Joy Jugantor | online newspaper

বগুড়ায় দুম্বা পালনে নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা

মামুনুর রশিদ মামুন

প্রকাশিত: ২০:৪০, ৫ জুলাই ২০২২

আপডেট: ২০:৪৪, ৫ জুলাই ২০২২

বগুড়ায় দুম্বা পালনে নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা

কৃত্রিম মরুভূমি তৈরি করে বগুড়ার শাজাহানপুরে টিএমএসএস বহুমুখী কৃষি খামারে পালন করা হচ্ছে মরুভূমির প্রাণী দুম্বা। ছবি-মামুনুর রশিদ মামুন

আরবের মরু ধূসর ভূমির প্রাণী দুম্বা। আরবের অন্য দেশসহ মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার শুষ্ক পাথুরে এলাকায় ছাগল জাতীয় প্রাণী দুম্বা পালন করা হয়। তবে বাংলাদেশেও আওহাওয়া দুম্বা পালনের অনুকূল হওয়ায় দেখা দিয়েছে নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা।

বাংলাদেশের আবহাওয়ায় বেশ মানিয়ে নিতে পারছে এ প্রাণী। দেশের বিভিন্ন জেলার মতই বর্তমানে বগুড়াতেও শুরু হয়েছে দুম্বা লালন-পালন। সবুজ-শ্যামলিমায় ঘেরা বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার সাজাপুর পদ্মপুকুর এলাকায় ছোট আকারের কৃত্রিম মরুভূমি তৈরি করে দুম্বা লালন-পালন করছে টিএমএসএস বহুমুখী কৃষি খামার। 

জানা যায়, ২০১৯ সালে এ খামারে ১০টি দুম্বা নিয়ে শুরু করলেও সময়ের পরিক্রমায় এখন হয়েছে ২১টি দুম্বা। দুই জাত মিলিয়ে খামারে ছোট-বড় মোট দুম্বা ২১টি দুম্বা রয়েছে। 

মনোরম পরিবেশে এ খামারে পারশিয়ান জাতের ১টি ও আওয়াশী জাতের ২০টি দুম্বা পালন করা হচ্ছে। লিফ্ট প্রোজেক্টের সহযোগিতায় টিএমএসএস বহুমুখী কৃষি খামার আগামীতে দেখছেন নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। 

দুম্বা মরুর প্রাণী হলেও এটি একটি সহনশীল প্রাণী। দেখতে ভেড়ার মতো তবে পেছনের অংশ ভারী। ভেড়ার মতোই দ্রুত বংশ বৃদ্ধি করে। মাংস উৎপাদনে ছাগল-ভেড়ার চেয়ে বেশি কার্যকরী।

খামারে গিয়ে জানা গেছে, দুম্বা বছরে দু’টি করে বাচ্চা দেয়। তিন মাসে একটি বাচ্চার ওজন হয় ৩৫ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১ লাখ টাকা। একটি দুম্বার গোশত হয়ে থাকে দেড়শ’ থেকে দু’শ কেজি। এছাড়াও এটি পালনে খরচ খুবই কম। দুম্বা প্রতি দৈনিক ৪০ থেকে ৪৫ টাকার খাবারই যথেষ্ট। সময়মতো ভ্যাকসিন দিলে ঠিকমতো বেড়ে ওঠে। 

টিএমএসএস বহুমুখী কৃষি খামারের লিফ্ট প্রোজেক্টের লাইভস্টক অফিসার ডা. রেহেনা পারভিন জানান, এ খামারে দুম্বা প্রোজেক্টের উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদের ফিল্ড লেভেলে কিছু বেনিফেশারি সদস্য রয়েয়ে। দুম্বার বংশ বিস্তার করে এক জোড়া করে মেল-ফিমেল দুম্বা বেনিফেশারি সদস্যদের মাঝে বিতরণ করা হবে। এছাড়াও যে সকল দুম্বার বয়স হয়ে গেছে সেগুলো বাণিজ্যকভাবে ভবিষ্যতে কোরবানির ঈদে বিক্রি করা হবে।

ছবি-মামুনুর রশিদ মামুন

তিনি আরো বলেন, দুম্বা বছরে দু’টি করে বাচ্চা দেয়। তিন মাসের একটি বাচ্চার ওজন ৩৫/৪০ কেজি পর্যন্ত হয়। যার বর্তমান বাজার মূল্য ১ লাখ টাকা। একটি দুম্বার গোশত ১০০শ থেকে ১৫০শ কেজি হয়ে থাকে। আর প্রাপ্ত বয়স্ক দুম্বার মূল্য ১লাখ ৭০-৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

এছাড়াও দুম্বা পালনে খরচ খুব কম। দুম্বাকে দিনে চার বার খাবার দিলেও দুই বেলা ভারি দানাদার খাবার দিতে হয়। দুই বেলা কাঁচা ঘাস দিতে হয়। দানাদার খাবার ৪৫০ গ্রাম করে খায় এক একটি দুম্বা। দানাদার খাবার যেমন গমের ভূসি, ভুট্রা ভাঙ্গা, সোয়াবিন, খৈল, জিসিপি লবণ ইত্যাদি দুম্বার প্রিয় খাবার। 

এছাড়াও এ খামারে রয়েছে দেশীয় জাতের কোরবানির গরু ২১টি, পেকিং জাতের হাঁস রয়েছে ৩৭২টি যা প্রতিদিন গড়ে ডিম দেয় ১৮০-১৮৮টি, পাশাপাশি কালার বল মুরগি রয়েছে ১০৫টি। এ মুরগির স্বাদ দেশী মুরগির মতই। পাশাপাশি খামারের পাশে রয়েছে পুকুর। যেখানে দেশীয় জাতের মাছ চাষ করা হয়। 

খামারের পরামর্শক মহাতাব উদ্দিন বলেন, পিকেএসএফ এর সহযোগিতায় প্রোজেক্ট লিফ্ট এর মাধ্যমে এখানে ছোট আকারের কৃত্রিম মরুভূমি তৈরি করে লালন পালন করা হচ্ছে এসব দুম্বা। আমাদের দেশে প্রতি বছর গরু, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা এগুলো কোরবানি করে থাকে। তবে কোরবানির সময় ব্যাপক চাহিদা বাড়ে। অনেক বিত্তবান ব্যক্তি শখের বসে গরু কোরবানি না করে দুম্বা কোরবানি করে থাকেন। এতে করে দুম্বা খামারিরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন বলে তিনি আশা করেন । 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, টিএমএসএস বহুমুখী কৃষি খামারের এ ধরনের মহতি উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। দুম্বা পালনে সফলতা আসলে বগুড়ায় বেকারত্ব কমে যাবে। শুদু তাই নয় দুম্বা পালন বেকার জনগোষ্ঠীর অর্থনীতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। যা আগামীতে দুম্বা পালনে অনেকে আগ্রহী হবেন।