Joy Jugantor | online newspaper

নওগাঁর চাষ হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সবজি স্কোয়াশ

আব্বাস আলী

প্রকাশিত: ১৫:১১, ১২ জানুয়ারি ২০২২

নওগাঁর চাষ হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সবজি স্কোয়াশ

নওগাঁর চাষ হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সবজি স্কোয়াশ।

নওগাঁয় বাণিজ্যিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের সবজি স্কোয়াশ চাষ হচ্ছে। শীতকালীন এই সবজি পুষ্টিকর, সু-স্বাদু, সল্পমেয়াদি, উচ্চ ফলনশীল এবং  লাভজনক হওয়ায় স্কোয়াশ চাষ করেছেন সদর উপজেলার কৃষক আব্দুল লতিফ। বাজারে এর দাম ভালো থাকায় বিক্রি করে লাভবান হবেন বলে আশা করছেন। লতিফের স্কোয়াশ চাষ দেখে আশে পাশের গ্রামের অনেক কৃষক স্কোয়াশ চাষের আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের মঙ্গলপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ তার এক বিঘা জমিতে ১৩টি সারিতে বিদেশি হাইব্রিট জাতের স্কোয়াশ সবজি চাষ করেছেন। প্রতিটি সারিতে আছে ৪২টি গাছ। জমিতে বীজ রোপনের দুই মাসের মধ্যেই গাছগুলো বেড়ে ওঠেছে। গাছগুলোতে অসংখ্য হলুদ রঙের ফুল ফুটে আছে। আর গাছের নিচে ঝুঁলে আছে স্কোয়াশ। প্রতিটির ওজন দুই থেকে আড়াই কেজি। স্কোয়াশ দেখতে অনেকটা শশার মত মনে হলেও আকারে বড় ও সরু মিষ্টি কুমড়ার মতো। প্রতিদিনই আব্দুল লতিফ এর স্কোয়াশ ক্ষেত দেখতে আসছেন আশে-পাশের গ্রামের অনেক কৃষক। ফলন ভালো হওয়ায় অনেকেই পরিকল্পনা করছেন আগামী দিনে স্কোয়াশ চাষ করার।

স্কোয়াশ চাষী আব্দুল লতিফ বলেন, শীতকালীন সবজি হিসেবে আলু, টমেটো, সিম ও কপি আবাদ করতাম। গত বছরের অক্টোবর মাসে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতায় নতুন জাতের ফল স্কোয়াশ চাষ শুরু করি। নভেম্বর মাসের শুরুতে এক বিঘা জমিতে বীজ বপন করার পর ২মাস ৯দিনে প্রায় বিক্রির উপযোগী হয়েছে। তিনমাস  স্কোয়াশগুলো পুরোদমে পরিপক্ক হয়। প্রতিদিন বিকেলে গাছগুলোতে পানি দিতে হয়। ক্ষেতে ৫৫২টির মত গাছ আছে। প্রতিটি গাছ থেকে ১০টি করে ফল পাবো বলে আশা করছি। চলতি মাসের শেষের দিকে ক্ষেত থেকে তুলে বিক্রি করা শুরু করবো। এখন প্রতিটি স্কোয়াশ দুই থেকে আড়াই কেজি ওজন হয়েছে।

তিনি বলেন, বীজ, সার, সেচ ও কীটনাশক দিয়ে প্রতি বিঘায় ২০-২৫হাজার টাকার মত খরচ হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে কিছু সহায়তা করা হয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি স্কোয়াশ বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫টাকা দরে। আবহাওয়া যদি ভাল হয় এবং কোন রোগবালাই না হয় তাহলে প্রায় ১০০মন ফলন পাবো। সব খরচ বাদ দিয়ে এক লাখ টাকার মত লাভ হবে বলে আশা করছি।

ফতেপুর গ্রামের কৃষক আফসার আলী বলেন, আমরা দেশীয় জাতের শাক-সবজি চাষ করে অভ্যস্ত। পাশের গ্রামের কৃষক লতিফ বিদেশী জাতের সবজি স্কোয়াশ চাষ করেছে। প্রতিটির ওজন দুই থেকে আড়াই কেজির মতো হয়েছে। এ সবজিতে রোগবালাই তেমন একটা নেই বলে শুনেছি। যদি এমন হয় এটি লাভবান একটি সবজি বলে বিবেচিত হবে। কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগীতা পেলে আগামীতে এ সবজি চাষ করার ইচ্ছা আছে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামসুল ওয়াদুদ বলেন, কৃষক আব্দুল লতিফকে স্কোয়াশ চাষে কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহায়তা করা হয়েছে। স্কোয়াশ মূলত শীতকালীন ও বিদেশি জাতের সবজি। স্কোয়াশ অল্প খরচের ফসল। এটি মিষ্টি কুমড়ার মতো সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। দ্রুত বর্ধনশীল একটি সবজি ও অল্প পরিশ্রমেই অধিক আয় করা সম্ভব। এ ফসলে তেমন কোনো রোগের উপদ্রব নেই। দেশের প্রচলিত কোনো সবজির এমন ভালো উৎপাদন ক্ষমতা নেই। স্কোয়াশ চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষি অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। স্কোয়াশ চাষে আমরা নানাভাবে জেলার কৃষক ভাইদের মাঝে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। যদি কোন কৃষক স্কোয়াশ চাষে আগ্রহী হয় কৃষি বিভাগ থেকে পরামর্শ ও সহায়তা করা হবে।