Joy Jugantor | online newspaper

বগুড়ায় অরেঞ্জ হত্যায় ‘ব্যবহৃত’ পিস্তল উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:২৭, ১২ জানুয়ারি ২০২২

আপডেট: ১১:২৫, ১২ জানুয়ারি ২০২২

বগুড়ায় অরেঞ্জ হত্যায় ‘ব্যবহৃত’ পিস্তল উদ্ধার

মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এই পিস্তলটি উদ্ধার করে পুলিশ।

বগুড়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নাজমুল হাসান অরেঞ্জকে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। মালগ্রাম ডাবতলা এলাকার একটি ড্রেন থেকে মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ‘শুটার রাসেলকে’ সঙ্গে নিয়ে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, উদ্ধার করা পিস্তল দিয়ে অরেঞ্জকে গুলি করা হয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি বুধবার সকালে বগুড়া সদর থানার ওসি সেলিশ রেজা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তার রাসেলের দেখানো পথে রাত প্রায় দেড়টার দিকে একটি পিস্তল উদ্ধার করে পুলিশ। পিস্তলটি দেশীয় নয়। পাশের দেশ ভারতের তৈরি হতে পারে। ’

ওসি জানান, এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাতে পারেন।

এর আগে র‌্যাব-৩ ঢাকার বনানী এলাকা থেকে রাসেলকে গত সোমবার রাত ১০টার দিকে গ্রেপ্তার করে। পরে তারা বগুড়া সদর থানা পুলিশের কাছে মঙ্গলবার হস্তান্তর করেন।

পুলিশ জানায়, গত ২ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে বগুড়া শহরের মালগ্রামের ডাবতলা এলাকায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নাজমুল হাসান অরেঞ্জকে গুলি করে প্রতিপক্ষ। এ সময় তার বন্ধু আরেক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মিনহাজ শেখ আপেলও গুলিবিদ্ধ হন। তবে অরেঞ্জের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে আইসিইউ-তে নেয়া হয়।

গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে টানা আট দিন তিনি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। পরে সোমবার রাত ১১টার দিকে আহত জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নাজমুল হাসান অরেঞ্জ মারা যান। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার দুপুরে বাদ যোহর একটি এবং বিকেলে আরেকটি জানাজা শেষে নামাজগড় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

নিহত অরেঞ্জ মালগ্রাম দক্ষিণপাড়ার রেজাউল ইসলামের ছেলে। তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগ বগুড়া জেলা শাখার সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সহ-সম্পাদক ছিলেন।

পুলিশ জানায়, স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধের জের ধরে অরেঞ্জ ও আপেলকে গুলি করা হয়। এর আগে ঈদুল ফিতরের ঈদের পর একবার হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ওই হামলার শিকার গ্রুপটিই প্রতিশোধ নিতে এবার গুলি চালায়।

ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে অরেঞ্জ ও আপেল মালগ্রাম ডাবতলার মোড়ে বসে কথা বলছিলেন। এ সময় মালগ্রাম বেলতলা মোড় থেকে ৪/৫টি মোটর সাইকেলে একদল যুবক ডাবতলা মোড়ের দিকে যায়। তাদের মধ্য থেকে দু’জন অরেঞ্জ ও আপেলকে লক্ষ্য করে পর পর কয়েকটি গুলি ছোঁড়ে। দু’টি গুলি অরেঞ্জের বাম চোখের নিচে লাগে। আর তার সঙ্গে থাকা আপেলের পেটে গুলি লাগে।

পরে অরেঞ্জের স্ত্রী স্বর্নালি আক্তার বাদী হয়ে ওইদিন রাতেই সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা উপ-পরিদর্শক জাকির আল আহসান জানান, অরেঞ্জ হত্যায় তিনজন গ্রেপ্তার আছেন। এর মধ্যে টিপুকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আর খাইরুল ও রাসেলকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করে। বাকিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।