Joy Jugantor | online newspaper

নওগাঁয় নেসকোর বৈদ্যুতিক ত্রুটিতে ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি, গাড়ি আটক

নওগাঁ প্রতিনিধি 

প্রকাশিত: ১৯:০৭, ৩০ নভেম্বর ২০২১

নওগাঁয় নেসকোর বৈদ্যুতিক ত্রুটিতে ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি, গাড়ি আটক

নওগাঁয় নদার্ণ ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানী লিমিটেডের (নেসকো) একটি ট্রান্সফর্মারে উচ্চ ভোল্টেজে শতাধিক গ্রাহকের প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

সোমবার দুপুরে নেসকোর ১ নম্বর ফিডারের আওতাধীন শহরের লাটাপড়া মহল্লায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। শুরুতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কম থাকলেও অভিযোগ কেন্দ্রের জরুরী সার্ভিসের পরিবহন দেরিতে আসায় এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বেড়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে ঐদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা অবধি পরিবহনটি আটক করে রাখেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, নওগাঁ পৌরসভার আরজী নওগাঁ লাটাপাড়া মহল্লাটি নদার্ণ ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানী লিমিটেডের (নেসকো) দক্ষিণ বিভাগের ১ নম্বর ফিডারের আওতায় পড়ে। পৌরসভা এলাকাসহ আশেপাশের কয়েকটি বৃহৎ ইউনিয়ন এই ফিডারের বিদ্যুৎ সংযোগের গ্রাহক। প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ যেকোন সময় বৈদ্যুতিক ত্রুটি হলে নেসকোর অভিযোগ কেন্দ্রে একাধিকবার যোগাযোগ করেও গ্রাহকরা অভিযোগ কেন্দ্রের তাৎক্ষণিক সেবা পান না এটি নেসকোর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগ। 

রোববার (২৯ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে শহরের লাটাপাড়া মহল্লায় হঠাৎ করেই বৈদ্যুতিক ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর এদিন দুপুর ১টার দিকে ওই মহল্লার শতাধিক বাড়িতে উচ্চ ভোল্টেজে অগ্নিকাণ্ডসহ নানাবিধ সমস্যা শুরু হতে থাকে। এতে ওই এলাকার বাসিন্দাদের ব্যবহৃত প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ভ্যান, বাল্ব, সাবমারসিবল মটর, টিভি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। তাৎক্ষণিক বিষয়টি নেসকোর অভিযোগ কেন্দ্রে জানান এলাকাবাসীরা।  এসময় অভিযোগকেন্দ্রে দায়িত্বরতরা গ্রাহকদের সাথে অসাদাচারণ করেন এবং ঘটনার প্রায় ১ ঘণ্টা পর তাদের জরুরী সার্ভিসের পরিবহন লাটাপাড়া মহল্লায় পাঠানো হয়। ততক্ষণে ক্ষয়ক্ষতি আরো বেড়ে যায়। ট্রান্সফর্মারের ত্রুটি সমাধানের পর নেসকোর কর্মকর্তারা পরিবহনটি নিয়ে ফেরত যেতে চাইলে স্থানীয়রা সেটি জব্দ করেন। সন্ধ্যার মধ্যে সেখানে কয়েকশো টিভি, সাউন্ড সিস্টেমের স্তূপ জমে। গাড়িটির সামনে চেয়ার টুল পেতে বসে ৪ ঘন্টা অবরোধ করেন মহল্লাটির শতাধিক নারী-পুরুষ এবং সরকারী পলিটেকনিকে অধ্যয়ণরত শিক্ষার্থীরা। পরে সন্ধ্যায় নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে প্রতিনিধি আসলে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত এবং কাউন্সিলরদের সাথে আলোচনার ক্ষতিপূরনের শর্ত সাপেক্ষে পরিবহনকে যেতে দেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

লাটাপাড়া মহল্লার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ জানান, ‘উচ্চমাত্রার ভোল্টেজে আমার বাড়ির ফ্রিজ, টিভি, সাবমারসিবল মটরসহ প্রায় ৮০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ভোল্টেজ বেড়ে যখন আমার টিভি বিস্ফোরণ হয় বাড়িতে থাকা আমার ২টি নাতি এতে প্রাণনাশের মুখে পড়েছিল। আমি এবিষয়ে নেসকোর অভিযোগ কেন্দ্রে কল করলে তারা অত্যান্ত খারাপ ব্যবহার করে। ক্ষতিপূরন এবং কর্তব্যে উদাসীন নেসকোর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’ 

একই মহল্লার সার্জিনা বেগম বলেন, ‘সেলাই মেশিনে জামা কাপড় সেলাই করে যে টাকা পাই সেটা দিয়ে কোনভাবে সংসার চালাই। বিদ্যুতের উচ্চ মাত্রার ভোল্টেজে আমার সাবমারসিবল মটর, সেলাই মেশিন, ফ্রিজসহ প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নেসকো যদি সময়মতো এসে বিষয়টি সমাধান করতো আমার এতো ক্ষতি হতো না।’

জানতে চাইলে নেসকোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী সায়মন আহম্মেদ বলেন, উচ্চ মাত্রার ভোল্টেজে ১ নম্বর ফিডারের আওতাধীন বেশ কিছু গ্রাহকের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাদের ক্ষতির পরিমান কত এখনি বলা সম্ভব হচ্ছে না। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতে স্থানীয় দু’জন কাউন্সিলর তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। এবিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর আবেদন করলে ক্ষতিপূরনের বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা হবে।

গ্রাহকদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে জানতে নেসকোর নওগাঁ বিক্রয় ও বিতরণ (দক্ষিণ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানজিমুল হক এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। প্রকৌশলীর দপ্তরে গেলে তথ্য অধিকারে আবেদন দিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান জানতে বলেন তিনি।