Joy Jugantor | online newspaper

বগুড়ায় আন্ত: জেলা ডাকাত দলের ৭ সদস্য গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:২৮, ৮ জুলাই ২০২৪

বগুড়ায় আন্ত: জেলা ডাকাত দলের ৭ সদস্য গ্রেফতার

বগুড়ার গাবতলী ও ধুনট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একরাতে একাধিক বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় আন্ত: জেলা ডাকাত দলের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত রবিবার ও সোমবার বগুড়া গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও গাবতলী মডেল থানার যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
 
গ্রেফতারকৃতরা হলেন-সিরাজগঞ্জ জেলার তারাশ উপজেলার জৈন্তিপুর গ্রামের মৃত সেকেন্দার আলীর ছেলে আলম মিয়া ওরফে আদমী আলী (৪০), বগুড়ার গাবতলী উপজেলার ছোট ইটালী গ্রামের লুৎফর রহমান প্রামানিকের ছেলে রাব্বি হাসান (২২), একই উপজেলার নিজগ্রাম এলাকার ফজলু প্রামানিকের ছেলে শাহ আলম (৩২), শেরপুর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে মাসুদ রানা (৩০), একই উপজেলার মদনপুর পশ্চিমপাড়ার ছাকা উদ্দিনের ছেলে আবু সাঈদ (২৬), সাগরপুর গ্রামের মৃত শ্রীবেন্দ্র সরকারের ছেলে শ্রী সনাতন সরকার (৪০) ও ধাওয়া পাড়ার মৃত মকবুল সরকারের ছেলে আব্দুল হামিদ (৪০)। এসময় তাদের কাছ থেকে ১টি দেশীয় সচল অস্ত্র পাইপগান, দুই রাউন্ড কার্তুজ, ২টি চাপাতি, একটি ছুরি, একটি ছোরা, একটি গ্রিল কাটার যন্ত্র, ১ জোড়া স্বর্নের কানের দুল, ১টি নাকফুল, ২টি বাটন মোবাইল ফোন. ১টি স্মার্ট ফোন ও নগদ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, গত ১ জুলাই বগুড়ার গাবতলী উপজেলার নাজু মিয়ার বাড়িতে রাত ৩টার দিকে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ডাকাতি করতে যায় তারা। এসময় সেখান থেকে স্বর্ণ-অলংকার, মোবাইল ফোন ও টাকা নিয়ে যায়। এরপর একই রাতে প্রতিবেশী আব্দুল বাছেদের হাঁসের খামারে গিয়ে টাকা ও স্বর্ণ-অলংকার নিয়ে চলে যায়। ওই রাতে ধুনট উপজেলার বেড়েরবাড়ী গ্রামে মোস্তাফিজার রহমানের দোকানঘর থেকে স্কুটি নেয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ব্যর্থ হয়ে মোস্তাফিজার রহমানের চোখে আঘাত করে পালিয়ে যায়। এঘটনায় ওইদিন রাতেই গাবতলী থানায় মামলা করা হয়। 

মামলার প্রেক্ষিতে গত শনিবার রাতে গাবতলীর নশিপুর এলাকা থেকে শাহ আলমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে আদালতে রিমান্ড আদেবন করলে তার দুইদিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিজ্ঞ আদালত। বিজ্ঞাসাবাদে শাহ আলমের দেয়া তথ্যে বাকি আসামীদের গ্রেফতার করা হয়। 

গতকাল সোমবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী এসব তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তারা দীর্ঘদিন যাবত দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘবদ্ধভাবে দোকানপাট ও বাড়িঘরে ডাকাতি করে আসছে। আসামী আদম আলীর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে ডাকাতি, চুরি, অস্ত্র, মাদকসহ ৮টি, রাব্বির বিরুদ্ধে ১টি চুরি, শাহ আলমের বিরুদ্ধে ১টি ডাকাতি এবং আবু সাঈদের বিরুদ্ধে ১টি মাদক মামলা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রত্যেকের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে। ঘটনার সহিত জড়িত পলাতক অন্যান্য ডাকাত সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান আছে।