Joy Jugantor | online newspaper

যমুনা নদীতে নাব্যতা সংকট

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বন্ধ ৪ আন্তঃজেলা নৌ-ঘাট

ইমরান হোসাইন রুবেল

প্রকাশিত: ২৩:২৫, ১২ জানুয়ারি ২০২২

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বন্ধ ৪ আন্তঃজেলা নৌ-ঘাট

সারিয়াকান্দির ব্যস্ততম কালিতলা ঘাটে এখন চলছে শুনশান নীরবতা। ছবি-প্রতিনিধি

যমুনা নদীর নাব্যতা সঙ্কটে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কালিতলা নৌ-ঘাটে চলা ৪টি আন্তঃ জেলা নৌ-রুট বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে ঘাট কেন্দ্রীক বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়াও এসব রুটে চলাচলকারী কয়েক হাজার যাত্রীকে প্রতিদিন পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি।

মাঝি-মাল্লারা জানান, নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় একই পথে সময় লাগছে দ্বিগুন। পাশাপাশি ডুবোচরে  আটকে বিরম্বনা পোহাতে হয় যাত্রী ও নৌকার মাঝিদের।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র বলছে, যমুনা নদী ভরাট হওয়ার কারণে প্রতিবছর এমন সংকট দেখা দিচ্ছে। এমন সমস্যা দূর করতে নদী খননে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার।  

কালিতল নৌ ঘাটের সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় আট দিন আগেই সারিয়াকান্দির আন্তঃজেলা নৌ-রুট কালিতলা, জামালপুরের মাদারগঞ্জ, ইসলামপুরের গুটাইল, উখিয়া, মাইজবাড়ী ও গাইবান্ধার সাঘাটা নৌ-রুট বন্ধ হয়েছে। তবে সারিয়াকান্দির ৫ কিলোমিটার ভাটিতে কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নে মথুরাপাড়া নামক স্থান থেকে নৌ-রুটটি যথারীতি চালু রয়েছে। তবে নৌ-রুটটি চালু থাকলেও এখানে নৌ চলাচল করতে হিমসিম খেতে হচ্ছে মাঝি-মাল্লাদের।

নৌকার মাঝি সাহাম্মত ও সুজাইল ইসলাম বলেন, কি করবো আমরা, নদীর তলায়তো পানি নেই। ডুবো চরে যখন যাত্রী বাহী নৌকা আটকে যায়, তখন আমাদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। পথ চলতে নৌ-পথে একাধিকবার নৌকা আটকে যাচ্ছে। 

একই কথা বলেন কাজলা ইউনিয়নের জামথল চরের রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, নদীতে নৌকা ঠিকমতো চলছে না। এ জন্য কৃষি পণ্যের আমরা ন্যায্য দাম পাচ্ছি না। তারপরও বহু কষ্টে কৃষি পণ্য আনা-নেওয়া করছি। এতে আমাদের দুর্ভোগ ও খরচ উভয়ই বেড়েছে।

স্থানীয়রা সূত্র জানায়, বগুড়া জেলার সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলার উপর দিয়ে ৪১ কিলোমিটার যমুনা নদী প্রবাহমান। সম্প্রতি বছরগুলোতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানির সাথে বালু, পলি ও কাদা মাটি পড়ে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। ভরাটের কারনে নাব্যতা অনেকাংশে কমে গেছে। এতে ভারি জাহাজ ও পণ্য পরিবহণের জন্য কার্গো সার্ভিস বন্ধ রয়েছে বহু বছর আগে থেকেই। 

এসব কারণে নৌ-রুটটি দিয়ে উজানের চিলমারী, কুড়িগ্রাম, রৌমারী ও গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন স্থানে পণ্য পরিবহণ সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার লোক বেকার হয়ে পরেছেন। এছাড়াও সড়কপথে ওইসহ পণ্য পরিবহণে গুণ খরচ গুণতে হচ্ছে উজানের জেলাগুলোর জনগণের। 

সারিয়াকান্দিস্থ উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (এস.ডি.ই) আব্দুর রহমান তাসকিয়া বলেন, যমুনা নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষাকালে উভয় তীরে সহজে বন্যার দেখা দিচ্ছে আবার শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি কমে যাওয়ায় নৌ-যান চলছে না। এতে উভয় সময়েই স্থানীয়রা দুর্ভোগে পরছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তোরনের জন্য সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এতে ২১ শতাব্দির মধ্যে নদীকে পরিকল্পীতভাবে ড্রেজিং করে যমুনা নদীকে আশির্বাদ হিসেবে পরিণিত করা হবে।