Joy Jugantor | online newspaper

মরিচের দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে শিবগঞ্জের কৃষক

রবিউল ইসলাম রবি, শিবগঞ্জ (বগুড়া)

প্রকাশিত: ১৯:০৬, ৯ জুন ২০২১

মরিচের দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে শিবগঞ্জের কৃষক

বগুড়ার শিবগঞ্জ  উপজেলায় এবার কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলন হলেও দাম না থাকায় চাষীদের মুখে নেই হাসি। বর্তমানে পাইকারি বাজারে কাঁচা মরিচের কেজি সর্বোচ্চ ১০ টাকা। হঠাৎ দাম কমে যাওয়ায় ক্ষেতের মরিচ ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে। ফলে উৎপাদিত মরিচ নিয়ে বিপাকে পড়েছে কৃষকেরা।

কৃষকরা বলছেন, শিবগঞ্জ সদর, মোকামতলা, দেউলী, সৈয়দপুর , ময়দানহাট্টা ইউনিয়ন  ও পৌরসভা এলাকার বেড়াবালা এবং পাইকপাড়া এলাকার চাষিরা উঁচু জমিতে প্রচুর পরিমাণ মরিচের আবাদ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের হিসাব মতে, সারা শিবগঞ্জ উপজেলায় ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় চলতি মৌসুমে মরিচের চাষ হয়েছে ৩৫০ হেক্টর জমিতে। এ অঞ্চলে মরিচ উৎপন্ন হয়েছে ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টনেরও বেশি। চলতি মৌসুমে স্থানীয় জাতের মধ্যে বগুড়া এবং হাইব্রিড জাতের মধ্যে সনিক- ১৭০১, শরকি বিন্দি ও বর্ষা মরিচের চাষ হয়েছে বেশি। এবার মরিচ চাষের উপযোগী আবহাওয়া থাকায় মরিচের ফলনও হয়েছে অধিক। প্রতি বিঘাতে ৪০ মণেরও বেশি মরিচ উৎপাদন হয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে জানা গেছে, বর্তমানে শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রতিমণ কাঁচা মরিচের দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ একজন শ্রমিকের এক বেলার মজুরির দাম ২০০ টাকা। আর সেই শ্রমিক এক বেলায় ক্ষেত থেকে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ কেজি মরিচ তুলতে পারেন। যার বাজারমূল্য প্রায় ১২৫ থেকে ১৮০ টাকা। সে হিসাবে মরিচ বিক্রি করে এলাকার কৃষকের শ্রমিক খরচই উঠছে না। বাধ্য হয়ে কৃষকেরা ক্ষেত থেকে মরিচ না তুলে ক্ষেতেই নষ্ট করছে। আর যে সকল কৃষক নিজেরা জমিতে শ্রম দেন তারা পরিবারের সদস্যরে নিয়ে মরিচ তুলে বাজারে বিক্রি করছেন।

কথা হয় মোকামতলা ইউনিয়নের বাদিয়াচড়া এলাকার  মরিচ চাষী নজরুলের সাথে। তিনি বলেন, ‘লাভের আশায় এক বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছি। এবার ফলন অনেক ভালো হয়েছে। কিন্তু মরিচের দাম নেই। ক্ষেত থেকে মরিচ তুলতে যে খরচ লাগছে সেটাও পাচ্ছিনা না। এ কারণে ক্ষেতের মরিচ ক্ষেতেই লাল হয়ে ঝরে যাচ্ছে।’

বেড়াবালা ছয়ঘরিয়াপাড়ার কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, ‘ঝাল বেশি হওয়ায় এই এলাকার মরিচের চাহিদা দেশজুড়ে। কিন্তু মরিচ নিয়ে পাইকারী ব্যবসায়ীরা তেলেসমাতি কান্ড বাধিয়েছে, আমার ক্ষেতের মরিচ ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে। তাই মরিচ গাছ তুলে ফেলে কলা চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ 

মহাস্থান হাটের পাইকারী ব্যবসায়ী জুয়েল মিয়া জানান, গত দু'সপ্তাহ ধরে বগুড়ায় কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিক কমে গেছে। কেজি প্রতি সর্বোচ্চ ১০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর একই সময়ে মরিচের দাম ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এ হাটের মরিচ ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, পিরোজপুর, মেহেরপুরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যাচ্ছে। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ট্রাক করে মরিচ সরবরাহ হচ্ছে অন্য জেলায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আল মুজাহিদ সরকার জানান, গত বছরের তুলনায় এ মৌসুমে অধিক জমিতে আবাদ  ভালো ফলন হয়েছে। বাজারে মরিচ সরবরাহ বেশি হওয়ায় মরিচের দাম অনেকটা কমে গেছে। তবে চাষীদের সাথে ব্যবসায়ীদের সমন্বয় থাকলে এ অবস্থার পরিবর্তন হবে।