Joy Jugantor | online newspaper

শাজাহানপুরে মুক্তিযোদ্ধার সনদ জাল করে ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:১৮, ৭ এপ্রিল ২০২১

আপডেট: ২০:৫৫, ৭ এপ্রিল ২০২১

শাজাহানপুরে মুক্তিযোদ্ধার সনদ জাল করে ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলন করা হচ্ছে।

বগুড়ার শাজাহানপুরে মুক্তিযোদ্ধার সনদ জাল করে সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধাসহ ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে হযরত আলী নামে এক মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে।

বুধবার দুপুরে শাজাহানপুর প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন মুক্তিযোদ্ধারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী বলেন, বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কাটাখালী গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর রহমানে সনদ জাল করে নিজের নামে সনদ তৈরী করে সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধাসহ ভাতা ভোগ করে আসছেন একই গ্রামের মৃত গফুর প্রামানিকের ছেলে হযরত আলী।

মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী বলেন, ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় শহীদ হন সারিয়াকান্দি উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর রহমান। মৃত্যুর পর তার পরিবারে বাবা, মা, ভাই, বোন ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। সেসময় মানবেতর জীবন যাপন করছিল পরিবারটি। পরিবারটিকে আর্থিক সাহায্য সহযোগীতার প্রলোভন দেখিয়ে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর রহমানের স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদপত্র (আতাউল গণি ওসমানী স্বাক্ষরিত) জাল করে নিজ নামে সনদ তৈরী করেন হযরত আলী। 
এরপর ১৯৭৩ সালে রক্ষী বাহিনীতে যোগদান করেন তিনি। পরবর্তি সময়ে রক্ষী বাহিনী বিলুপ্তির পর কৌশলে সেনাবাহিনীর সিগনাল কোরে যোগদান করেন হযরত আলী। সেনাবাহিনীতে চাকরিরত অবস্থায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদমূলে সেনাবাহিনীর বিশেষ গেজেটে নিজেকে শাজাহানপুর বগুড়ার মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন। অথচ সারিয়াকান্দি উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার স্বপক্ষে কোন সনদ ও দলিল প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, হযরত আলীর স্বাধীণতা সংগ্রামের সনদ ভারতীয় তালিকা বই নম্বর, এফ এফ নম্বর, সেক্টর নম্বর, মুক্তি বার্তা নম্বর, গেজেট নম্বর ও ডাটা বেইজ সম্পূর্ণ ভুয়া। এসব কাগজপত্র দিয়ে  সেনাবাহিনীর বিশেষ গেজেট মূলে বর্তমানে শাজাহানপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মাধ্যমে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে আসছেন তিনি। প্রতারণা করে মুক্তিযোদ্ধার সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছেন হযরত আলী।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, ১৯৭৩ সালে রক্ষী বাহিনীতে যোগদান করে বেসামরিক গেজেট মূলে মুক্তিযোদ্ধা না হয়ে সেনাবাহিনীর গেজেট মূলে কিভাবে মুক্তিযোদ্ধা হয় এটা বোধগম্য নয়। যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, অপ্রাসাঙ্গিক, মিথ্যা ও ভুয়া। এ অবস্থায় দুর্নীতিবাজ, প্রতারক হযরত আলীসহ যে সমস্ত মুক্তিযোদ্ধা ১৯৭১ সালের পরে সেনাবাহিনীতে ভর্তি হয়ে সেনা গেজেট মূলে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন তাদের অবাঞ্চিত ঘোষণা করে যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় আনতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার গৌরগোপাল গোস্বামী, বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ, হাবিবর রহমান, আমজাদ হোসেন, বছির হোসেন, এএসএম মুসা, হরিপদ দাস, সিদ্দিকুর রহমান, আব্দুল হালিম, ইব্রাহীম হোসেন প্রমুখ।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে মুক্তিযোদ্ধা হযরত আলীর সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।