Joy Jugantor | online newspaper

এক যুগে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে ৭৯ শতাংশ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১১:৪৬, ৪ এপ্রিল ২০২১

আপডেট: ১৫:৪৩, ৪ এপ্রিল ২০২১

এক যুগে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে ৭৯ শতাংশ

ফাইল ছবি।

দেশে গত ১২ বছরে ইলিশের উৎপাদন প্রায় ৭৯ শতাংশ বেড়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে জাতীয় মাছটির উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৯৮ হাজার টন, সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে ৫ লাখ ৫০ হাজার টন।

এ সময়ে উৎপাদন বেড়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার টন। একই সঙ্গে এই সময়ে ইলিশ উৎপাদনের গড় প্রবৃদ্ধি প্রায় ৭ দশমিক ১১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে (২০২০-২১) উৎপাদন ৬ লাখ টনে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাটকা সংরক্ষণসহ ইলিশ রক্ষায় নানা পদক্ষেপের কারণে উৎপাদন বেড়েই চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে ‘মুজিববর্ষে শপথ নেব, জাটকা নয় ইলিশ খাব’ স্লোগান আজ থেকে শুরু হচ্ছে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২১। আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের জাটকা সম্পৃক্ত ২০টি জেলায় এই সপ্তাহ পালন করা হবে। এ উপলক্ষ্যে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সূত্র জানায়, দেশে প্রাকৃতিক সম্পদের অন্যতম ইলিশ। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি আয় ও আমিষ সরবরাহে মাছটির গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান সর্বোচ্চ (১২ দশমিক ১৫ ভাগ) এবং জিডিপিতে অবদান ১ শতাংশের বেশি। উপকূলীয় মৎস্যজীবীদের জীবিকার প্রধান উৎস হচ্ছে ইলিশ। প্রায় ৬ লাখ মানুষ ইলিশ আহরণে সরাসরি নিয়োজিত এবং ৩০ লাখ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। সারাবিশ্বের মোট উৎপাদিত ইলিশের ৮৫ শতাংশের বেশি আহরিত হয় এ দেশের নদ-নদী থেকে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, ইলিশ বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে ২০১৭ সালের ১৭ আগস্ট। মাছটির ভ্যালু অ্যাডেড পণ্য (ইলিশ স্যুপ ও নুডলস) উৎপাদন কৌশল উদ্ভাবন করা হয়েছে। খাদ্য সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থান উপকরণ প্রদানের ফলে জেলেদের একটি বিরাট অংশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে জাটকা ও মা ইলিশ আহরণ থেকে বিরত রয়েছে। নদীতে জাটকার প্রাচুর্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। নিম্ন মেঘনা থেকে জাটকা ও মা ইলিশ আজ পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, সুরমায় বিস্তৃতি লাভ করেছে। ফলে বছরব্যাপী বাজারে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে।

ইলিশ রক্ষায় মৎস্য সংরক্ষণ আইনটি ইলিশের বিজ্ঞানভিত্তিক প্রজনন সময় বিবেচনা করে আশ্বিন মাসের পূর্ণিমাকে ভিত্তি করে সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত আইন অনুযায়ী ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ সময়সীমা এখন ২২ দিন করা হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম জানান, সামুদ্রিক জলসীমায় ৬৫ দিনের (১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল) মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ সময়ে উপকূলীয় সব জেলে পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এর আওতায় ২০২০ সালে মোট ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৭৮৬টি জেলে পরিবারকে মোট ৩৫ হাজার ৩৫০ টন খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পদ্মা, মেঘনার ঊর্ধ্বাঞ্চল ও নিম্ন অববাহিকায়, কালাবদর, আন্ধারমানিক ও তেঁতুলিয়াসহ অন্যান্য উপকূলীয় নদীতে মোট ৬টি ইলিশ অভয়াশ্রম স্থাপন ও অংশীদারিত্বমূলক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। ইলিশসহ অন্যান্য সব উপকূলীয় জলজ মেঘাফনা রক্ষায় চলতি বছরই নিঝুম দ্বীপ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ৩ হাজার ১৮৮ বর্গকিমি. আয়তনের সামুদ্রিক সংরক্ষিত অঞ্চল ঘোষণা করা হয়েছে। ইলিশের পোনা জাটকা যেন ইলিশ ধরার জালে আটকে না যায় তাই সরকার ফাঁস জালের মেস সাইজ ৬ দশমিক ৫ সেমি. নির্ধারণ করেছে। যা জাটকা রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখবে।