Joy Jugantor | online newspaper

নওগাঁয় ভাসমান রেস্টুরেন্টে আগুন, পুড়ে ছাই ২৮ টি ছাগল

নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭:৪৫, ১৩ অক্টোবর ২০২১

নওগাঁয় ভাসমান রেস্টুরেন্টে আগুন, পুড়ে ছাই ২৮ টি ছাগল

নওগাঁয় ভাসমান রেস্টুরেন্ট হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। 

বুধবার সকাল সাড়ে ৫টার দিকে সদর উপজেলার তালতলি বিলে এ আগুনের সূত্রপাত হয়। ভাসমান রেস্টেুরেন্টের পাশপাশি সেখানে ছাগলের খামার ছিল। এতে রেস্টেুরেন্ট মালিক এরশাদ আলীর প্রায় ৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার দুবলহাটি সড়কের তালতলি বিলে বাঁশ-কাঠ ও টিন দিয়ে ২০১৬ সালে এরশাদ আলী নামে এক ব্যক্তি ভাসমান রেস্টুরেন্ট তৈরি করেন। লোকালয় থেকে দুরে হওয়ায় যেখানে আশপাশে কোন দোকানপাট বা বাড়িঘর নাই। তিনি সদর উপজেলার চকপ্রাণ মহল্লার বাসিন্দা। তিনি রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি একটি কক্ষে কয়েকটি ছাগল রাখতেন। গত চার বছরে দেশী জাতের ছাগলের সংখ্যা দাঁড়ায় ছোট-বড় মিলে ২৮টি। 
অভিযোগ আছে ওই রেস্টুরেন্টটি ফাঁকা জায়গায় হওয়ায় বিভিন্ন অনৈতিক কার্যক্রম হতো। উড়তি বয়সি ছেলে-মেয়েরা সেখানে গিয়ে সময় কাটাতো। রেস্টুরেন্টের ভিতরে আলাদা ভাবে কাপড়ের পর্দা টাঙানো ছিল। এমনকি মাদকের আড্ডাও বসত বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ প্রশাসন একাধিকবার ওই রেস্টুরেন্টে অভিযান পরিচালনা করেছে। ভাসমান রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি কৌশল হিসেবে সেখানে ছাগলের খামার করা হয়েছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ৫টায় ভাসমান রেস্টুরেন্টে আগুন লেগে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। লোকালয় থেকে দুরে হওয়ায় মানুষ সহজে বুঝতে পারেনি। পরে নওগাঁ ফায়ার সার্ভিস সংবাদ পেয়ে সকাল সাড়ে ৬টায় গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে। তবে তার আগেই সবকিছু পড়ে ছাই হয়ে যায়।

ভাসমান খামার মালিক এরশাদ আলী বলেন, প্রতিদিনের মতো রাত ১১টার দিকে কয়েল জ¦ালিয়ে দিয়ে বাড়ি চলে আসি। সকাল ৬টার দিকে ফোনে আমাকে জানানো হয় রেস্টুরেন্টে আগুন লেগেছে। কয়েল থেকে যদি আগুন লাগবে তাহলে রাতেই লাগতো, সকালে কেন। শত্রুতামুলক ভাবে কেউ পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন লাগিয়ে দিতে পারে। এছাড়া রেস্টুরেন্ট কোন অনৈতিক কার্যক্রম হতো না বলে অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন রেস্টুরেন্টের পাশপাশি সেখানে ছোট বড় মিলিয়ে দেশীয় জাতের ২৮ টি ছাগল ছিল। সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৬ লাখ টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ভাসমান রেস্টুরেন্টে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। রেস্টুরেন্ট মালিক এরশাদের সাথে কথা হয়েছে। তাকে থানায় অভিযোগ করতে বলা হয়েছে। রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি সেখানে ছাগল পালন করা হতো। আগুনে সব পুড়ে গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে।

নওগাঁ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারি পরিচালক একেএম মুরশেদ বলেন, ওই রেস্টুরেন্টটি বাঁশ-কাঠ ও টিন দিয়ে  ভাসমান ভাবে তৈরি করা হয়েছিল। আগুনের সূত্রপাত কিভাবে হয়েছিল জানা নেই। সংবাদ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়েন্ত্রন নিয়ে আসা হয়। আগুনে মালিকের প্রায় প্রায় চার লাখ টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।