Joy Jugantor | online newspaper

লোকসানের ক্ষোভে আম গাছ কেটে ফেলছে চাষিরা

চাপাইনবাবগঞ্জ (রাজশাহী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬:৪৫, ১৬ জানুয়ারি ২০২২

লোকসানের ক্ষোভে আম গাছ কেটে ফেলছে চাষিরা

লোকসানের ক্ষোভে আম গাছ কেটে ফেলছে চাষিরা

একদিকে আম বাগানের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া অন্যদিকে বাজার অব্যবস্থাপনার কারণে লোকসানে পড়ে আম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন চাপাইনবাবগঞ্জের বাগান মালিকরা। 

আমের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে ক্ষোভে গাছ কেটে অন্য বাগান তৈরি করছেন তারা। যদিও কৃষি বিভাগ বলছে, আমকে রক্ষার জন্য সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। 

আমের রাজধানী হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পরিচিতি রয়েছে গোটা দেশে। চাঁপাইয়ের আম মানেই সুস্বাদু। সে কারণে জেলার বেশিরভাগ জমিতে গড়ে উঠেছে আম বাগান।

সেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাতরা গ্রামের একজন আম চাষি মজিবুর রহমান। গেলো ২০ বছর ধরে শুধু আম চাষই করেছেন তিনি। আর তা দিয়েই চলতো তার সংসার ও জীবন। 

কিন্তু টানা কয়েক বছর লোকসানে পরে ৩০ বছরেরও বেশি বয়সি প্রায় ১০০টি আম গাছ কেটে ফেলেছেন তিনি। সেই জমিতেই এখন করছেন বেগুন চাষ।  

মজিবুরের মতো একই অবস্থায় আছেন জেলার সদর উপজেলার ইসলামপুর, গোমস্তাপুরসহ শিবগঞ্জ, রানিহাটী, মনাকষা, চৌধুরীপাড়ার বিভিন্ন এলাকার একশোর বেশি চাষি। 

কিন্তু একদিকে অধিক সংখ্যক আম বাগান তৈরি, অন্যদিকে বাজার অব্যবস্থার কারণে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে চাষিদের।

এই পরিস্থিতিতে গেলো বছরই ক্ষতির মুখে পড়ে কেটে ফেলা হচ্ছে এলাকার অর্ধশত বছরেরও বেশি বয়সি বড় বড় আম গাছ। সেখানে তৈরি করছেন অন্য বাগান। 

ঐতিহ্যবাহী আম চাষের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমতে থাকায় উদ্বেগ জানিয়েছে জেলার মানুষ। তাদের দাবি, আম চাষিদের লোকসানসহ সব সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসুক সরকার।

জেলার কৃষি বিভাগ বলছে, ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় অনেকে বাগান কেটে ফেলছেন। মূলত বাগান কেটে পুকুর তৈরিতে ঝুঁকেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাগান মালিকরা।

তারা জানান, গত কয়েক বছরে পুরোনো প্রায় পাঁচ লাখ আম গাছ কাটা হয়েছে। আর তাই নতুন করে আম বাগান তৈরিতে চাষিদের উৎসাহিত করছেন তারা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ হলেও, চলতি বছর আম বাগানের পরিমাণ কমপক্ষে দুই হাজার হেক্টর কমতে পারে।

Add