Joy Jugantor | online newspaper

বগুড়ায় রেলওয়ের স্টেশন মাস্টারকে হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮:০৩, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

আপডেট: ২২:২২, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

বগুড়ায় রেলওয়ের স্টেশন মাস্টারকে হুমকি

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনের পুলিশ ফাঁড়ি।

বগুড়ায় রেলওয়ের মার্কেটের ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারের দ্বন্দ্বের জেরে এক স্টেশন মাস্টারকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে স্টেশনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে নিরাপত্তা শঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া রেলস্টেশনে ডিউটি মাস্টারের রুমে কয়েকজন যুবক এসে হুমকি দেন। বিষয়টি নিয়ে রেল পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ করেছে স্টেশন কর্তৃপক্ষ।

হুমকির বিষয়টি জানিয়েছেন স্টেশন মাস্টার আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, বেলা ১২ টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে চার জন যুবক আসে আমার অফিসে। এদের বয়স ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। আমি তখন ট্রেনের নোট করছিলাম। 

আব্দুল মান্নান বলেন, এসেই গালিগালাজ করে। রায়হান কোথায় জানতে চায়। অফিসে নাই শুনেই ওরা বলে রায়হান ও তার বাবা যেন স্টেশনে না আসে। আর সাজুও (স্টেশন মাস্টার) যেন স্টেশনে পা না রাখে। রাখলে সমস্যা আছে। এ কথা বলে ওরা টেবিলে জোরে বারি মেরে চলে যায়। 

রায়হান আলী বগুড়া স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী। তার বাবা হায়দার আলী রেলওয়ে কল্যাণ ট্রাস্টের মার্কেটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি।

তার সঙ্গে যোগাযোগ হলে জানান, এ ঘটনায় সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। 

রায়হান আলী বলেন, ‘ওরা স্টেশন থেকে বের হয়ে আমার বাসাতেও এসেছিল। আজ হুমকি দিয়েছে। কাল আঘাত করবে না তার কী গ্যারান্টি আছে। আমি বগুড়া স্টেশনে চাকরি করি। আর সেখানে বলে আমি যেতে পারবো না।’ 

স্টেশনে কর্মরতদের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা এসে হুমকি দিলেও ওই সময় রিল নিরাপত্তা কর্মীরা স্টেশন মাস্টারের কক্ষে বা পাশে ছিলেন না। স্টেশনের স্টাফ ছাড়াও অফিসে একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যেও দুর্বৃত্তরা এসে হুমকি দিয়ে গেছে। যেকোনো মুহুর্তে শারিরীকভাবেও ক্ষতি করতে পারে। এ জন্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।  


মো. মারুফ নামে রেল নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য জানান, ১২ টার দিকে দোলনচাঁপা প্রবেশ করে স্টেশনে। এ সময়টায় সবাই ট্রেনেরট টিকিট চেকসহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পরে যখন ঘটনা শোনার পর গিয়ে দেখেন ডিউটি অন রুমে কেউ নেই। 

কারা এসে হুমকি দিয়েছে সে সম্পর্কে স্টেশনের কারও ধারণা নেই। তবে বগুড়া রেল স্টেশন সূত্র জানায়,  সম্প্রতি রেলের জায়গায় একটি মার্কেট নির্মাণ নিয়ে ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। 

ওই মার্কেটের নকশা না মেনে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ করায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর সেগুলো ভেঙ্গে দেয় রেল কর্তৃপক্ষ। এসব বিষয় নিয়ে ঠিকাদার আব্দুল মান্নানের সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতা রায়হান ও তার বাবা হায়দার আলীসহ একাধিক দোকান মালিকদের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। 

এ ঘটনায় আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে চুরি, হত্যাচেষ্টার মামলা দেন ব্যবসায়ী হায়দার আলী। সেই মামলায় গত বুধবার থেকে আব্দুল মান্নান কারাগারে রয়েছেন। কারাগারের যাওয়ার পরের দিন বৃহস্পতিবার রাতে আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে আরও একটি মামলা হয়।

বগুড়া রেল সুপার সাজেদুর রহমান সাজু বলেন, আজ সকালে গাবতলী স্টেশনে দায়িত্ব পালন করছিলাম। খবর পেয়ে দুপুর দেড়টার দিকে আসি। সরকারি দপ্তরের এসে হুমকি দেয়া রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘন করা বলে জানান সাজেদুর।  

রেল সুপার আরও বলেন, ঘটনাটি আমাদের কন্ট্রোল রুমে I রাজশাহী বিভাগীয় অফিসেও জানানো হয়েছে।  এ ছাড়া রেল পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছি।

অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বগুড়া রেল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের সান্তাহার রেল পুলিশ থানা বরাবর একটি অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এতে তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ওখান থেকে নির্দেশনার এলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।