Joy Jugantor | online newspaper

চাকরির নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

মান্দায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

নওগাঁ প্রতিনিধি 

প্রকাশিত: ১৬:২৫, ২৩ নভেম্বর ২০২১

মান্দায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

মান্দা উপজেলা প্রেসক্লাব।

নওগাঁর মান্দায় বুড়িদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৃপ্তি মন্ডল ও স্কুলের গভর্নিং বডির সভাপতি সুজয় প্রামাণিকের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে এক ভুক্তভোগী পরিবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন। 

মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে মান্দা উপজেলা প্রেসক্লাবে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের শামুকখোল (বুড়িদহ) গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে ভুক্তভোগী ফারুক হোসেন।

লিখিত বক্তব্যে ফারুক হোসেন বলেন, আমি দীর্ঘদিন থেকে লিভার রোগে আক্রান্ত। বেশি কিছুদিন আগে বুড়িদহ উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। তখন গভর্নিং বডির সভাপতি সুজয় প্রামাণিক মেসেঞ্জারে আমাকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি পাঠায় এবং পরবর্তীতে দেখা হলে আমার স্ত্রীকে চাকরির দিবে বলে প্রলোভন দেয়। এরপর আমাকে প্রধান শিক্ষকের কাছে নিয়ে গিয়ে চাকরি দিবে মর্মে মৌখিক চুক্তি করেন। এ জন্য তারা নয় লাখ টাকা দাবি করেন। তাদের আশ্বাস পাওয়ার পর আমার স্ত্রী শরিফুল নাহারের ভাইয়ের কাছে থেকে জমি বিক্রির নামে ছয় লাখ টাকা নিয়ে আসি। এরপর চুক্তিবদ্ধ টাকা সংগ্রহ করতে না পেরে এক ব্যক্তির নিকট থেকে চওড়া সুদের ওপর আরো তিন লাখ টাকা সংগ্রহ করি। 

সংগৃহ করা নয় লাখ টাকার মধ্যে সভাপতিকে চার লাখ এবং প্রধান শিক্ষককে পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে চাকরি চুড়ান্তভাবে পাকাপোক্ত করা হয়। টাকা গ্রহণের বেশ কিছু দিন পার হয়ে গেলে তারা দু’জনে আমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। তখন আমি তাদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তারা আমাকে এড়িয়ে যান। এর বেশ কিছুদিন পরে তারা জানান চাকরি দলীয় নেতাকর্মীরা দিবে আমাদের কিছুই করার নাই। এই বলে টাকা ফেরত না দিয়ে নানা ভাবে তালবাহানা শুরু করে। 

তিনি আরো বলেন, আমি এখন নিরুপায় হয়ে বিভিন্ন মহলে দ্বারস্থ হলেও এর কোন প্রতিকার মিলছে না। বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করি। আমি অসুস্থ ব্যক্তি হওয়াই আমার পরিবারে জন্য চাকরিটি খুব জরুরী হয়ে পড়েছে। চাকরিটি হলে আমার অবর্তমানে আমার স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে জীবন যাপন করতে পারবে। চাকরি না হলে আমার অবর্তমানে স্ত্রী-সন্তানের জীবনে অন্ধকার নেমে আসবে।

এ বিষয়ে গভর্নিং বডির সভাপতি সুজয় প্রমানিক ও প্রধান শিক্ষক তৃপ্তিস মণ্ডলের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, অভিযোগটি সম্পন্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। চাকরি দেওয়ার নামে তার (ফারুক হোসেন) সঙ্গে কোন ধরনের কথা বা লেনদেন হয়নি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- ভুক্তভোগী ফারুক হোসেন এর শরিফুল নাহার এবং প্রতিবেশী দি¦পংকর চৌধূরী।