Joy Jugantor | online newspaper

যুদ্ধাপরাধে বগুড়ার সাবেক সাংসদ ও বিএনপি নেতা মোমিনের মৃত্যুদণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১১:৫৯, ২৪ নভেম্বর ২০২১

আপডেট: ১৬:৪৯, ২৪ নভেম্বর ২০২১

যুদ্ধাপরাধে বগুড়ার সাবেক সাংসদ ও বিএনপি নেতা মোমিনের মৃত্যুদণ্ড

ফাইল ছবি।

সাবেক সাংসদ ও বিএনপি নেতা সম্পাদক আব্দুল মোমিন তালুকদার ওরফে খোকাকে একাত্তরে হত্যা, লুণ্ঠনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃতুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতেই এ রায় ঘোষণা করে আদালত। এর আগে বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য বুধবার তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছিল।

গত ৩১ অক্টোবর এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে যেকোনো দিন রায় দেয়া হবে মর্মে সিএভি করে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন সুলতান মাহমুদ সীমন। আর আসামি পলাতক থাকায় তার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন রাষ্ট্র নিয়োজিত আবুল হাসান।

সীমন বলেন, ‘মোমিনের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ ছিল। একটা অভিযোগ ছিল ২৪ এপ্রিল তারিখে। সেদিন সান্তাহারে প্রথম হানাদার বাহিনী আসে। সেদিন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের উপর আক্রমণ করে ১০ জনকে হত্যা করে। এ ছাড়া সেদিনই চারজন প্রোসিভিলিয়ানকে হত্যা করে। এটাকে মাননীয় ট্রাইব্যুনাল গণহত্যা হিসেবে স্যাবস্ত করেছেন এবং গণহত্যা হিসেবেই তার জাজমেন্টের আদেশ দেয়া হয়েছে।’

সীমন বলেন, ‘দ্বিতীয় অভিযোগ ছিল কাশিমালা যে গ্রামটি ছিল আদমদিঘী থানায়। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোকজন আসত। মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিতে বলে সেখানে সেনাবাহিনী ও রাজাকাররা মোমিন তালুকদারের নেতৃত্বে অন স্পট দুজনকে হত্যা করে। অন্য তিনজনকে ধরে আদমদিঘী রেলস্টেশনে আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করে। সেটাও ট্রাইব্যুনাল সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণ করে। তার দায়েও সাজা দেয়া হয়েছে।’

এ ছাড়া তৃতীয়ত অভিযোগ ছিল চারজন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যার।

 এ মামলার তদন্ত শেষ করে ২০১৮ সালের ৩ মে প্রসিকিউশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

তদন্ত সংস্থা জানায়, একাত্তরে আটক, নির্যাতন, অপহরণ, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগসহ ১৯ জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে বগুড়া জেলার আদমদিঘী থানার কালাইকুড়ি গ্রামের আব্দুল মজিদ তালুকদারের ছেলে আব্দুল মোমিন তালুকদারের বিরুদ্ধে। তিনটি অভিযোগে তদন্ত হয়েছে।

১৯৭১ সালে মোমিন তালুকদার ছিলেন মুসলিম লীগের কর্মী। কিন্তু পাকিস্তান দখলদার বাহিনীকে সহযোগিতা করতে তিনি সশস্ত্র রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন। আদমদিঘী থানার রাজাকার কমান্ডার হিসেবে তিনি বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করেন। ১৯৭৮ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। পরে আদমদিঘী উপজেলা বিএনপির সভাপতি হন।

মোমিন তালুকদার বর্তমানে বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তিনি বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন। মোমিন ২০০১ ও ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।