Joy Jugantor | online newspaper

চরের বিদ্যালয়ে হাজিরা শুধু কাগজে-কলমেই, শিক্ষকের সময় কাটে বাড়িতে

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৪:৪৪, ২ জুন ২০২৩

চরের বিদ্যালয়ে হাজিরা শুধু কাগজে-কলমেই, শিক্ষকের সময় কাটে বাড়িতে

সোনাতলায় যমুনা নদীর চরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান না করে শিক্ষকদের অনুপস্থিত।

বগুড়ার সোনাতলায় যমুনা নদীর চরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান না করে দিনের পর দিন শিক্ষকদের অনুপস্থিত থাকছেন। অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়টির হাজিরা খাতায় শতভাগ উপস্থিতি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের চোখে ধুলো দিচ্ছেন তারা।

উপজেলার তেকানীচুকাইনগর ইউনিয়নের দাউদের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘটনা এটি।

সরেজমিনে বিদ্যালয়গুলো ঘুরে দেখা যায় একজন শিক্ষার্থী উপস্থিত নেই। শিক্ষকরাও আসেননি। বিদ্যালয়ে কক্ষেও চেয়ার, টেবিল এলোমেলো অবস্থায় পরে রয়েছে। কিন্তু কোনো জনমানুষ নেই।

স্থানীয়রা জানায়, এসব স্কুলে কোনো ছাত্রই আসে না। শিক্ষকরা কখন আসে কখন যায় তা বলাই মুশকিল, তারা আরো বলেন শিক্ষা কর্মকর্তারা এসব এলাকায় কখনোই আসেননা যার কারনেই এমন বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে এই স্কুলগুলো। সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে নিজেদের তৈরিকৃত নিয়মের মধ্যে চলে বগুড়ার সোনাতলা চরাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। এসব বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা কে কখন আসলো কখন গেলো, ক্লাস হলো কি হলো না, ছাত্র সংখ্যা উপস্থিত আছে কি নেই, পতাকা উঠলো কি না এসবের কোন তদারকি করার মতো কোন অফিসার নেই বললেই চলে। তবে কাগজে কলমে এসব অফিসারেরা আছেই। আবার বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাজিরাও রয়েছে শতভাগ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তবে শিশু থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত গত কয়েক মাসের হাজিরা খাতায় হালনাগাদ করেছেন শিক্ষকরা। কিন্তু ৫ম শ্রেণির হাজিরা খাতায় গত ২৪ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত ফাঁকা পাওয়া যায়।

বিদ্যালয়ে পৌছে একজন শিক্ষককে পাওয়া যায় পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষককে সংবাদ দিলে সে এসে বলে আমি বাড়িতে খাবার খাইতে গিছিলাম। ছাত্র অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বরেন দুপুর বেলাতো সবাই বাড়িতে খেতে গেছে। তব ৩ টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অপেক্ষা করে আর কোন শির্ক্ষাীকে পাওয়া যায়নি।

একই অবস্থা মহব্বতেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এখানে নতুন একটি ভবনের কাজ শুরু হয়েছে। শিক্ষক সংখ্যা ৫জন ও শিক্ষার্থী সংখ্যা ৮৫ জন। তবে শিক্ষক ৫ জনই উপস্থিত থাকলেও একজন শিক্ষার্থীও উপস্থিত নেই। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদ বলেন ছাত্ররা খেলতে গেছে।

এ বিষয়ে ঐ এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ এনায়েতুর রশীদ ঘটনার সত্যাতা স্বীকার করে বলেন। তিনি বলেন, আমি প্রায়ই এসব এলাকায় গিয়ে বিদ্যালয়গুলোর নাজুক অবস্থা দেখে তাদেরকে সতর্ক করেছি কিন্তু তার এখনো সতর্ক হয়নি। এসব বিষয়ে তাদেরকে সোকজ করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনুগুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রবিন্দ্র নাথ সাহা বলেন আপনারা যেসব অভিযোগ ও অনিয়মের কথা বলছেন এসব বিষয়গুলো আমিও বেশ জানি। আমরা ইতিমধ্যে তদন্তের কাজ শুরু করেছি অতি দ্রুত দাদের বিরুদ্ধে বিভাগিয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদা পারভিন বলেন, আপনর মাধ্যমে যেসব বিষয় জানতে পারলাম। এসব বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে অতি দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।