Joy Jugantor | online newspaper

গোবিন্দগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধ

মামলার আসামীকে না পেয়ে ছেলেকে মারধরের অভিযোগ

গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি 

প্রকাশিত: ১৮:৪৭, ১৩ এপ্রিল ২০২১

মামলার আসামীকে না পেয়ে ছেলেকে মারধরের অভিযোগ

গোবিন্দগঞ্জ মানচিত্র।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের করা চাঁদাবাজির মামলার আসামী ধরতে গিয়ে তার স্কুল পড়ুয়া ছেলে সামিউলকে (১৭) মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ওই পরিবারের দাবি, যে মামলায় পুলিশ রাতের বেলা বাসায় এসেছিল, তা পুরোটাই মিথ্যা মামলা। 

ভুক্তভোগীরা জানান মারধরের পর এমন ঘটনা ঘটেনি মর্মে স্বীকারোক্তিও নেওয়া হয় ওই স্কুলছাত্রের কাছ থেকে। শুধু তাই নয়, বিষয়টি নিয়ে বেশি বারাবারি করলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। 

গতকাল সোমবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ওই পরিবারের মাঝে আতংকের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সামিউল উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের ব্যাপারিপাড়া গ্রামের শাকিরুল ইসলামের ছেলে। শাকিরুলের সঙ্গে একই গ্রামের রশিদুল ইসলামের স্ত্রী শিরিনা বেগমের দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধ চলে আসছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কামারদহ মৌজায় পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ৭০ শতক জমি শাকিরুল ইসলাম ও তার ভাইয়েরা চাষাবাদ করে ভোগদখল করে আসছিলেন। ওই জমিটি আবার ক্রয়সূত্রে মালিকানা দাবি করেন শিরিনা বেগম। 

অভিযোগ রয়েছে, শিরিনা বেগম বিরোধপূর্ণ জমি দখল করতে না পেরে অপকৌশল প্রয়োগ শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিপক্ষ শিরিনা বেগম পুলিশ নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করে। এতে ব্যর্থ হয়ে জমিতে মারামারির ঘটনা দেখিয়ে শিরিনা বেগম তার ভাই মেহেরুল ইসলামকে দিয়ে শাকিরুল ও তার ভাইদের নামে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। কয়েকদিন পর একই ঘটনা দেখিয়ে শিরিনা বেগম তার স্বামীর বড় ভাই দুলা মিয়াকে দিয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় তাদের নামে আরেকটি মামলা করেন। এতেও ক্ষান্ত না হয়ে গত সোমবার ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবীর অভিযোগে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করেন শিরিনা বেগম।

ভুক্তভোগীরা বলেন, এই চাঁদাবাজি মামলায় আসামী ধরতে গিয়ে সোমবার রাতে শাকিরুলকে না পেয়ে তার ছেলে সামিউল ইসলামকে মারধর করে পুলিশ। কিন্তু চাঁদা দাবির ঘটনা মিথ্যা।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, শিরিনা বেগমের স্বামী প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাই পুলিশ প্রভাবিত হয়ে অতি উৎসাহিত হয়ে শাকিরুলসহ তার পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে একের পর এক সাজানো মামলা নিচ্ছে। 

স্থানীয়দের ভাষ্য, পুলিশ কোন পক্ষ নিয়ে কাজ করলে সেখানে নিরপেক্ষতা থাকে না। ফলে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয় সাধারণ মানুষ। কিন্তু আমরা তা আশা করি না।  

রাতের বিষয়ে সামিউল ইসলাম জানায়, সোমবার রাত আড়াইটার দিকে ঘরের দরজায় এসে লোকজন ডাকাডাকি করছিল। অনেক রাতে ডাকাডাকিতে ভয় পেয়েছিলাম। এসময় তারা দরজা-জানালায় বিকট শব্দে পিটাচ্ছিল। একপর্যায়ে ঘরের চালার ওপর দিয়ে কয়েকজন লোক বাড়ির ভিতরে এসেই আমাকে মারধর করে। মারধরের পর তারা স্বীকারোক্তিও নেয়। পরে শব্দ শুনে পাশের বাড়ির লোকজন এসে দুর থেকে দেখে, ভয়ে কেউ কাছে আসেনি। আমরা খুব আতংকে আছি।  

শাকিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, প্রতিপক্ষ শিরিনা বেগমের স্বামী রশিদুল ইসলাম সরকারি আবাসন প্রকল্পের উচ্চমান সহকারী পদে চাকরি করেন। এরই প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে একের পর এক মিথ্যা মামলা নিচ্ছে পুলিশ। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন শাকিরুল ও তার পরিবারের লোকজন। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোবিন্দগঞ্জ থানার এসআই আরিফুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের অভিযোগ সত্য নয়। আমি ওই বাড়িতে মামলার আসামী ধরতে যাই। কিন্তু আসামী পলাতক ছিল। এর বেশি কিছু জানতে চাইলে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অফিসারের সাথে যোগাযোগ করুন। 

জানতে চাইলে থানার পুলিশ পরিদর্শক আফজাল হোসেন বলেন, সেখানে মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি। আমার জানা মতে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের নামে একটি মামলা আছে। এরপর তারা চাঁদা দাবী করায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় পুলিশ আসামী ধরতে গেছে। তিনি আরও বলেন, ওই এলাকার লোকজন ভাল না, পুলিশের সাথে উগ্র মেজাজে কথা বলে। আমি এর বেশি কিছু জানি না। 

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মেহেদী হাসানের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনিও পুলিশ পরিদর্শকের (তদন্ত) সাথে কথা বলতে বলেন।