Joy Jugantor | online newspaper

উদযাপন হবে বগুড়া জেলা গঠনের দুইশত বছর পূর্তির ২য় পর্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:০১, ২৪ নভেম্বর ২০২১

আপডেট: ১৪:০৫, ২৪ নভেম্বর ২০২১

উদযাপন হবে বগুড়া জেলা গঠনের দুইশত বছর পূর্তির ২য় পর্ব

বুধবার বগুড়া ইতিহাস চর্চা পরিষদের সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি ডা. সি.এম.ইদরিস।

আগামী ২৭ নভেম্বর বগুড়া জেলা গঠনের দুইশত বছর পূর্তির দ্বিতীয় দফা উদযাপন হবে।  এক সাংবাদিক সম্মেলনে উদযাপনের দিনটি ঘোষণা করেন বগুড়া ইতিহাস চর্চা পরিষদ। বুধবার বেলা ১২টার দিকে রোচাস রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স রুমে এ আয়োজন করা হয়।
 
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বগুড়া ইতিহাস চর্চা পরিষদের সভাপতি ও বগুড়া জেলা দুইশত বৎসর পূর্তি উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক ডা. সি, এম. ইদরিস। লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, আমরা আজ ইতিহাসের পাদ প্রদীপের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। তমিস্র সুপ্তির মহাঘোর কাটিয়ে হঠাৎ করেই বগুড়ায় আবির্ভূত হলো একটি প্রতিষ্ঠান যার নাম 'বগুড়া ইতিহাস চর্চা পরিষদ"। বগুড়ায় সাহিত্য-সংস্কৃতি নাট্যাঙ্গণে বিভিন্ন নামে বহু সংগঠন আছে। ব্যতিক্রম শুধু ইতিহাস সম্পর্কে কোন সংগঠন নেই। তাই ২০ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে বগুড়ার একঝাঁক উদ্যোমী ইতিহাস মনস্ক নবীন-প্রবীন সুধীও জ্ঞানী গুণীজনদের সমন্বয়ে গঠন করা হয় 'বগুড়া ইতিহাস চর্চা পরিষদ"।
 
যেহেতু ১৮২১ সালের ১৩ই এপ্রিল বগুড়া জেলা গঠন হয়েছিল সেকারণেই জেলা গঠনের দুইশত বছর পূর্তি অনুষ্ঠান বগুড়া ইতিহাস চর্চা পরিষদ যথাযথ মর্যাদার সাথে পালন করার অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু বৈশ্বিক করোনার ভয়াবহতায় সারাদেশের ন্যায় বগুড়ায় লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল। ফলশ্রুতিতে পূর্ব ঘোষনা থাকলেও শুধুমাত্র সীমিত পরিসরে ২০২১ সালের ১৩ই এপ্রিল বগুড়া জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে বগুড়া জেলা গঠনের দুইশত বছর উদযাপন করেছি। পাশাপাশি রোচাস রেস্টুরেন্টে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে আলোচনা সভা ও স্মারক সংকলন 'বগুড়া কথা' এর প্রকাশনা অনুষ্ঠান করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ২৭ শে নভেম্বর জেলা গঠনের দুইশত বছর পূর্তি উদযাপনের ২য় পর্ব পালন করতে যাচ্ছি।
 
তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যেই বগুড়া ইতিহাস চর্চা পরিষদের উদ্যোগে ও কর্মকাণ্ডে উজ্জীবিত হয়ে এগিয়ে এসেছেন বগুড়ার অনেক বিজ্ঞ ও ইতিহাস মনস্ক পণ্ডিত ব্যক্তিগণ। যাদের ঐকান্তিক সহযোগিতায় উৎসাহিত হয়ে এই পরিষদের কার্যক্রম আগামীতে আরো গতিশীল ও অর্থবহ হবে বলে আমরা আশা করছি।
 
বগুড়া জেলা গঠনের দুইশত বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী ২৭ নভেম্বর শনিবার শহীদ টিটু মিলনায়তনে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। গৃহীত কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে সকাল ৯টা-৯.৩০ মিনিটে রেজিস্ট্রেশন, সকাল ১০টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
 
প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রফেসর ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ কে এম ইয়াকুব আলী। এরপর "বগুড়া কথা-২" স্মারক সংকলনের মোড়ক উন্মোচন করা হবে। বেলা ১১.৩০মিনিটে “বগুড়ার উন্নয়নে সমস্যা ও সম্ভাবনা" শীর্ষক প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর কি-নোট পেপার উত্থাপন করবেন কি-নোট স্পিকার অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাতেল। প্রথম সেশনের সেমিনারে সভাপতিত্ব করবেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক অধ্যাপক ড. খালিকুজ্জামান ইলিয়াস।
 
বেলা ২.৩০ মিনিট "বগুড়ার লোকজ সংস্কৃতির অতীত ও বর্তমান" শীর্ষক প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর কি-নোট পেপার উত্থাপন করবেন কি-নোট স্পিকার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ। ২য় সেশনের সেমিনারে সভাপতিত্ব করবেন হাজী মোহাম্মাদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও অধ্যাপক বঙ্গবন্ধু চেয়ার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) অধ্যাপক ড. আফজাল হোসেন।
 
এসময় তিনি বগুড়া ইতিহাস চর্চা পরিষদ আগামী দিনের জন্য বেশকিছু পরিকল্পনা প্রণয়ন সংক্ষিপ্ত পরিসরে তুলে ধরেন। (১) বগুড়ার ইতিহাসকে হালনাগাদ করে প্রকাশ করা (২) বগুড়া অথবা অন্যকোন জেলার ইতিহাস সম্পর্কে গবেষণারত ব্যক্তিকে আর্থিক ভাবে সাহায্য করা এবং তাদের গবেষণালব্ধ প্রতিপাদ্য বিষয় (শর্ত সাপেক্ষে) প্রকাশ করা (৩) জেলার হারিয়ে যাওয়া লোকসঙ্গীত, সাহিত্য, গাঁথা ও গ্রামীণ সংস্কৃতি পুনরুদ্ধার করে প্রকাশ করা (৪) হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খৃস্টান প্রভৃতি ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় কৃষ্টি কালচার ও ঐতিহ্যর প্রতি আলোকপাত করা। কারণ বগুড়া তথা পুণ্ড্রবর্ধনে রয়েছে মুসলিম বৌদ্ধ ও হিন্দু সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বিপুল সমাহার।
 
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া ইতিহাস চর্চা পরিষদের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারুল ইসলাম দুলাল, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফজলে রাব্বি ডলার, সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট শের আলী, একেএম রাজি উল্লাহ, রেজাউল হাসান রানু, কোষাধ্যক্ষ সৈয়দা তাহমিনা পারভীন শ্যামলী, কার্যনির্বাহী সদস্য রেজাউল বারী ঈসা, জিয়াউর রহমান, মো. সাইরুল ইসলাম, মাসুম আওরঙ্গজেব প্রমুখ।