Joy Jugantor | online newspaper

চেয়ারম্যান জেলে, পরিষদ চালাবে কে...?

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪:২৭, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

চেয়ারম্যান জেলে, পরিষদ চালাবে কে...?

আতিকুর রহমান মিল্টন

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান মিল্টন প্রায় দুই মাস যাবত জেলে রয়েছেন। চেয়ারম্যান না থাকায় পরিষদের দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। এতে ইউনিয়নবাসী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে। এদিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েও ইউপি সদস্যদের মধ্যে চলছে টানাটানি। গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে ইউপি চেয়ারম্যান মিল্টন গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে বাঁশতৈল ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আতিকুর রহমান মিল্টন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালের ৭ আগস্ট নতুন পরিষদের প্রথম সভায় তিনজন প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। এতে পরিষদের সদস্য শেফালী বেগমকে এক নম্বর, মোয়াজ্জেম হোসেনকে ২নম্বর ও মো. আব্দুল মান্নানকে ৩নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে রেজুলেশন অনুমোদন করা হয়। ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান মিল্টন গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর থেকে একটি হত্যা মামলায় গাজীপুরের কাশিমপুর জেল হাজতে রয়েছেন। পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এক নম্বরে থাকা প্যানেল চেয়ারম্যান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার নিয়ম। কিন্তু রেজুলেশন বহিতে এক নম্বর সিরিয়ালে থাকা শেফালী বেগমের নামের পাশে ঘষামাজা করে তিন নম্বর এবং তিন নম্বর সিরিয়ালে থাকা মো. আব্দুল মান্নানের নামের পাশে এক নম্বর লেখা হয়েছে।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পরিষদের চারজন সদস্য গত বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

বাঁশতৈল ইউপির সংরক্ষিত নারী সদস্য শেফালী বেগম জানান, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগের বিধান রয়েছে। তিনি এক নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান থাকায় দৈনন্দিন কাজ সচল রাখতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে যোগাযোগ শুরু করেন। পরে জানতে পারেন তার নামের পাশে ঘষামাজা করে তিন নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান লেখা হয়েছে। এ ছাড়া তিন নম্বরে থাকা প্যানেল চেয়ারম্যানের নামের পাশে এক নম্বর লেখা আছে। এ বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তিনি জানিয়েছেন।

তবে নাম ও নম্বর কাটাকাটির বিষয়টি জানেন না বলে জানান তিন নম্বর সিরিয়ালে থাকা ইউপি সদস্য মো. আব্দুল মান্নান।

বাঁশতৈল ইউপির সচিব মো. সোহেলুর রহমান বলেন, নতুন পরিষদের প্রথম সভায় প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। প্রথম সিরিয়ালে থাকা প্যানেল চেয়ারম্যানের নামের পাশে কিভাবে তিন নম্বর এবং তিন নম্বর সিরিয়ালে থাকা প্যানেল চেয়ারম্যানের নামের পাশে এক নম্বর লেখা হয়েছে বিষয়টি আমার জানা নেই।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, ইউপি সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।