Joy Jugantor | online newspaper

বগুড়ায় মহাসড়কের দুই ধার যেন ময়লার ভাগাড়!

মাসুম হোসেন

প্রকাশিত: ১২:৫৩, ১৩ আগস্ট ২০২২

বগুড়ায় মহাসড়কের দুই ধার যেন ময়লার ভাগাড়!

মহাসড়কের দুই ধার যেন ময়লার ভাগাড়!

ময়লা-আবর্জনার  ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে বগুড়ার বনানী এলাকায় মহাসড়কের দুই ধার। বছরের পর বছর ধরে সেখানে ফেলা হচ্ছে বর্জ্য। পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রতিদিন বর্জ্য সংগ্রহ করে ট্রাক ও ভ্যানগাড়িতে করে সেখানে ফেলছেন। খোলা ভাগাড় থেকে দুর্গন্ধ বের হয়ে হচ্ছে পরিবেশ দূষণ। ছড়িয়ে পড়ছে জীবাণু।

বনানী পর্যটন মোটেলের পাশে বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের দুই ধারে পৌরসভা এলাকার বাসা-বাড়ির ময়লা-আবর্জনা, বিভিন্ন ক্লিনিকের বর্জ্যসহ মৃত প্রাণী ফেলা হয়। তাও দীর্ঘ বছর ধরে। ফলে দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে ময়লার সারি।

ময়লার স্তূপের পাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা গণ্ডগ্রাম। ওই এলাকার বাসিন্দারা মহাসড়কের পাশ দিয়ে যাতায়াতের সময় দুর্গন্ধের কবলে পড়েন। এছাড়াও দুর্গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে অনেক দূর পর্যন্ত চলে যায়।

পৌরসভা কৃতপক্ষ জানায়, ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য বগুড়া পৌরসভার নিজস্ব কোনো জায়গা নেই। বর্তমানে বাঘোপাড়া এলাকায় ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘের (টিএমএসএস) জায়গায় বর্জ্য ফেলা হয়। ওই স্থানই বর্তমানে পৌরসভার বর্জ্য ফেলে দেওয়ার নির্ধারিত স্থান। এরপরেও পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বনানী এলাকায় এসে আবর্জনা ফেলছেন। কারণ ওই জায়গার মালিকরা তাদের অনুমতি দিয়েছেন।

গণ্ডগ্রাম এলাকার বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ বছর ধরে পৌরসভা কতৃপক্ষ বনানী এলাকায় মহাসড়কের দুই ধারে ময়লা-আবর্জনা ফেলছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অনেকবার নিষেধও করা হয়েছে। তবুও তারা ভ্যানগাড়িতে করে অথবা ট্রাক বোঝাই আবর্জনা নিয়ে এসে সেখানে ফেলেন। বিভিন্ন ক্লিনিকের ও বাড়িঘরের বর্জ্য ফেলা হয় ওখানে। সেখানে থেকে দুর্গন্ধ তাদের এলাকায় প্রবেশ করে।

তারা আরও জানান, ময়লা-আবর্জনা ফালানোর জন্য নির্ধারিত স্থান আছে বাঘোপাড়া এলাকায়। এরপরেও বনানী এলাকায় এসে বর্জ্য ফেলে দেওয়া হয়। কারণ বাঘোপাড়া এলাকা বনানী থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। ফলে বনানীর আশেপাশের এলাকার ময়লা-আবর্জনা সেখানেই ফেলছে পৌরসভা কতৃপক্ষ।

গণ্ডগ্রাম এলাকার বাসিন্দা তোহান মাহমুদ বলেন, প্রতিদিন সকাল অথবা রাতে বনানী এলাকায় ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়। বাতাসে ময়লার দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে আশেপাশের এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। 

তিনি আরও জানান, ময়লার স্তূপে মৃত শেয়াল, কুকুর ও বিড়ালসহ অন্যান্য প্রাণীও ফেলা হয়। এছাড়াও রয়েছে পলিথিন, প্লাস্টিকবর্জ্যসহ হাসপাতালের বর্জ্য। ভ্যানগাড়ি ও ট্রাকে করে সেখানে ময়লা ফেলা হয়।

বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রভাষক আবু সাঈদ জানান, খোলা ময়লার স্তূপ থেকে বাতাসে রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। মৃত জীবদেহের পচনের ফলে অনেক ধরণের দূর্গন্ধ যুক্ত গ্যাস যেমন মিথেন, হাইড্রোজেন সালফাইড ইত্যাদি বাতাসের সাথে মিশ্রিত হয়ে বায়ু দূষণ ঘটায়। বায়ু দূষণের ফলে মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হন। 

বগুড়া পৌরসভার মেয়র মো. রেজাউল করিম বাদশা বলেন, ‘ জায়গার মালিকদের অনুমতি নিয়েই বনানী এলাকায় ময়লা-আবর্জনা  ফেলা হয়।’