Joy Jugantor | online newspaper

বগুড়ায় প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা এখন থেকে পছন্দের মোবাইল ব্যাংক হিসাবে উপবৃত্তির পাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

প্রকাশিত: ১৫:৩৫, ১২ মে ২০২২

আপডেট: ১৫:৩৬, ১২ মে ২০২২

বগুড়ায় প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা এখন থেকে পছন্দের মোবাইল ব্যাংক হিসাবে উপবৃত্তির পাবে

প্রতিকী ছবি।

সম্প্রতি সরকারি এক নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদানে মোবাইল ব্যাংকিং খাত উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। এতে নির্দিষ্ট এমএফএস অ্যাকাউন্টের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা নিজেদের সুবিধাজনক এমএফএস অ্যাকাউন্টে টাকা গ্রহণ ও উত্তোলন করতে পারবেন। 

বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর নির্দেশনা প্রাপ্তির বিষয়টি জানিয়েছে। অধিদপ্তরের উপজেলা পর্যায়ে সেই মোতাবেক নতুন করে পছন্দের এমএফএস অ্যাকাউন্টের তথ্যসহ তালিকার কাজ চলছে।

চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত এক নির্দেশনা জারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের মা, বাবা ও বৈধ অভিভাবকদের পছন্দ অনুযায়ী তাদের সক্রিয় মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে উপবৃত্তির অর্থ বিতরণ করা হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাক প্রাথমিক- প্রতি শিক্ষার্থী মাসিক ৭৫ টাকা হারে উপবৃত্তি পাবে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়া কোনো পরিবারের একজন শিক্ষার্থী উপবৃত্তিপ্রাপ্য হলে মাসিক ১৫০ টাকা ও দুইজন শিক্ষার্থী উপবৃত্তিপ্রাপ্য হলে মাসিক ৩০০ টাকা হারে উপবৃত্তি পাবে।

৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণির কোনো পরিবারের একজন শিক্ষার্থী উপবৃত্তি প্রাপ্য হলে মাসিক ২০০ টাকা ও দুইজন শিক্ষার্থী উপবৃত্তি প্রাপ্য হলে মাসিক ৪০০ টাকা হারে উপবৃত্তি পাবে।

প্রাথমিক বিদ্যালয় ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন এ সিদ্ধান্তেস্বস্তি পাচ্ছেন তারা। কারণ দেশে প্রচলিত সব ধরনের মোবাইল আর্থিক সেবা অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে প্রত্যন্ত এলাকার অভিভাবকরা অভ্যস্ত নয়। ফলে অনেকের সন্তানেরা সরকারের কাছে থেকে উপবৃত্তির টাকা পেলেও উত্তোলন করতে বিড়ম্বনায় পড়তেন। । শুধু তাই নয়, অনেক ক্ষেত্রে টাকা মোবাইল হিসাবে আসার পরেও তারা অজ্ঞতার কারণে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। 

শিবগঞ্জ উপজেলার পনের টিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মুরাদ ইসলাম জানায়, স্কুল থেকে নতুন করে আবেদন করতে বলেছে। এরপর আমাদের জন্ম নিবন্ধনের সনদ দিয়ে আবেদন করা হয়। ওই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মহসিনার কাছে জানতে চাইলে সেও একই কথা বলে।

শাজাহানপুর উপজেলার বামুনিয়া গ্রামের এমদাদ হোসেনের দুই মেয়ে উপবৃত্তি পায়। ছোট মেয়ে সানজিদা এ্যানি বামুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ছে। বড় মেয়ে সানজিদা এষা একই এলাকার হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। 

পেশায় কৃষিজীবী এমদাদকে উপবৃত্তির টাকা পাওয়ার জন্য যে মোবাইল হিসাব খুলতে হয়েছে, সেটি ব্যবহার করতে পারতেন না। তাই অর্থ লেনদেনের জন্য তাকে স্থানীয় বাজারের এজেন্টদের কাছে যেতে হয়। 

তিনি জানান, গত বছর দুই বার মেয়েদের উপবৃত্তির টাকা পেয়েছি। তবে টাকা তোলা নিয়ে নানান রকম ঝামেলায় পড়েছেন।  

একই রকম সমস্যার কথা জানান সারিয়াকান্দির কামালপুর ইউনিয়নের রফিকুল আলম। তার মেয়ের উপবৃত্তির টাকা তুলতে মোবাইল ব্যাংক হিসাব দিতে হয়েছে। কিন্তু ওই হিসাব তিনি ব্যবহার করেন না। তিনি ব্যবহার করেন বিকাশ হিসাব।  

রফিকুল বলেন, নতুন নিয়মের কথা স্কুল থেকে শুনেছেন। এতে এখন সুবিধা হবে। উপবৃত্তির টাকা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে জানতে পারবেন।

সারিয়াকান্দির চন্দনবাইশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জুবায়ের ইসলাম বলেন, আগে অনেক শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা মোবাইল আর্থিক সেবা ব্যবহারে অনভিজ্ঞ হওয়ায় বিড়ম্বনার শিকার হতেন। সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা যায় মোবাইলের পিন নম্বরের ক্ষেত্রে। প্রায় অভিভাবক পিন নম্বর ভুলে যান। 

তিনি আরও বলেন, সরকার থেকে  নতুন নির্দেশনা এসেছে। এখন যেকোনো মোবাইল হিসাবে উপবৃত্তির টাকা প্রদান করা যাবে। এ জন্য আমরা নতুন করে তালিকা করছি। আশা করা যায় নিজেদের পছন্দের হিসাবে টাকা দেয়া হলে এ সমস্যা দূর হবে।

বাকসন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান বলেন, ইএফটি (ইলেকট্রনিক্স ফান্ড ট্রান্সফার) এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। আমার স্কুলের ১৫০ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় সবাই আবেদন করেছে। জন্মনিবন্ধন সনদ যাচাই করে ইএফটির জন্য আবেদন করা হবে। শিক্ষার্থী ইএফটি এর মধ্যেমে মোবাইলে টাকা দেওয়া হবে।  

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুন বলেন, বগুড়ায় প্রাথমিকে প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের ইএফটি এর মাধ্যমে উপবৃত্তির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ অভিভাবকদের মোবাইল হিসাব সঠিকভাবে নিবন্ধন করা। যাতে ভুল হিসাবে টাকা না যায়।
 

Add