Joy Jugantor | online newspaper

নওগাঁয় তেল কম দেওয়ার অভিযোগ, পাম্পের কর্মচারীকে মারধর

নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮:১২, ৭ আগস্ট ২০২২

নওগাঁয় তেল কম দেওয়ার অভিযোগ, পাম্পের কর্মচারীকে মারধর

রোববার বিকেলে সাড়ে ৩টায় পেট্রোল পাম্পের কর্মচারী শারীরিক প্রতিবন্ধী পারভেজকে মারধর করা হয়।

নওগাঁ শহরের চকবিরাম এলাকায় মেসার্স সুমন ফিলিং স্টেশনে তেল কম দেওয়ায় এক কর্মচারীকে মারধর করা হয়েছে। এছাড়াও পাম্পে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সাজ্জাদ হোসেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। রোববার বিকেলে সাড়ে ৩টায় পেট্রোল পাম্পের কর্মচারী মিটার ম্যান শারীরিক প্রতিবন্ধী পারভেজকে মারধর করা হয়। ঘটনার পর পাম্পের মালিক এবিএম মার্শাল টিটো তার ব্যবসা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।

জানা গেছে, শহরের নওগাঁ-রাজশাহী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত মেসার্স সুমন ফিলিং স্টেশন। পাম্পে চার ধরণের জ্বালানি রয়েছে। যেখানে এলপিজি গ্যাসের ধারণক্ষমতা ২০ হাজার লিটার, প্রেটোল ৯ হাজার ৮০০ লিটার, অকটেন ১০ হাজার লিটার এবং ডিজেল ৩১ হাজার লিটার।

গত ৫ আগষ্ট (শুক্রবার) রাতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তেলের পাম্পে তেল নিতে ভীড় করে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। এসময় তেল নিতে অনেকে বোতল ও ঢোক (কন্টিনার) নিয়ে আসে। কিন্তু তাদেরকে তেল দেওয়া হয়নি। সেদিন প্রচুর ভীড় থাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে থানা পুলিশও পাম্পে উপস্থিত ছিল। এদিন রাত ১২ টা পর্যন্ত পূর্বের দামে কেনা তেল বিক্রি করা হয়।

রেবাবার বিকেল সাড়ে ৩টায় অভিযুক্ত সাজ্জাদ হোসেনের এক আত্মীয় পাম্পে মোটরসাইকেল নিয়ে তেল নিতে যান। ১০০ টাকার অকটেন নেওয়ার সময় ওই ব্যক্তি তেল কম দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে মিটার ম্যান শারীরিক প্রতিবন্ধী পারভেজকে মারধর করে। পরে মোবাইল ফোনে সাজ্জাদ হোসেন সহ কয়েকজনকে ডেকে নিয়ে লাঠিসোটা সহ পাম্প ঘেরাও করে হামলা চালানোর চেষ্টা করে। এসময় পাম্প মালিক থানা পুলিশে ফোন দিলে তারা সরে যায়।

পাম্পের মিটার ম্যান শারিরীক প্রতিবন্ধী পারভেজ বলেন, মোটরসাইকেল নিয়ে ১০০ টাকার অকটেন নিতে আসে এক ব্যক্তি। তেল দেয়া শুরু করা হলে ৫৪ টাকার তেল যাওয়ার পর ওই ব্যক্তি তেল নিবে না বলে মিটার ধরে রাখে। এক পর্যায়ে আমাকে মারধরে। সে কাকে যেন ফোন দিয়ে লোকজন নিয়ে এসে হামলার উপক্রম হয়। 

মেসার্স সুমন ফিলিং স্টেশনের মালিক এবিএম মার্শাল টিটো বলেন, তেলের দাম বাড়ার সংবাদ পেয়ে শুক্রবার রাতে সাজ্জাদের কয়েকজন লোক বোতল ও ঢোক (কন্টিনার) নিয়ে আসে। নিরাপত্তার কথা ভেবে তাদের তেল দেওয়া হয়নি। এরপর থেকে তারা ক্ষিপ্ত। আজ (রোববার) সাজাদ্দের লোক তেল নিতে আসে। এক পর্যায়ে আমার এক কর্মচারীকে মারধর করে। পরে তার লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে এসে পাম্প ঘেরাও করে ও হামলার চেষ্টা করে। পরে থানায় ফোন করা হলে পুলিশ আসে।

তিনি বলেন, আমার পাম্প পছন্দ না হলে আসার দরকার নাই। কেন তারা এসে বার বার ঝামেলা করে। আবার পাম্পে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেয়া হয়। সাজ্জাদ এর আগে পাম্পের কয়েকজন ছেলেকে মারপিট করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এখন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে শঙ্কার মধ্যে রয়েছি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মেয়ের জামাই শাকিল ওই পাম্পে তেল কিনতে যায়। ১০০ টাকার তেল নেওয়ার জন্য টাকাও দেয়া হয়। কোন তেলই মোটরসাইকেলের ট্যাংকে ঢুকেনি। কিন্ত মিটারে পয়েন্ট উঠতে দেখা যায়। যাহোক পরে তারা তাদের ভুল স্বীকার করায় ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। তবে সেখানে কোনো ধরণের মারধরের বা হামলার ঘটনা ঘটেনি। এর আগেও ওই পাম্পের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ছিল।

নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, পাম্পের মালিক ফোন দেওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে এ ব্যাপারে থানায় এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।