Joy Jugantor | online newspaper

বগুড়ার শেরপুরে গলদা-কার্প মাছের মিশ্র চাষে নতুন সম্ভাবনা

আব্দুল ওয়াদুদ, শেরপুর (বগুড়া)

প্রকাশিত: ২১:১৪, ৫ ডিসেম্বর ২০২২

আপডেট: ২১:১৬, ৫ ডিসেম্বর ২০২২

বগুড়ার শেরপুরে গলদা-কার্প মাছের মিশ্র চাষে নতুন সম্ভাবনা

বগুড়ার শেরপুরে কার্প জাতের মাছের সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে গলদা চিংড়ি চাষ শুরু হয়েছে।

বগুড়ার শেরপুরে কার্প জাতের মাছের সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে গলদা চিংড়ি চাষ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে এই জাতের চিংড়িতে সফলতা পেয়েছেন তারা। এতে করে উপজেলায় মৎসচাষে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

মৎসচাষীদের উৎসাহ বৃদ্ধিতে গলদা চিংড়ি চাষের প্রদর্শনী দিয়েও সহায়তা দিচ্ছে শেরপুর উপজেলা মৎস দপ্তর।

মৎসচাষীরা জানান, চলতি বছরের জুন-জুলাই মাসে বরিশাল থেকে গলদা চিংড়ির লার্ভি  পোনা) নিয়ে আসা হয়। এই চিংড়ি লার্ভি নিজেদের পুকুরের কার্প মাছের সঙ্গে মিশ্র পদ্ধতিতে চাষ শুরু করেন খামারীরা। পাঁচ মাসের মধ্যে চিংড়ি চাষে প্রাথমিকভাবে লাভের দেখাও পেয়েছেন কয়েকজন।

এমনি এক মৎসচাষী মির্জাপুর ইউনিয়নের উচড়ং গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক। তিনি জানান, শেরপুর উপজেলার সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা দপ্তরের অনুপ্রেরণায় আমি ৫০ শতাংশ পুকুর গলদা-কার্প মিশ্র চাষ করি। এতে খরচ হয়েছে ১ লাখ টাকা। এই মাছ বিক্রয়ের উপযুক্ত করতে সাড়ে ৪ থেকে ৫ মাস সময় লাগে।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এরই মধ্যে পুকুর থেকে ৪ লাখ টাকার মাছ বিক্রয় করেছি। আরও দেড় লাখ টাকা আয় হবে।

শুভগাছা গ্রামের মৎস চাষি ইনছানুর রহমান রাজশাহী বিভাগের মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের গলদা চিংড়ি চাষের প্রদর্শনী পেয়েছেন। এছাড়াও তিনি নিজেও ১ লাখ টাকা খরচ করেছেন।

তিনি বলেন, এই প্রদর্শীতে ৫ মাসে আমার প্রায় ৫ লক্ষ টাকা আয় হবে বলে আশা করছি। তবে গলদা চিংড়ি চাষে রেডিমেট ফিড খাবার দিয়েছি।

মৎস্য চাষী সোহেল রানা, রাকিবুল ইসলাম জানান, আমরা বরিশাল ব্যাক হ্যাচারি হতে পোষ্ট লার্ভি এনেছি। উপজেলা মৎস্য বিভাগের সহযোগিতায় ভালো চাষ হয়েছে। ৫ হাজার পোনা ছাড়া হয়েছে এতে প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ করেছি। আশা করছি অন্তত ৬০০ কেজি চিংড়ি পাওয়া যেতে পারে। প্রতি কেজিতে ৩০টি করে চিংড়ি ধরছে। প্রতি কেজি হাজার থেকে ১১শ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। চিংড়ি চাষে আমাদের গড়ে প্রায় ১ লক্ষ টাকা করে আয় হবে।

চাষীরা আরোও জানান, প্রতিদিন সকাল ১০টা ও সন্ধ্যা ৭টায় চিংড়ির ফিড এচাড়াও বিকাল ৪টার সময় ভাসমান ফিড দিতেন। মাছের ওজন অনুযায়ী খাবার দিতে হয়। প্রতি ১০০ কেজি মাছের ওজনে দিনে ৩ থেকে ৪ কেজি ফিড দিতে হয়। এছাড়া অক্সিজেনের স্বল্পতা দেখা দিলে অ্যারেটর ব্যবহার করে অক্সিজেনের জোগান দিতে হয়। গলদা চিংড়িতে তেমন কোনও রোগবালাই দেখা যায়নি।

তবে মাছের বাজারজাতকরণ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত চাষী। তারা  বলেন, স্থানীয়ভাবে গলদা চিংড়ির বাজার সেভাবে গড়ে ওঠেনি। তাই তাদের উৎপাদিত গলদা চিংড়ি বিক্রির জন্য শেরপুর উপজেলাসহ আশেপাশের উপজেলার আড়ৎ গুলোতে বিক্রয় করেন। এবং মাছ ব্যবসায়ীর সঙ্গেও যোগাযোগ হয়েছে।

শেরপুর উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মাসুদ রানা সরকার জানান, ৫ জন চাষী ২৫ হাজার পিএল (পোষ্ট লার্ভি) বরিশাল ব্রাক হ্যাচারি থেকে এনেছে। পানি ও আবহাওয়ায় গলদা চাষের উপযোগী হওয়ায় এই উপজেলায় সাফল্য মিলেছে। সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সামনে আরো চাষিকে প্রশিক্ষন দেওয়া হবে। চিংড়ি চাষে যদিও কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। তারপর সাবধান হয় তাহলে ভালো কিছু আশা করা যায়। সব মিলিয়ে গলদা-কার্প মিশ্র চাষে সাফল্য পেয়েছে মৎস্য চাষিরা।