Joy Jugantor | online newspaper

শিল্প ও বাণিজ্যে নদীর পানি ব্যবহারে মূল্য নির্ধারণ হতে পারে

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৮:১৬, ৩ আগস্ট ২০২২

শিল্প ও বাণিজ্যে নদীর পানি ব্যবহারে মূল্য নির্ধারণ হতে পারে

পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার পরিচালনা বোর্ডের ১৭তম সভা

শিল্প ও বাণিজ্যে নদী, জলাশয় এবং ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দাম নিতে চায় সরকার। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বুধবার (৩ আগস্ট) পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) পরিচালনা বোর্ডের ১৭তম সভায় শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে ব্যবহৃত পানির রাজস্ব বা রয়্যালিটি নির্ধারণ নিয়ে রাজধানীর ওয়ারপো ভবনে বোর্ড সভাপতি ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পানির রাজস্ব নির্ধারণ নিয়ে কী আলোচনা হয়েছে- জানতে চাইলে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, শিল্প ও বাণিজ্যে নদী বা গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ন্যূনতম একটা মূল্য নির্ধারণ করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সবাই সম্মত হলে শিল্প-বাণিজ্যে পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটা মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোন এলাকায় কতটি টিউবওয়েল আছে এর সঠিক তথ্য থাকা দরকার। এছাড়া কোন এলাকায় কী পরিমাণ টিউবওয়েল প্রয়োজন তা নির্ণয় করে ব্যবস্থা নিতে হবে। এক্ষেত্রে সব সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বড় পুকুর বা দিঘি থেকে বাড়িতে পানির লাইন দিয়ে পানি সরবরাহ করলে ভূগর্ভস্থ পানির চাপ কমবে। গভীর নলকূপ বসানোর ক্ষেত্রে আইনের ব্যত্যয় হলে আইনের আওতায় শাস্তি পেতে হবে।

সভায় ভূগর্ভস্থ পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতের কথা জানানো হয়। অতিরিক্ত টিউবওয়েল ব্যবহারের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত। বিদ্যমান গভীর নলকূপ বসানোর ক্ষেত্রে আইনের সঠিক বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সভায়।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় ওয়ারপো মহাপরিচালক ও বোর্ড সদস্য সচিব মো. দেলওয়ার হোসেন প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলি তুলে ধরেন।

তিনি জানান, পানিসম্পদের উন্নয়নে পরিবেশগতভাবে ভারসাম্যপূর্ণ মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন; বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবহার ও সংরক্ষণ সম্পর্কিত জাতীয় কৌশল ও নীতিনির্ধারণ; উন্নয়ন, ব্যবহার ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাকে পরামর্শ প্রদান; উন্নয়ন, ব্যবহার ও সংরক্ষণে নিয়োজিত যে কোনো প্রতিষ্ঠানের সমীক্ষা পরিচালনায় সহযোগিতা ও প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট যে কোনো বিষয়ে বিশেষ সমীক্ষা পরিচালনা করা; উন্নয়ন, ব্যবহার ও সংরক্ষণে নিয়োজিত কোনো প্রতিষ্ঠানের নেওয়া ব্যবস্থা থেকে উদ্ভূত বিষয়ের মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা করা এবং ওই বিষয়ে পরামর্শ প্রদান; পানিসম্পদের ব্যবহার সংক্রান্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত মানোন্নয়ন; সরকারের অনুমোদনে আন্তর্জাতিক সেমিনার, সম্মেলন ও কর্মশালার আয়োজন ও পরিচালনা ছাড়াও সরকারের দেওয়া পানিসম্পদ বিষয়ক অন্যান্য দায়িত্ব পালন করে পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা।

সভায় পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমসহ বোর্ডের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।