজন জনবিচ্ছিন্ন নেতা। ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য তারা কাজিপুরের রাজনীতিতে বিশৃংলা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। এমন অনেকের ষড়যন্ত্র কাছ থেকে দেখেছি। তারপরও তাদের কাছে রেখেছি। সবাইকে নিয়ে আমি কাজ করতে চাই।