Joy Jugantor | online newspaper

নওগাঁ সদর

হ্যান্ডকাফসহ মাদক ব্যবসায়ীকে পালাতে সহযোগিতা করায় আটক ৩

নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২:২৯, ১ ডিসেম্বর ২০২১

আপডেট: ১২:৩৫, ১ ডিসেম্বর ২০২১

হ্যান্ডকাফসহ মাদক ব্যবসায়ীকে পালাতে সহযোগিতা করায় আটক ৩

ছবি- জয়যুগান্তর

নওগাঁয় মাদক ব্যবসায়ীকে ছিনিয়ে নিয়ে পালাতে সহযোগিতা করায় ভীমপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউল হকসহ (৪৫) তিনজনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের ওই বিদ্যালয় থেকে তাদের আটক করা হয়। আটকরা হলেন- একই বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী কালাম হোসেন ও নৈশ প্রহরী জাহাঙ্গীর আলী। তাদের বাবার নাম কাজেম সরদার।

স্থানীয় ও ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভীমপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে একটি পরিত্যক্ত ভবনের কক্ষে কায়েম উদ্দিনের ছেলে মাদক ব্যবসায়ী আলম হোসেন (৩০) মাদক বিক্রি করছিলেন। এসময় ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহসিন রেজা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে গিয়ে আলম হোসেনকে আটক করার পর হ্যান্ডকাফ পরিয়ে সেখানে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করছিলেন।

বিষয়টি জানার পর আলমের চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর, কালাম হোসেন ও প্রধান শিক্ষক আতোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে তাকে কৌশলে ছিনিয়ে নিয়ে ইউসুফ নামে একজনের মোটরসাইকেলে পালাতে সহযোগিতা করেন। পরে পুলিশ তাদের তিনজনকে আটকসহ ১০ গ্রাম হিরোইন উদ্ধার করে। ঘটনার পর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শত শত এলাকাবাসী ভিড় জমায়।

এই ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় প্রধান শিক্ষক আতাউল হক, কালাম হোসেন (২৬), জাহাঙ্গীর আলী (২৯), ইউসুফসহ (২২) পাঁচজনের নামে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। একই ঘটনায় অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

স্থানীয় নয়ন মন্ডল বলেন, ওই সময় বিদ্যালয়টি চালু থাকলেও শিক্ষার্থী ছিল না। শুধু শিক্ষকরা ছিলেন। পাশেই বিদ্যালয়ের আরেকটি পরিত্যক্ত ভবন থেকে মাদকসহ আলমকে ডিবি পুলিশ আটক করে। পরে কয়েকজন শিক্ষক মিলে ডিবি পুলিশের কাছ থেকে আলমকে হ্যান্ডকাফসহ কৌশলে পালাতে সহযোগিতা করেন।

ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহসিন রেজা বলেন, মাদক ব্যবসায়ী আলম হোসেনকে আটক করে জব্দ তালিকা প্রস্তুতের সময় প্রধান শিক্ষক আতাউল হক, কালাম হোসেন, জাহাঙ্গীর আলীসহ ৫-৭ জন এসে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে ইউসুফের মোটরসাইকেলে করে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন। ঘটনার পর তাদের তিনজনকে আটক করা সম্ভব হলেও বাকি আসামিরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আসামি ছিনতাই ও সরকারি কাজে বাঁধা দেওয়ায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

নওগাঁ গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কেএম শামসুদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মাদক ব্যবসায়ীকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করা ও সরকারি কাজে বাঁধা দেওয়ায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।