Joy Jugantor | online newspaper

বগুড়ায় পরিবহন নেতাদের অবস্থান কর্মসুচি

‘হয় করোনা মারা যাবে, নয় আমরা মারা যাব’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:৫৫, ১৪ মে ২০২১

আপডেট: ১৩:৫৯, ১৪ মে ২০২১

‘হয় করোনা মারা যাবে, নয় আমরা মারা যাব’

বগুড়া শহরের চারমাথা বাস টার্মিনাল।

বগুড়ায় দূরপাল্লার গণপরিবহন চালুসহ পাঁচ দফা দাবিতে বগুড়ায় অবস্থান কর্মসূচি করেছে জেলা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক যৌথ কমিটি। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে শহরের চারমাথা এলাকার জেলা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বগুড়ার পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা এই অবস্থান নেন। 

অবস্থান কর্মসূচিতে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।  এতে সভাপতিত্ব করেন বগুড়া জেলা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক যৌথ কমিটির সভাপতি সামছুদ্দিন শেখ হেলাল।  তিনি বলেন, পরিবহন শ্রমিকরা আজ না খেয়ে আছেন। ঈদ গেল তাদের আমরা কিছু দিতে পারিনি।  অথচ দেশের সবকিছু চলছে।  আমাদের পিঠ ঠেকে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে আমরা ঈদের দিনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছি।  

জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল হামিদ মিটুল বলেন, ‘আমাদের শ্রমিকরা অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। কিন্তু সড়কে গাড়ি চললে আজ এই অবস্থা দেখতে হত না। আমাদের সড়কে গাড়ি নামাতে দিতে হবে। হয় করোনা মারা যাবে নয়তো আমরা মারা যাব।  কিন্তু সড়কে গাড়ি নামালে আমরা না খেয়ে মরব না।’

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্রুপের সভাপতি শাহ আকতারুজ্জামান ডিউক, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান মণ্ডল। 

তারা বলেন, যদি নদীর ঘাটে লঞ্চ চললে সমস্যা না হয়, তবে আমাদের গাড়ি চললে সমস্যা হবে কেন? একটা ঈদ চলে গেল। আমাদের যে দুঃখ, দুর্দশা তা কেউ দেখল না।  অথচ দেশের আমরা সবচেয়ে বেশি রাজস্ব দেই।  কিন্তু সেই শ্রমিকরা আজ অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে।  আজকে আমরা বাধ্য হয়ে ঈদের দিন অবস্থান নিয়েছি।  বক্তারা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে একটা সময় এই পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা আন্দোলন করেছেন। সড়কে গাড়ি বন্ধ করেছিলেন।  

বক্তারা এসব কথা উল্লেখ করে বক্তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সড়কে গাড়ি নামানোর দাবি জানান।  

 

পরে সভায় জেলা মোটর মালিক গ্রুপের সহ সভাপতি তৌফিক হাসান ময়না দাবিগুলো তুলে ধরেন।  তিনি উল্লেখ করেন-স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহনের মোট আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণ ও পণ্য পরিবহন চলার সুযোগ দিতে হবে।  লকডাউনের কারনে কর্মহীন পরিবহন শ্রমিকদের ঈদের আগে আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা এবং যানবাহন মেরামত, পরিবহন শ্রমিকদের বেতন, ঈদ বোনাস দেয়ার জন্য মালিকদের নামমাত্র সুদে ঋণদানে পাঁচ হাজার টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করতে হবে।  সারাদেশে ঈদের আগে বাস ও ট্রাক টার্মিনালে শ্রমিকদের জন্য ১০ টাকা মূল্যের খোলা বাজারের চাল বিক্রির ব্যবস্থা গ্রহণ।  পরিবহন খাতে বিনিয়োগকারীদের ঋণের সুদ মওকুফসহ কিস্তি আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত স্থগিত এবং শতকরা ২ ভাগ ডাউন পেমেন্ট নিয়ে ক্লাসিফায়েড ঋণকে আনক্লাসিফায়েড করা।  সর্বশেষ লকডাউনের কারনে গাড়ির যাবতীয় কাগজপত্রের ফি, জরিমানা মওকুফ করা এবং হালনাগাদ করার সুযোগ  ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত করা ।

এ অবস্থান কর্মসূচিতে আরও ছিলেন যৌথ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন সরকার, জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি কামরুল মোর্শেদ আপেল, আব্দুল গফুর প্রাং, ক্রীড়া সম্পাদক শমসের আলী প্রমুখ।