Joy Jugantor | online newspaper

নওগাঁয় হাসপাতালে রশিদ ছাড়াই ইসিজির টাকা আদায়ের অভিযোগ

নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:২৫, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২

নওগাঁয় হাসপাতালে রশিদ ছাড়াই ইসিজির টাকা আদায়ের অভিযোগ

নওগাঁর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল

নওগাঁয় ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ইসিজি ও ডায়াবেটিস পরীক্ষায় রশিদ বহির্ভূত টাকা আদায় করায় আউটসোর্সিং-এ কর্মরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন এক সেবা প্রত্যাশী। মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় রশিদ বহির্ভূত টাকা আদায়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তত্ত্বাবধায়ক বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়। অভিযোগকারী এনামুল হক লিটন শহরের চকপ্রাণ মহল্লার বাসীন্দা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১৮ জুলাই) রাত ৮টার দিকে এনামুল হক লিটন তার অসুস্থ্য মা লিলিফা বেগমকে  হাসপাতালের নিয়ে যান। ওই মুহুর্তে জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ নাজিয়া তাসনিম রোগীকে দেখার পর টিকিটে ইসিজি ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করতে বলা হয়। তাৎক্ষণিক জরুরী বিভাগের সামনে থাকা ইসিজি কক্ষটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। প্রায় ২০ মিনিট অপেক্ষার পর ইতি নামে এক আউটসোর্সিং কর্মচারী এসে তালা খুলে কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপর ইতি নিজেই ইসিজি ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করে নগদ ১৭০ টাকা গ্রহন করেন। টাকার রশিদ চাওয়া হলে পরে রিয়াজুল নামে আরেকজনের কাছ থেকে নিতে বলা হয়। 

এদিকে হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় মা লিলিফা বেগমকে ভর্তির কিছুপর নিচ তলায় আবারো রশিদ চাইতে আসেন লিটন। সেখানে দায়িত্বরত রিয়াজুল রশিদ দিতে অস্বীকৃতি জানান।

ভুক্তভোগী সেবা প্রত্যাশী এনামুল হক লিটন বলেন, ডাক্তারের নির্দেশনায়  জরুরী বিভাগে মায়ের ইসিজি ও ডায়াবেটিস পরীক্ষার পর বিল হিসেবে নগদ ১৭০ টাকা দেওয়া হয়। ইতি নামে ওই মহিলার কাছে রশিদ চাওয়াা হলে রিয়াজুলের কাছ থেকে নিতে বলা হয়। কিন্তু  রিয়াজুল রশিদ দিতে অস্বীকৃতি এবং তত্ত্বাবধায়ক (সুপার) এর জবাব দিবে বলে জানানো হয়।

তাৎক্ষণিক বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত আরএমও ডা. আনছার আলীকে জানানোর জন্য কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে মনে হয়েছে আমরা প্রতারিত হচ্ছি এবং সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান তিনি।

অভিযুক্ত আউটসোর্সিং কর্মচারী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ইসিজি পরীক্ষার রশিদ আমার কাছে থাকে। ওই মুহুর্তে আমি বাহিরে থাকায় একজন রোগীর ইসিজি করার পর রশিদ দিতে পারেনি। তবে পরে তাকে এসে রশিদ সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক স্যারের বিষয়ে কিছু বলা হয়।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত আরএমও) ডাঃ আবু আনছার আলী বলেন, নির্ধারিত ফি দিয়েই সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। ইসিজি ও ডায়াবেটিস পরীক্ষায় রশিদ বহির্ভূতভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগটি আমার জানা নেই। এবিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক স্যারকে কেউ অভিযোগ করে থাকলে তিনি অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

বিষয়টি জানতে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরীর কাছে একাধিকবার  মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।