Joy Jugantor | online newspaper

সান্তাহারে সংস্কারহীন শহীদ মিনার দখলে নেয়ার চেষ্টা

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি 

প্রকাশিত: ১৯:২৬, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

আপডেট: ২২:২৭, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সান্তাহারে সংস্কারহীন শহীদ মিনার দখলে নেয়ার চেষ্টা

সান্তাহারে শহীদ মিনার। ছবি- জয়যুগান্তর

প্রতি বছরই শহীদ দিবস আসে-যায়, কিন্তু ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার মহিলা কলেজ সংলগ্ন মোড়ে নির্মিত শহীদ মিনারটি সংস্কারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এই শহীদ মিনার বর্তমানে একটি মহল দখলে নেওয়ার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্টরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। 

প্রায় ৪০ বছর আগে পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ এ মোড়ে নির্মিত হয় শহীদ মিনারটি। অযত্ন আর অবহেলার শিকার হয়ে এবং সংস্কারের অভাবে সময়ের ব্যবধানে এটি চরম ভগ্নদশায় পৌঁছেছে। বর্তমানে শহীদ মিনারটি রক্ষা করা জরুরি বলে স্থানিয়রা দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের হাউজিং কলোনী মহল্লার বাসিন্দাদের নিজ অর্থায়নে মহিলা কলেজ সংলগ্ন তিন মাথার মোড়ে ১৯৮০ সালের দিকে শহীদ মিনারটি নির্মিত হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি এলে মহিলা কলেজ, পৌর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, উপশহর প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইউনাইটেড কিন্ডার গার্টেন ও স্থানীয় মহল্লাবাসীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজীক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এ শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতো। গত ৫-৭ বছর ধরে সংস্কার আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি চরম ভগ্নদশায় পৌঁছেছে।

বুধবার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, শহীদ মিনারটির ৩টি স্তম্ভের মধ্যে দুইটি ভেঙে মাটিতে পড়ে রয়েছে। একটি দাঁড়িয়ে থাকলেও সেটিতে নোংরা কাপড়-চোপর ও কাদাযুক্ত বস্তা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। বেদিতে জঙ্গল আর অবর্জনায় ভরা। শহীদ মিনারটির সামনে রয়েছে পৌরসভার ঢাকনাবিহীন (খোলা ড্রেন)। সেখান থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। এমন অবহেলিত শহীদ মিনার উপজেলার আর কোথাও দেখা মিলেনি। পৌর শহরের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ভগ্নদশার শহীদ মিনারটি দাঁড়িয়ে আছে বছরের পর বছর। শহীদ দিবস উপলক্ষেও এটির কোনো সংস্কার করা হয় না। 

স্থানিয়দের অভিযোগ, শহীদ মিনার সংলগ্ন বাড়ির বাসিন্দা মেহের আলী ওরফে বুদা জায়গাটি অভিনব কায়দায় নিজ দখলে রাখতে চেষ্টা করছেন। এ কারণে তিনি শহীদ মিনানের জায়গায় টিনের ছাউনি ও বস্তা দিয়ে ঘিরছেন আবার কখনো মূল বেদিতে ময়লা-অবর্জনাও ফেলছেন। 

তবে মেহের আলী বলছেন, শহীদ মিনারের জায়গাটির মালিকও তিনিই। এ জন্য শহীদ মিনারটি অন্যত্র সড়িয়ে নেয়া হলে তার জন্য ভালো হতো। 

বীরমুক্তিযোদ্ধা আনছার আলী জানান, মূলত ভাষা শহীদদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা মাতৃভাষা বাংলা পেয়েছি। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম অঙ্কুর রোপিত হয়েছিল। ভাষা শহীদদের যথাযথ মর্যাদা দিতে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। এ কারণে এটি একটি পবিত্র স্থান। আর সেখানে ময়লার ভাগাড় তৈরি বা জায়গা দখল করা অমানবিক চিন্তার বিকাশ।

উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) মাহবুবা হক জানান, শহীদ মিনার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। তিনি বিষয়টি নিয়ে ইউএনওকে জানাতে বলেন। 

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সীমা শারমিন বলেন, এ শহীদ মিনার সম্পর্কে তিনি অবগত নয়। শহীদ মিনারটি যেহেতু উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরে অবস্থিত সেহেতু এটি দেখাশোনার দায়িত্ব পৌরসভার। 

সান্তাহার পৌরসভার মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু জানান, পৌর শহরে সরকারিভাবে যেসব শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে সেগুলোর দেখভালের দায়িত্ব পৌরসভার। ব্যক্তিগত উদ্যোগে হাউজিং কলোনীতে এ শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তিনি এটির রক্ষানাবেক্ষণ রা সংস্কার এসব নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।