Joy Jugantor | online newspaper

হঠাৎ বৃষ্টিতে আঞ্চলিক সড়ক যেন ‘মরণফাঁদ’

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮:৩৪, ২০ মার্চ ২০২৩

হঠাৎ বৃষ্টিতে আঞ্চলিক সড়ক যেন ‘মরণফাঁদ’

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার আঞ্চলিক সড়ক।

হঠাৎ বৃষ্টিতে বগুড়ার শেরপুরের বিভিন্ন স্থানের সড়কে কাদা জমে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে বেড়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। এতে বিপাকে পড়েছেন সড়কে চলাচল করা পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীরা। যে কোনো সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে পথ চলছেন তারা।

রোববার (১৯ মার্চ) বিকেলে হঠাৎ বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এতে কাদা পানিতে উপজেলার বিভিন্ন সড়কগুলো পিচ্ছিল হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে শেরপুর উপজেলায় পুকুর খনন, পুকুর সংস্কার, ইটভাটায় মাটি সরবরাহকারী গাড়ি থেকে প্রতিদিন মাটি পড়ে এই অবস্থা হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান।

সরেজমিনে দেখা যায়, শাহ বন্দেগী ইউনিয়ন, মির্জাপুর ইউনিয়ন, খামারকান্দি, কুসুম্বি ইউনিয়, বিশালপুর ইউনিয়নের সবচেয়ে বেশি যেমন, শেরুয়া বটতলা টু ব্রাক বটতলা, রানীরহাট রোড, জামাইল রোড, পার্ক  রোড, বউ বাজার, শেরপুর টু নন্দীগ্রাম, কলেজ টু নন্দীগ্রাম এসব আঞ্চলিক মহাসড়কসহ একাধিক সড়কে বৃষ্টির পর পড়ে থাকা মাটি কাদায় পরিণত হয়েছে। এতে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে গেছে। রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহন ও মোটরসাইকেল আরোহীরা পড়েছেন বিপাকে।

সাব্বির হোসেন নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী বলেন, বৃষ্টির পর রাস্তায় মোটরসাইকেল চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। এ যেন এক মরণ ফাঁদ। পাকা রাস্তায় পড়ে থাকা মাটি বৃষ্টির পানিতে কাদায় পরিণত হয়ে তা পিচ্ছিল হয়ে গেছে। একটু অসাবধান হলেই যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

আরেক মোটরসাইকেল আরোহী বুলবুল আহম্মেদ বলেন, শেরুয়া টু পার্ক রোড ও ফুলতলার আঞ্চলিক সড়কের বেহাল দশা। এই পাকা রাস্তার উপর মাটির স্তর পড়ে গেছে। বৃষ্টিবিহীন সময়ে ধুলাবালিতে মোটরসাইকেল চালানো দুষ্কর হয়ে গেছে। তারপর আজকের বৃষ্টিতে সড়ক এখন মরণ ফাঁদ হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য সরকারের সিদ্ধান্ত এবং প্রচলিত আইন মেনে পুকুর খনন, পুকুর সংস্কার ও ভাটায় মাটি সংগ্রহ পরিচালনা করা উচিত। ভাটায় সরবরাহকৃত মাটি রাস্তায় পড়ে রাস্তার যেমন ক্ষতি হচ্ছে তেমনি সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তা পিচ্ছিল হওয়ায় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে।

শেরুয়া বটতলার ব্যবসায়ী মোকাল্লেম হোসেন জানান, মাটি বহনে ব্যবহৃত ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনকে প্লাস্টিক বা ট্রিপল দিয়ে সুন্দরভাবে ঢেকে মাটি বহন রাস্তার এ ধরনের ক্ষতি হত না।  একদিকে তারা বেপরোয়া অন্যদিকে নেই কোন নিয়ম কানুন।

শেরপুর ‍উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজিয়া সুলতানা বলেন, বিভিন্ন রাস্তায় মাটি বহনকারী যানবাহনের কারণে বৃষ্টিতে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।