Joy Jugantor | online newspaper

চাল চোর থেকে কলেজের সভাপতি, হাতিয়ে নিলেন কোটি কোটি টাকা!

নাটোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭:৪৫, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

চাল চোর থেকে কলেজের সভাপতি, হাতিয়ে নিলেন কোটি কোটি টাকা!

ভুয়া সভাপতি জালাল শাহ ও ভুয়া অধ্যক্ষ বাবুল আক্তার বাবু।

নাটরের গুরুদাসপুরে নিজেকে সভাপতি সাজিয়ে বঙ্গবন্ধু টেকনিক্যাল বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষসহ ৬১জন শিক্ষক-কর্মচারীকে নিয়োগ দেয়া নিয়ে প্রতারণার  অভিযোগ উঠেছে জালাল শাহ নামে একজনের বিরুদ্ধে।

জালাল শাহ ওই উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বেড়গঙ্গারামপুরের বাসিন্দা। তিনি নিজেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা দাবি করেন। তার বিরুদ্ধে ওএমএস-এর চাল চুরিরও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি কয়েকটি মামলায় জেলও খেটেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জালাল শাহ নিজেকে ওই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি দাবি করে বিভিন্ন জনকে নিয়োগ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। নিজ বাড়িতে অফিস ঘর বানিয়ে সেখানে বসেই এসব কর্মকাণ্ড করছেন তিনি।

স্থানীয়রা জানায়, জালাল শাহ নিজেকে সভাপতি ও বাবুল আক্তার বাবুকে নামে একজনকে অধ্যক্ষ সাজিয়ে আব্দুল মতিন, জিয়াউর রহমান, জহুরুল হক, মিন্টু, আব্দুল মালেক, আনিসুর রহমানসহ অন্তত ৬১ জনকে শিক্ষক-কর্মচারী পদে ভুয়া নিয়োগ দিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু টেকনিক্যাল বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইন্সটিটিউটের ভূগোল বিষয়ের প্রভাষক জামরুল ইসলামের চাচা শাহ আলম বলেন, আমরা জানতে পারি কলেজের পুরোনো শিক্ষক-কর্মচারীদের বাদ দেয়া হয়েছে। এ কারণে জালাল শাহ’র মাধ্যমে আমার ভাতিজাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আরো অনেকেই এভাবে নিয়োগ পেয়েছেন।

গুরুদাসপুরের ইউএনও এবং কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. তমাল হোসেন বলেন, জালাল শাহ এবং বাবুল আক্তার বাবু ভুয়া সভাপতি-অধ্যক্ষ সেজে প্রতারণা করছেন। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে রোববার। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা গেছে, ২০১০ সালে বঙ্গবন্ধু টেকনিক্যাল বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করতে জালাল শাহ’র চাচা আব্দুর রাজ্জাক, লোকমান, বারেক ও রবিউল শাহ ১০৭ শতাংশ জমি দান করেন। সে সময় গুরুদাসপুর শামসুজ্জোহা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন প্রতিষ্ঠাতা হয়ে বেড়গঞ্জরামপুর গ্রামে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন।

বঙ্গবন্ধু টেকনিক্যাল বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ সাইদুল ইসলাম সাঈদ অভিযোগ করেন, কলেজের নামে দেয়া জমিটি আগেই অন্যদের কাছে বিক্রি করেছেন দাতারা। এরপর জমি ফেরত চেয়ে আদালতে মামলাও করেছেন। ওই ঘটনায় কলেজের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাধিকবার শারিরিকভাবে লাঞ্চিত করেছেন তারা।

বঙ্গবন্ধু টেকনিক্যাল বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইন্সটিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি ও সাবেক অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন বলেন, আমার নামের সঙ্গে মিল থাকায় জালাল শাহ নিজেকে সভাপতি দাবি করে নিয়োগ বাণিজ্য করছেন। তিনি লোকজন নিয়ে প্রায়ই কলেজের কার্যক্রমে বাধা দিতেন। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্থানীয় এমপি আব্দুল কুদ্দুস সে সময় কলেজটি গুরুদাসপুর সদরে স্থানান্তর করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জালাল শাহ ও বাবুল আক্তার বাবু কোনো বক্তব্য না দিয়ে উল্টো সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন।