Joy Jugantor | online newspaper

শেরপুরে গোবরের জ্বালানিতেই সংসারে ফিরেছে স্বচ্ছলতা

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫:৩৬, ৭ এপ্রিল ২০২১

শেরপুরে গোবরের জ্বালানিতেই সংসারে ফিরেছে স্বচ্ছলতা

রাস্তার দুই ধারে মাঁচা তৈরি করে গোবরের জ্বালানি শুকাতে দেয়া হয়েছে।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খানপুর গ্রামের নারীরা গোবরের জ্বালানি তৈরি করে আর্থিক স্বচ্ছলতা পেয়েছেন। সংসারের কাজ শেষ করে অবসর সময়ে এই জ্বালানি তৈরি করছেন তারা।  এতে একদিকে যেমন জ্বালানি  সংকট দূর হচ্ছে অন্যদিকে প্রতি মাসে বাড়তি আয় দিয়ে সংসারে ফিরছে স্বচ্ছলতা।

উপজেলার খানপুর গ্রাম ছাড়াও দশশিকাপাড়া, ছাতিয়ানি, চৌবাড়িয়া গ্রামের অনেক নারীরাই এই জ্বালানি তৈরি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

সম্প্রতি খানপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, গ্রামের স্থানীয় সড়কের দুই ধারে বাঁশের মাচা তৈরি করা হয়েছে। খানপুর গ্রাম থেকে দশটিকা গ্রামে সংযোগ সড়কের আধা কিলোমিটার জুড়ে বাঁশের এ মাঁচা তৈরি করা হয়েছে। এ মাঁচার ওপর গোবরের তৈরি জ্বালানি শুকাতে দেয়া হয়। গ্রামের নারীরা বাড়িতে গরু-মহিষ পালন করেন। এসব পশুর গোবর হাতের মুঠো দিয়ে জ্বালানি তৈরি করে তারা। এছাড়াও গ্রামের নারীরা ঘুরে ঘুরে গোবরও সংগ্রহ করেন। অনেক নারীকে দেখা গেছে বাঁশের লাকড়ির সাথে ধানের গুঁড়া মিশিয়ে লম্বা আকৃতির জ্বালানি তৈরি করছেন।

গ্রামের নারীরা বলছেন, প্রতিদিন গড়ে একেকজন দেড় থেকে দুই বস্তা জ্বালানি তৈরি করেন। আবার অনেকে এর চাইতে বেশিও তৈরি করে থাকেন। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে এসব জ্বালানি বিক্রি করেন তারা। প্রতি বস্তা গোবরের জ্বালানি ১৫০টাকা থেকে ২০০টাকায় বিক্রি হয়। এতে একজনের মাসে চার হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয়।

কথা হয় ছাতিয়ানি গ্রামের শাহনাজ পারভীন ও নার্গিস খাতুনের সঙ্গে। তারা বলেন, আগে তাদের সংসার চলত অভাব-অনটনের সঙ্গে যুদ্ধ করে। তারা ১ বছর ধরে গোবরের জ্বালানি তৈরি করছেন। এতে তাদের সংসারে স্বচ্ছলতা এসেছে। তারা দুজনই একটি গরু  কিনেছেন এ ব্যবসায়রের আয় থেকে। তারা এখন অনেক ভালো আছে। পরিবারের নিয়ে সুখেই দিন কাটছে তাদের।

শুধু শাহনাজ ও নার্গিসই নয়, অভাব দূর করে স্বাবলম্বী হয়েছেন ছাতিয়ানি গ্রামের অন্তত ২০ পরিবার। আগে অনেক কষ্টে দিনপার করলেও অন্তত কিছুটা সুখ এসেছ তাদের জীবনে।