Joy Jugantor | online newspaper

এ বছরেই পুনঃনির্মাণ হবে বগুড়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:০২, ২০ মার্চ ২০২৩

আপডেট: ০২:০৬, ২০ মার্চ ২০২৩

এ বছরেই পুনঃনির্মাণ হবে বগুড়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

রোববার দুপুরে বগুড়া সার্কিট হাউজে

চলতি বছরের জুলাইয়ে বগুড়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পুনঃনির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। জেলার সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যক্তিদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রোববার দুপুরে বগুড়া সার্কিট হাউজে এ কথা জানান তিনি।

এ দিন বগুড়ার সাংস্কৃতিক ব্যক্তি ও গণমাধমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রতিমন্ত্রী খালিদ। মতবিনিময়ে জেলার সংস্কৃতি ও প্রত্নত্বত্ত্ববিষয়ক বিভিন্ন আলোচনা হয়।

আলোচনা শেষে প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এই অর্থবছরেই শহীদ মিনারটি নতুন করে নির্মাণের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, শহীদ মিনার নিয়ে আপনাদের অনেক দিনের দাবি-দাওয়া ছিল। আগামি জুন বা জুলাই মাসে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। 

এ সময় প্রতিমন্ত্রী জানান, এটা করতে হয়তো ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন। সেই বরাদ্দের ব্যবস্থাও তিনি করে দেয়ার আশ্বাস দেন।

মতবিনিময় সভায় জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা তাদের চাহিদা, দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলেন। এগুলোর মধ্যে বগুড়ায় মঞ্চনাটক করার জন্য আধুনিক মিলনায়তন গড়ে তোলার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। 

এ ছাড়া সার্কের রাজধানী খ্যাত বগুড়ার মহাস্থানগড়ের পরিস্থিতি নিয়ে কথা উঠে। প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ মহাস্থানগড়ের ভিতরকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রমের খোঁজখবর করেন। 

সভায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছিলেন বগুড়ার নান্দনিক নাট্যদলের সাধারণ সম্পাদক খলীলুর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেন, গত বছর প্রতিমন্ত্রী বগুড়ায় এসেছিলেন। ওই সময় সকালে শহীদ মিনার দেখতে যান। যে শহীদ মিনারটি তিনি দেখেছেন, তাকে শহীদ মিনার বলা যায় না। এটা কোনো কিছু অর্থ বহন করে না। প্রতিমন্ত্রী সংস্কৃতির মানুষ, তিনি অবশ্যই ভালো জানবেন।

মূলত বগুড়ায় দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিকসহ সাধারণ মানুষ বর্তমান শহীদ মিনারটির পরিবর্তন চান। এসব নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭৮ সালে বগুড়ার কারুশিল্পী প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল করিম দুলালের নকশায় শহীদ খোকন পার্কের উত্তর-পূর্ব কোণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়। মিনারের উপরিভাগে পশ্চিম পাশে ‘ক খ’ ও দক্ষিণ পাশে ‘অ আ’ অক্ষর খোদাই করা ছিল। এছাড়া মিনারের পেছনে সুন্দর অর্থবহ ভাস্কর্য স্থাপন করা ছিল।

কিন্তু চার দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৫ সালে পৌর কর্তৃপক্ষ মিনারটি ভেঙে ফেলে। সেখানে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ব এ ন প ঢ’ অক্ষর সজ্জিত অদ্ভুত আকৃতির একটি মিনার প্রতিষ্ঠা করা হয়। যার অক্ষর বিন্যাস দেখে অনেকে মিনারটিকে ‘বিএনপির ঢং’ বলে অবিহিত করে থাকেন।