Joy Jugantor | online newspaper

বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট: শেরপুরে খেলোয়ার সংকট

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি 

প্রকাশিত: ১০:০৮, ১৮ মে ২০২২

আপডেট: ১০:০৯, ১৮ মে ২০২২

বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট: শেরপুরে খেলোয়ার সংকট

শেরপুরের মাঠে আয়োজন নেই খেলার।

শুক্রবার (২০ মে) থেকে বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় শুরু হচ্ছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট বালক (অনুর্ধ্ব-১৭)। একই সাথে শুরু হচ্ছে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট বালিকা (অনুর্ধ্ব-১৭)। 

তবে দীর্ঘ বছর ধরে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা খেলাধূলার আয়োজন না করায় খেলোয়ার সংকট রয়েছে বলে ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন। এরপরেও ফুটবল টুর্নামেন্ট ঘিরে উপজেলায় উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে ‘ক’ এবং ‘খ’ গ্রুপে খেলা অনুষ্ঠিত হবে। ‘ক’ গ্রুপে রয়েছে সুঘাট, খামারকান্দি, বিশালপুর, ভবানীপুর, কুসুম্বি ও মির্জাপুর ইউনিয়ন এবং ‘খ’ গ্রুপে রয়েছে শেরপুর পৌরসভা, শাহবন্দেগী, সীমাবাড়ী, খানপুর ও গাড়ীদহ ইউনিয়ন।

তবে উপজেলায় ক্রীড়া সংস্থার কমিটি থাকার পরেও এর আগে কোনো খেলাধূলার ব্যবস্থা না করায় ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে খেলোয়ার পাওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশও করেন। এমনকি দীর্ঘ সাত বছরের মধ্যে এই উপজেলায় বড় ধরণের কোনো ফুটবল আসর অনুষ্ঠিত হয়নি বলে স্থানীয়রা জানান। উপজেলার খেলার মাঠগুলো এখন হয়ে গেছে আড্ডার স্থান।

ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেন, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা নামে থাকলেও কার্যক্রমে নেই। উপজেলায় খেলাধূলার কোন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। ফলে একসময় যারা নিয়মিত খেলাধূলা করতেন তাদের অনেকেই হয়ে পড়ছেন নেশায় আসক্ত। তবে জাতীয় পর্যায়ে কোনো খেলার আয়োজন হলে শুধু তখনই বোঝা যায় যে উপজেলায় ক্রীড়া সংস্থার কমিটি আছে। এছাড়া ওই কমিটির কোনো হদিসই পাওয়া যায়না।

উপজেলার বাসিন্দা আশিক, ফিরোজ, ইব্রাহিমসহ অনেকেই জানান, উপজেলার ক্রীড়া সংস্থার কোনো খেলাধূলা বা প্রশিক্ষণের আয়োজন নেই। ফলে তারা সারা বছরই খেলাধূলা থেকে বঞ্চিত থাকেন।

বিকেএসপি থেকে প্রশিক্ষষপ্রাপ্ত ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের ‘সি’ লাইসেন্স প্রাপ্ত কোচ ইমরান হোসেন বলেন, ‘উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্দ্যোগে কোন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকলেও আমি নিজে ‘শেরপুর ইউনাইটেড ফুটবল একাডেমি’ নামে ক্লাব গঠন করেছি। আমার ক্লাবের কিছু খেলোয়ার দেশের বিভিন্ন ক্লাবে খেলছে।’

শেরপুর বন্ধন ক্লাবের সাবেক ফুটবলার নিতাই জানান, ‘একজন জাতীয় খেলোয়ার বা জাতীয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কোচ দিয়ে উপজেলার ক্রীড়া সংস্থার চালালে আবার প্রাণ ফিরে পাবে ফুটবল প্রেমীরা। উপজেলার খেলাধূলাকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের তাই করতে হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা চার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানান, গত ১৬ মে তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০ মে থেকে শুরু হবে। কিন্ত উপজেলার আয়োজনে কোনো ফুটবলের খেলাই হয়না। খেলোয়ার পাওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। এরপরেও নিম্নমানের খেলোয়ারকে টিমে নিয়ে খেলাতে হবে।

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ময়নুল ইসলাম জানান, প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে যারা খেলাধুলা করে তাদের নিয়েই এই খেলা অনুষ্ঠিত হবে।

Add