Joy Jugantor | online newspaper

বাংলাদেশে অবস্থানরত বিহারিদের ইতিহাস কী? তারা কীভাবে এ দেশে এলো?

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১১:৪৮, ১০ এপ্রিল ২০২৪

বাংলাদেশে অবস্থানরত বিহারিদের ইতিহাস কী? তারা কীভাবে এ দেশে এলো?

ছবি সংগৃহীত

দেশের একমাত্র অবাঙালির শহর সৈয়দপুর। যেখানে বাঙালির চেয়ে অবাঙালিই সংখ্যাগরিষ্ঠ। বিহারী, বাঙালি, মাড়োয়ারি হিন্দু, সাঁওতাল জনগোষ্ঠীসহ নানা গোষ্ঠীর বাস নীলফামারির ছোট্ট এই বাণিজ্যিক শহরে। শহরটি ছোট  হলেও বাণিজ্যিকভাবে এর গুরুত্ব অনেক। তেমনি ইতিহাসের পাতায়ও সৈয়দপুরের উপস্থিতি বেশ প্রাসঙ্গিক, নির্মমও বটে!

সৈয়দপুর শহরে পা রাখলেই, চারপাশ কিছুটা অপরিচিত মনে হতেই পারে। মানুষজনের আলাপচারিতা, বাচনভঙ্গিকে সহজেই পার্থক্য করতে পারবেন। ‘একটি শোক সংবাদ’ এর বদলে শুনবেন ‘এক মাইয়্যাত কি অ্যায়লান’। প্রতিটি মাইকিং করা হয় বাংলার পাশাপাশি উর্দুতে। এমনকি জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এভাবেই বলা হয়— ‘মেরি মা বাহিনো আপকা পিয়ারা আপকা দুলারা ... ৭ জানুয়ারি কো আপনা কিমতি ওট দেকার কামিয়াব কিজিয়ে।’

মহান মুক্তিযুদ্ধেও নির্মম ছিল সৈয়দপুর। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর সারা দেশ শত্রুমুক্ত হলেও বিহারি অধ্যুষিত সৈয়দপুর শহর হানাদারমুক্ত হয় দু-দিন পর; অর্থাৎ ১৮ ডিসেম্বর। আবার এখানে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ও দুই দিন আগে অর্থাৎ ২৩ মার্চ! একাত্তরের ১৩ জুন এই শহরেই ট্রেন থামিয়ে অন্তত ৪৪৮ জনকে একে একে রামদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পুরো যুদ্ধকালীন সময়েই হত্যাযজ্ঞের পাশাপাশি বিহারিরা মাড়োয়ারি, বাঙালিদের ঘরে ঘরে ঢুকে চালায় লুটতরাজ।

কিন্তু এই বিহারিরা সৈয়দপুরে কোথা থেকে এলো? এর নেপথ্যে জানতে হলে ১৯৪৬ সালে ঘটে যাওয়া ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’, ‘নোয়াখালী ম্যাসাকার’ ও ‘বিহার দাঙ্গা’ নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন। কিন্তু এখানে সেই সুযোগ সীমিত।

বিহার দাঙ্গা শুরু হয়েছিল ২৫ অক্টোবর। টানা চলেছিল ১০ নভেম্বর পর্যন্ত। বেশ কয়েক হাজার মানুষ—নারী, শিশু, বৃদ্ধ নির্বিশেষে নিহত হয়েছেন। কয়েক লাখ বাস্তুচ্যুত হয়ে আশ্রয় খুঁজে চলেছেন। মুসলিম লীগের নেতৃত্ব এখানে সেখানে কিছু শিবির করে আতঙ্কিত মুসলিম জনগোষ্ঠীর আশ্রয়ের বন্দোবস্ত করছেন। সব বাংলার লাগোয়া এলাকায়। ততদিনে দেশভাগ চূড়ান্ত হয়ে গেছে। যে বাংলাদেশ নিয়ে এক সময় বিহারে লোকগাথা ছিল, ওখানে গেলে ‘মেয়েরা মরদদের মাছি বানিয়ে দেবে’, সেখানেই বাস্তুচ্যুত মুসলমানদের আসতে হলো। এর নেপথ্যে ভয়, উগ্র হিন্দুত্ববাদ তো রয়েছেই!