Joy Jugantor | online newspaper

বন্যায় তলিয়ে গেছে গোচারণ ভূমি

দুই জেলার গোখামার-মালিকরা গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২:০৯, ৯ জুলাই ২০২৪

আপডেট: ১২:১৭, ৯ জুলাই ২০২৪

দুই জেলার গোখামার-মালিকরা গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে

বন্যায় গোচারণ ভূমি তলিয়ে যাওয়া উঁচু স্থানে পশু রাখা হয়েছে।

বন্যায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া উপজেলাসহ পাবনা জেলার ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর উপজেলার বিস্তৃর্ণ গোচারণ ভূমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে এ দুই জেলার গোখামার-মালিকরা তাদের গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। কোনো মতে গবাদি পশুগুলোকে চারণ ভূমি থেকে এনে উঁচু স্থানে রাখা হয়েছে। যাদের বাড়িতে জায়গা নেই, তারা অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। এদিকে চারণভূমি তলিয়ে যাওয়ায় গবাদি পশুর খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। এতে দুধের উত্পাদন হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা খামারিদের।

খামারিরা জানান, শাহজাদপুরের পশ্চিমে বয়ে যাওয়া গোহালা নদীর কোল ঘেঁষে পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতবাড়ী, বড়ভিটা, ছোট ভিটা, বুড়ির ভিটা, কুটির ভিটাতে এবং কাউয়ার্ক ও হান্ড্রি এলাকায় গোচারণ ভূমিগুলোতে প্রতি বছরই বাথান নেওয়া হয়। এখানে ছয়-সাত মাস পর্যন্ত গবাদি পশু বাথান এলাকায় অবস্থান করে। বন্যার পানি গোচারণ ভূমি থেকে নেমে যাওয়ার পর আবাদকৃত ঘাস খাওয়ার উপযোগী হলেই গবাদি পশু বাথানে নেওয়া হয়।

শাহজাদপুর উপজেলার টিয়ারবন্দ গ্রামের গোখামারি সাইফুল ইসলাম জানান, বন্যার কারণে তারা গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। ঘাসের এলাকাগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় তারা পশুগুলোকে খড় খাওয়াচ্ছেন। এছাড়া বন্যার সুযোগে খইল ভুসিসহ বিভিন্ন ধরনের খাবারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়াতে তারা বিপাকে পড়েছেন। পোতাজিয়া এলাকার খামারি মমতাজ উদ্দিন জানান, চাহিদা অনুযায়ী গাভিগুলিকে খাবার দিতে না পারায় দিনদিন দুধের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। ফলে তারা লোকসানে মুখে পড়ছেন। এ ব্যাপারে তারা মানুষের পাশাপাশি গরুর খাবার বিতরণের জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি আরো জানান, শুধু ভূষির ওপর খামার টিকিয়ে রাখা খামারিদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

দুগ্ধ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, এই এলাকায় প্রায় ১৫০টির অধিক বাথান ছাড়াও ব্যক্তিপর্যায়ে অনেকেই গাভি পালন করে আসছেন, যা থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫ লাখ লিটার দুধ উত্পাদিত হয়। রেশম বাড়ী এলাকার খামারি আব্দুস সোবহান জানান, বন্যায় জমি ডুবে যাওয়ায় কাঁচা ঘাসের অভাবে দুধের উত্পাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এছাড়া দানাদার খাবার ও খড়ের দাম বেশি। এই অবস্থা বিরাজ করলে খামারিরাও তাদের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন।

শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বিলাল হোসেন বলেন, ‘বর্তমান অবস্থায় গবাদি পশুকে সাইলেস খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে দুধের উত্পাদন ঠিক থাকবে। এছাড়া দানাদার খাবারের খরচও কম হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে বিনা মূল্যে তরকা রোগের টিকা দেওয়া হচ্ছে। খামারিদের সচেতন করার জন্য বিভিন্ন এলাকায় খামারিদের সঙ্গে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সচেতন করা হচ্ছে ।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ওমর ফারুক বলেন, ‘জেলার পাঁচটি উপজেলায় প্রায় ৫০ হাজার গবাদি পশু পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ সময় গবাদি পশুর বিভিন্ন রোগব্যাধি সৃষ্টি হয়। এজন্য আমরা পাঁচটি মেডিক্যাল টিম গঠন করেছি। তারা নিয়মিত বানভাসি কৃষক ও খামারিদের পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘গবাদি পশুর খাদ্য সরবরাহের জন্য আমাদের বিভাগে কোনো বরাদ্দ নেই।’