Joy Jugantor | online newspaper

সোনাতলায় ৯ মাসের গর্ভবতী গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার,

অভিযুক্ত ল্যাংড়া মতি পলাতক

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩:১৩, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

অভিযুক্ত ল্যাংড়া মতি পলাতক

সোনাতলায় ৯ মাসের গর্ভবতী গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার, অভিযুক্ত ল্যাংড়া মতি পলাতক

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা সদর ইউনিয়নের সুজাইতপুর গ্রামে ৯ মাসের এক গর্ভবতী গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ল্যাংড়া মতির বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) জুম্মার নামাজের আগে মতির দোকানের পেছনের একটি ঘরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত মতি পলাতক রয়েছে।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ জানান, দুপুরে খাওয়া শেষ করে তিনি মতির দোকানে পান নিতে যান। দোকানে পান চাইলে মতি তাকে পেছনের ঘর থেকে সুপারি আনতে বলে। “আমি ঘরে ঢুকতেই সে পেছন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে আমাকে বিছানায় ফেলে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। আমি ৯ মাসের গর্ভবতী—প্রতিরোধ করার মতো শক্তিও ছিল না,” বলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় ভুক্তভোগীর ছোট মেয়ে ঘরের ভাঙা অংশ দিয়ে পুরো ঘটনাটিই দেখে ফেলে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর মতি তাকে ৫০ টাকা দিয়ে হুমকি দেয়—ঘটনা কাউকে জানালে পরিণতি ভালো হবে না এবং দ্রুত অন্য কোথাও চলে যেতে হবে।ভয়ে তিনি সরাসরি নিজের বাড়িতে না গিয়ে খালার বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে স্বামী ও শাশুড়ি বিষয়টি বুঝতে পারলে তাকে থানায় অভিযোগ করতে উৎসাহিত করেন। সেই রাতেই তিনি সোনাতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তিন দিন পার হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা গরিব মানুষ বলে কি আমাদের বিচার নেই? পুলিশ যদি না আসে তাহলে আমরা কার কাছে যাব?”এলাকাবাসীর একাধিক সূত্র জানায়, ল্যাংড়া মতি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলেও এলাকার প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় সে বেশিরভাগ সময়ই ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকে। বহু মানুষ ভয়ে তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না।

অভিযুক্ত মতির স্ত্রী দাবি করেন, “এমন ঘটনা ঘটেনি। মেয়েটি পান খেতে এসেছিল, কিছুক্ষণ দেরি হয়েছে। এরপর কি হয়েছে আমি জানি না। পরে শুনি সে ধর্ষণের অভিযোগ করছে।”ঘটনাটি নিয়ে সোনাতলা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর শাহ আলম বলেন, “অভিযোগ অনুযায়ী ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী যদি মামলা দেন, আমরা আইনি সহযোগিতা করব।” তবে ঘটনাস্থলে না যাওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে বলেন যে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক ছিল।

ভুক্তভোগীর স্বামী বাবু বলেন, “আমি গরিব মানুষ, অটোরিকশা চালাই। বাড়িতে এসে শুনলাম আমার স্ত্রীর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে। থানায় অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু এখনো কোনো পুলিশ আসেনি। আমরা খুব অসহায়।”এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “অনেক অভিযোগ থাকে—সব মনে রাখার সুযোগ হয় না। আমি খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি।” তবে তিনি জানান যে তিনি বর্তমানে ছুটিতে আছেন।ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীর পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়—দ্রুত ল্যাংড়া মতিকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের ন্যাক্কারজনক অপরাধ করার সাহস না পায়।