Joy Jugantor | online newspaper

বগুড়ায় জমির বিরোধে হত্যার দায়ে ৯ জনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:০৮, ৩ আগস্ট ২০২২

বগুড়ায় জমির বিরোধে হত্যার দায়ে ৯ জনের যাবজ্জীবন

বগুড়া অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

বগুড়ায় জমির বিরোধের জেরে হত্যার ঘটনায় ৯ আসামীকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছে আদালত। দণ্ডিতদের মধ্যে দুজন পলাতক রয়েছেন। এ ছাড়া মামলায় আরও ছয়জনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।

বুধবার সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হাবিবা মণ্ডল এই রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে ২০০৮ সালের ২০ জুন বিকেলে বগুড়া সদরের চালিতাবাড়ীর নাগরকান্দি গ্রামের আব্দুল জোব্বারকে ছুরিকাঘাত ও পিটিয়ে হত্যা করে আসামীরা। পরে ওই দিন নিহতের ছোট ভাই সাজু মিয়া বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। 

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মানিক মিয়া ও তার বাবা ইসমাইল ওরফে ইন্নুস, আব্দুল গফুর, জাকের মিয়া, আব্দুল খালেক, আব্দুল গনি, সুলতান মোল্লা, ইন্তাজ আলী। এদের সবার বাড়ি সদরের চালিতাবাড়ী গ্রামের নাগরকান্দি পাড়ায়। 

এদের মধ্যে মানিক মিয়া ও আব্দুল গফুর পলাতক রয়েছেন।

মামলায়  যারা খালাস পেয়েছেন তারা হলেন মো. আরিফ, মো. ইউসুফ, ইসমাইলের স্ত্রী মোছা. আলেতন নেছা, মোছা. রেহেনা, মো. সিরাজ উদ্দিন ও মো. সুলতান উদ্দিন। এদের বাড়িও নাগরকান্দি এলাকায়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নাসিমুল করিম হলি এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

আদালত সূত্র জানায়, আব্দুল জোব্বারের সঙ্গে আসামীদের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। ২০০৮ সালের ২০ জুনের বিকেলে সম্পত্তির সমস্যা নিয়ে সরেজমিনে সার্ভেয়ারের তদন্ত করার কথা ছিল।

সার্ভেয়ারের কাজ চলাকালে দণ্ডিত আসামীরা হামলা করে। তারা সুলতান মোল্লার নির্দেশে আব্দুল জোব্বারের বুকে ছুরিকাঘাত করেন। এতে তিনি পড়ে গেলে লাঠি, রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন আসামীরা। পরে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই সাজু বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ১৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। সেই মামলায় দীর্ঘ বিচার-শুনানির পর আজ বুধবার রায় দেয়া হয়। 

বিচারে ৯ জনকে যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা করেন বিচারক হাবিবা মণ্ডল। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাদের আরও ৬ মাস সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক।

এ ছাড়া মামলায় অভিযুক্ত আরও ছয়জনের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমানিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দেয় আদালত। আর রোকেয়া নামে এক অভিযুক্ত মারা যাওয়ায় মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

আইনজীবী নাসিমুল করিম বলেন, রায় ঘোষণার সময় সাত আসামী উপস্থিত ছিলেন। আর দুজন পলাতক রয়েছেন।