Joy Jugantor | online newspaper

সোনাতলায় মোবাইলের সিম বিক্রির টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বে সুমন খুন 

প্রকাশিত: ১৩:৪১, ১২ মে ২০২২

আপডেট: ১৬:১১, ১২ মে ২০২২

সোনাতলায় মোবাইলের সিম বিক্রির টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বে সুমন খুন 

গ্রেফতার পাপ্পু

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় মোবাইল ফোন সিমের পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে পারভেজ ইসলাম ওরফে সুমনকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের দুবছর পরে এক আসামীর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যা রহস্য খুলে যায়। 

সুমন হত্যার বিষয়ে গতকাল বুধবার বগুড়া চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালেত হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন মো. মারুফুল ইসলাম ওরফে পাপ্পু (২৮)। তিনি সোনাতলার মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে। 

আর সুমনের বাড়ি সোনাতলার ঠাকুরপাড়া এলাকায়। তার বাবার নাম জাহাঙ্গীর আলম বাদশা।  

বগুড়ার পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার মো. আকরামুল হোসেন সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান। নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় আরও আসামীর সম্পৃক্তা রয়েছে। 

পাপ্পুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাতে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানায়, পারভেজ ইসলামের সুমনের (২৮) সোনাতলা বাজারে মোবাইল সিমের ব্যবসা ছিল। তারে সাথে সেলসম্যান ছিলেন সোনাতলা মাসুদ রানা। সিম বিক্রির টাকা নিয়ে মাসুদ রানার সাথে সুমনের বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের নিষ্পত্তির জন্য ২০২০ সালের ১১ এপ্রিল সুমনকে সোনাতলার করমজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেকে নেওয়া হয়। তাকে ডেকে আনেন পাপ্পু। কিন্তু আগে থেকেই সেখানে মাসুদ, রিপন, আলিফ, তারাজুল, রাজিব ও মনজুর অবস্থান করছিলেন। এর আগেই সবাই মিলে সুমনকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। সুমন ঘটনাস্থলে আসলেই রাজিব তার কাছে থাকা বার্মিজ চাকু বের করে মাসুদকে দেয়। মাসুদ পরিকল্পনামতো সুমনকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে সুমনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। তাকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ এপ্রিল মারা যান সুমন। 

এ ঘটনায় সুমনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদশা বাদী হয়ে সোনাতলা থানায় ওই বছরের ১২ এপ্রিল হত্যা মামলা করেন। এই মামলা অধিকতর তদন্তের পিবিআইকে দেওয়া হয়। এই মামলায় গত ৮ এপ্রিল গাজীপুর থেকে পাপ্পুকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে গ্রেফতারের ফলে পিবিআই সুমন হত্যার দুই বছর পর রহস্য উৎঘাটন করল। 

পুলিশ আকরামুল হোসেন জানান, সুমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাপ্পুই গ্রেফতার রয়েছেন। গতকাল বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
 

Add