Joy Jugantor | online newspaper

জয়পুরহাটে ৪ মাসে ২৩৮ ট্রান্সফর্মার চুরি

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯:৪৭, ২৬ নভেম্বর ২০২৩

জয়পুরহাটে ৪ মাসে ২৩৮ ট্রান্সফর্মার চুরি

ছবি সংগৃহীত

জয়পুরহাটে সেচ ও শিল্পের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার চুরি থামছেই না। গত ৪ মাসে ২৩৮টি ট্রান্সফর্মার চুরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রবি শস্যতে সেচ নিয়ে হতাশা আর চরম উৎকন্ঠিত গভীর নলকুপ মালিক-কৃষকরা। ট্রান্সফর্মার চুরি রোধে নিজ দায়িত্বে পাহারার ব্যবস্থা নিতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। থানায় মামলাও হয়েছে বেশ কয়েকটি। 

চলতি বছরের জুলাই মাসে ৬০টি, আগস্টে ৪৭টি, সেপ্টেম্বরে ১৬টি, অক্টোবরে ৪৯টি ও নভেম্বরের ১৮ দিনে ৬৭টিসহ মোট ২৩৮টি ট্রান্সফর্মার চুরি হয়েছে। এর মধ্যে নভেম্বরে আক্কেলপুরে ৩৫টি, পাঁচবিবিতে ১৭টি, সদরে ১১টি, ক্ষেতলাল ২টি ও কালাইয়ে ১টি।

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার পুর্ণ গোপিনাথপুরে গভীর নলকুপের মালিক বজলুর রসিদ সাদেক। তার গভীর নলকুপের তিনটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার চুরি করে নিয়ে যায়। এজন্য তাকে জয়পুরহাট পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কাছে থেকে ট্রান্সফর্মার পেতে গুনতে হয়েছে দেড় লাখ টাকা।

কদিন পর পাশের ক্ষেতলাল উপজেলার জিয়াপুর মাঠে আবুল কালাম আজাদেরসহ এক রাতে পাহারাদারকে বেঁধে নয়টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার চুরি করে নেয় চোরেরা। অর্থাভাবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে ট্রান্সফর্মার নিতে না পারায় অনেকে জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। শুধু এখানেই শেষ নয়, জেলার পাঁচটি উপজেলাতে ট্রান্সফর্মার চুরি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে চলতি মৌসুমে, আলু, পেঁয়াজ, সরিষাসহ রবি শস্য ফসলের ক্ষেতে সময়মত সেচ দিতে না পারায় বিভিন্ন ফসলে বিপর্যয় ঘটতে পারে।

জানা যায়, সেচ ও শিল্প সংযোগে ৫, ১০, ১৫ ও ২৫ কেভি ক্ষমতাসম্পূর্ণ ট্রান্সফর্মার লাগানো হয়। ৫ কেভির ট্রান্সফর্মারের দাম ৬৭ হাজার, ৪৮ টাকা। ১০ কেভি ১লাখ ৩৪ হাজার ৯৬ টাকা। ১৫ কেভি ৭৯ হাজার ১৫২ টাকা। এসব ট্রান্সফর্মার প্রথম দফায় চুরি হলে গ্রাহককে সমিতিতে অর্ধেক দাম দিতে হয়। দ্বিতীয় দফায় চুরি হলে গ্রাহককে সমিতিতে পুরো দাম দিয়ে কিনতে হয়। প্রতিটি ট্রান্সফর্মারে ১২ থেকে ১৫ কেজি তামার তার থাকে। 

আক্কেলপুর উপজেলার পুর্ণ গোপিনাথপুর গ্রামের গভীর নলকুপ মালিক বজলুর রসিদ সাদেক মেম্বার জানান, শুরু হয়েছে আলু, বেগুন, সরিষাসহ জমিতে সেচ মৌসুম। বাড়ি থেকে কিছু দূরে মাঠে গ়ভীর নলকুপের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার চুরি ঠেকাতে পাহারা দিতো সে। একদিন ভোর হলে একটু আগে বাড়ি যান। তারপর এসে দেখতে পান তার গভীর নলকুপের তিনটি ট্রান্সফর্মার ইলেকট্রিক খাম্বা থেকে নামিয়ে, ট্রান্সফর্মারের ভিতরের তামার তার নিয়ে কভার সেখানে রেখে চলে গেছে। পরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে দেড় লাখ দিয়ে তিনটি ট্রান্সফর্মার কিনতে হয়েছে। 

ক্ষেতলাল উপজেলার জিয়াপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদ জানান, তার দুটি গ়ভীর নলকুপ আছে। চলতি মৌসুমে আলু, সরিষাসহ বিভিন্ন ক্ষেতে সেচ শুরু হয়েছে। গত ১৭ নভেম্বর রাত সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে তার গভীর নলকুপের পাহারাদার আব্দুস সালাম ও জিদ্দি দাসকে হাত পা বেঁধে ১৫ কেভি ১টি ও ১০ কেভি ২টিসহ ৩টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। এদিকে জমিতে সেচ দেয়া প্রয়োজন, সময়মত সেচ দেয়া প্রয়োজন। কিন্ত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে ২ লাখ ১৩ হাজার ২৪৮ টাকা জমা দেয়ার পর মিলবে ট্রান্সফর্মার। সেই টাকা জোগাড় করতে না পারায় ট্রান্সফর্মার কিনতে পারছেন না তিনি।