Joy Jugantor | online newspaper

বগুড়ায় মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি, বাড়ছে করোনা সংক্রমণ

মাসুম হোসেন

প্রকাশিত: ০৪:৪৬, ১৫ জানুয়ারি ২০২২

আপডেট: ১০:৪৭, ১৫ জানুয়ারি ২০২২

বগুড়ায় মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি, বাড়ছে করোনা সংক্রমণ

বগুড়া শহরের মাস্কবিহীন চলাফেরা করছেন সাধারণ জনগণ।

বগুড়ায় করোনা সংক্রমণ হার ঊর্ধ্বমুখী হলেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। মাস্ক ছাড়াই হাট-বাজার, শপিংমল ও গণপরিবহনে চলাফেরা করছেন জনসাধারণ। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার নতুন করে বিধিনিষেধ জারি করলেও তা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের তেমন কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।

শনিবার দুপুরে বগুড়া শহরের সাতমাথা, জলেশ্বরীতলা, মফিজ পাগলার মোড় ও খান্দার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ মানুষের মুখেই নেই মাস্ক। যদিও অনেকেই মাস্ক পড়েছেন, তবে তাদের মাস্ক থুঁতনির নিচে রয়েছে।

শহরের জলেশ্বরীতলা ইয়াকুবিয়ার মোড়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড করা হয়েছে। সেখানে অটোরিকশার চালক ও যাত্রীদের কাউকেই মাস্ক পড়ে থাকতে দেখা যায়নি। এছাড়া তারা সামাজকি দূরত্বও মানছেন না। সাতমাথা বাসস্ট্যান্ড এলাকাতেও একই অবস্থা।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত ১৩ জানুয়ারি থেকে মাস্ক না পরলে আইনি ব্যবস্থা এবং সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধসহ ১১ দফা বিধিনিষেধ জারি করে সরকার। যা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে বাজারঘাট ও অফিস-আদালতে মাস্ক না পরলে আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে ব্যত্যয় রোধে সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। কিন্তু বগুড়ায় সরকারের ১১ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের চোখে পড়ার মত পদক্ষেপ নেই। ফলে করোনার ভয়াবহ ঝুঁকিতে রয়েছে বগুড়ার বাসিন্দারা।

এদিকে বগুড়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩৫টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ২৫ জন। নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে বগুড়ায় করোনা শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৫১ শতাংশে। একই সময়ের ব্যবধানে করোনায় ও উপসর্গে কোনো মৃত্যু হয়নি।

শনিবার দুপুরে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান ডেস্ক থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত জেলায় করোনায় নতুন কোনো মৃত্যু না হওয়ায় মোট মৃত্যু সংখ্যা ৭৯৬ জনেই অপরিবর্তিত রয়েছে। এরমধ্যে শুধু বগুড়া জেলার বাসিন্দা রয়েছেন ৬৮৮ জন। বাকিরা অন্য জেলার বাসিন্দা। তারা করোনা আক্রান্ত হয়ে বগুড়ার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে মৃত্যুর এই তালিকায় করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃতরা নেই।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় করোনা থেকে নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ৬ জন। বর্তমানে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩৮ জন। তাদের মধ্যে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ১৮, মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ১৪ ও টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের গতকালের (শুক্রবার) দেওয়া তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩৭টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন ২৫ জন। আর নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে জেলায় করোনা শনাক্তের হার ছিল ১৮ দশমিক ১ শতাংশ। একই সময়ের ব্যবধানে করোনায় ও উপসর্গে কোনো মৃত্যু হয়নি।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. সাজ্জাদ-উল-হক বলেন, বগুড়ায় করোনা শনাক্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। মাস্ক ছাড়া বের হওয়া যাবে না। জনসমাগম থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। আর যারা করোনার টিকা নেননি, তাদেরকে দ্রুত টিকা গ্রহণ করতে হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নিলুফা ইয়াছমিন জানান, করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জেলায় মোবাইল কোর্ট ও মাইকিংসহ সব ধরণের কার্যক্রম চলমান আছে।