Joy Jugantor | online newspaper

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

ডেস্ক রির্পোট

প্রকাশিত: ০৯:৫৬, ৭ আগস্ট ২০২২

আপডেট: ১৭:২০, ৮ আগস্ট ২০২২

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

সংগৃহীত ছবি

নওগাঁর রানীনগর উপজেলার খাস পারইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুর খানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। 

স্লিপের বরাদ্দের টাকায় অনিয়ম ও দুর্নীতি, জোরপূর্বক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদে থাকা ও দায়িত্বে অবহেলায় স্কুলের প্রায় ৬০ শিক্ষার্থী উপবৃত্তি না পাওয়াসহ ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার খাস পারইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে স্লিপ ফান্ড থেকে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেই বরাদ্দ অনুযায়ী বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজ করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। স্লিপের বরাদ্দের ৫০ হাজার টাকার মধ্যে হোটেলে খাওয়া ও যাতায়াত বাবদ ৩০ হাজার টাকা ও বাঁকি টাকা বিদ্যুৎ বিলে খরচ দেখিয়েছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুর খান। 

এমনকি বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ বিলের খরচ সরকারিভাবে মেটানো হলেও তিনি স্লিপ ফান্ড থেকে খরচ দেখিয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের রুটিন মেইনটেন্স বাবদ্দের টাকার সঠিকভাবে খরচ না করে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের রেজুলেশন বহি কাটাছেঁড়া ও ঘোষামাজা করে হিসাব মিলিয়ে দেয়। এর পর আবার ২০২১-২২ অর্থবছরের রুটিন মেইনটেন্স বরাদ্দের ৪০ হাজার টাকার কোনো হিসাব দেননি তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি দীর্ঘদিন যাবত শূন্য রয়েছে। এমতাবস্থায় সহকারী শিক্ষক জাকারিয়া আলম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি অসুস্থতার জন্য আব্দুল গফুর খানকে সাময়িক দায়িত্ব প্রদান করা হয়। বর্তমানে অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে জাকারিয়া আলমকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার অর্পণ করা হলেও তাকে দায়িত্বভার অর্পণ না করে জোরপূর্বক আব্দুল গফুর খান পদ দখল করে আছেন। 

এ ছাড়া বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী ১৪৩ জনের মধ্যে মাত্র ৭৭ জন শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির চাহিদাপত্র পাঠান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। বাকি ৬৬ শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির চাহিদাপত্র প্রেরণ না করায় তারা উপবৃত্তি পায়নি। ফলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অবহেলায় স্কুলের প্রায় ৬৬ শিক্ষার্থী সরকারি সুযোগ-সুবিধা হতে বঞ্চিত হয়েছেন।

উপজেলার খাস পারইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আনছার আলী জানান, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে আব্দুল গফুর খান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তাকে বার বার হুশিয়ার করেও তিনি ওইপথ থেকে সড়ে আসছিলেন না। 

এমনকি তার কারণে বর্তমানে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এসবের প্রতিকার চেয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এসব ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

জানতে চাইলে তার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুর খান বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

এ ব্যাপারে রানীনগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সূত্র: দৈনিক যুগান্তর