Joy Jugantor | online newspaper

বগুড়ায় তুচ্ছ ঘটনায় মামা-ভাগ্নেকে মারলেন ইউপি সদস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:৫২, ২৬ মে ২০২৪

বগুড়ায় তুচ্ছ ঘটনায় মামা-ভাগ্নেকে মারলেন ইউপি সদস্য

স্থানীয় ইউপি সদস্য।

বগুড়ার কাহালুতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামা ও ভাগ্নেকে মেরে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত শুক্রবার দিবাগত রাতে কাহালু থানায় মামলা করেছেন মারধরের শিকার শহীদ শেখ (৪৮)।

এর আগে ওইদিন রাত ৯টার দিকে উপজেলার বীরকেদার ইউনিয়নের বারোমাইল বাজারে মারধরের ঘটনা ঘটে। ওই সময় শহীদ শেখকে বাচাতে এগিয়ে এলে ভাগ্নে সাহিনুর রহমানকে মারধর করেন ইউপি সদস্য ও তার সাথে থাকা আরও দুজন।

অভিযুক্ত আনিছুর রহমান (৪৫) বীরকেদার ইউনিয়নের বাঘোপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য। মামলার দুই আসামি হলেন একই ইউনিয়নের যোগারপাড়া গ্রামের আলআমিন (২৫) এবং বাদল (৩২)। মারধরের ঘটনার পর থেকেই তারা সবাই পলাতক রয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাহিনুর রহমানের বাবা জিল্লুর রহমানের বাবা রাজমিস্ত্রী। তিনি বিভিন্ন বাড়ি নির্মাণ কাজের চুক্তি নিয়ে মিস্ত্রী দিয়ে কাজ সম্পন্ন করেন। সম্প্রতি বাদলের বাড়ির কাজের চুক্তি নেন জিল্লুর। সেখানে কাজের একটি বিষয় নিয়ে শুক্রবার রাতে জিল্লুর রহমানকে বকাঝকা করছিলেন বাদল। এই সময় তার শ্যালক শহীদ শেখ দেখে বাদলকে গালি দিতে নিষেধ করেন। 

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাদল তার খালাতো ভাই ইউপি সদস্য আনিছুর রহমানকে ফোন করে ডাকে। ফোন পেয়ে আনিছুর বারোমাইল বাজারে এসেই শহীদ শেখের ওপর চড়াও হন। এ সময় চাকু দিয়ে শহীদের মাথায় আঘাত করেন বাদল। আনিছুরের সঙ্গে থাকা আল আমিন লোহার রড দিয়ে চোখের ওপর হামলা করেন।

ওই পথ বাড়ি ফেরার পথে সাহিনুর তার মামা শহীদ শেখকে মারধর করতে দেখে এগিয়ে যান। তখন তাকেও মারধর করেন ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সরে যান। এরপর স্থানীয়রা শহীদ ও সাহিনুরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় চিকিৎসার জন্য। 

সাহিনুর রহমান বলেন, বাদলের বাড়ির কাজে মিস্ত্রীদের দু-একদিন  যেতে দেরি হয়েছে। এটা নিয়ে আবার বাবাকে গালিগালাজ করেন বাদল। এটা দেখে মামা নিষেধ করলে তার ওপর চড়াও হয়। বাড়ি যাওয়ার পথে আমার চোখের সামনে তাকে মারধর করতে দেখে ঠেকাতে যাই। তখন আমাকেও মারধর করেছে। কিন্তু আমার মামার অবস্থা বেশি খারাপ। পরে রাতেই আমরা মামলা করেছি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে বীরকেদার ইউনিয়নে জুয়ার আসর চালানোর অভিযোগ আছে। বীরকেদার বাসস্ট্যান্ডের পাশে তার মালিকাধীন রাবেয়া পার্কেও মাঝেমধ্যে জুয়া খেলা হয়।এ ছাড়া একাধিকবার গ্রামের মানুষকে মারধরে করেছেন তিনি। মামলার আসামীরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।

অভিযুক্তদের বিষয়ে জানতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আনিছুরের বিরুদ্ধে জুয়ার সাথে সম্পৃক্ততা আছে, এটা আমরাও শুনেছি। মামলার হওয়ার রাতেই ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। তিন আসামীই ঘটনার পর থেকে পলাতক। তাদের ধরার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব।