Joy Jugantor | online newspaper

পুত্রবধূর নির্যাতনে হাসপাতালে ৯০ বছরের শাশুড়ি

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৬:৪৯, ২৮ নভেম্বর ২০২১

পুত্রবধূর নির্যাতনে হাসপাতালে ৯০ বছরের শাশুড়ি

সংগৃহীত ছবি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পুত্রবধূর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৯০ বছরের বৃদ্ধা রাবেয়া বেগম। শরীরে আঘাত নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।

এ ঘটনায় আদালতে স্ত্রী খায়রুন্নাহার হেনাকে প্রধান আসামি করে মামলা করেছেন বৃদ্ধার ছেলে মিজানুর রহমান মিজান। মামলায় স্ত্রীর ভাই গোলাম সরোয়ার জয়কেও আসামি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী বৃদ্ধা রাবেয়া বেগম বলেন, ‘অনেক শখ করে খায়রুন্নাহারকে ছেলের বউ করে ঘরে এনেছিলাম, কিন্তু এখন তা দুঃসহ স্মৃতি।’

তিনি জানান, পুত্রবধূ কথায় কথায় তাকে চড়-থাপ্পড় মারত। এমনকি ঝাড়ুপেটাও করেছে। তিন মাস আগে কাঁচভাঙা গুড়ো করে চিনির সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ানোর পর অসুস্থ হয়ে পরেন তিনি।

এই নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকও হয়। কিন্তু এর জেরে গত ২২ নভেম্বর আবারও শাশুড়িকে মারধর করেন পুত্রবধূ খায়রুন্নাহার। 

একমাত্র নাতির কথা ভেবে ছেলের জন্য দ্বিতীয় বউ এনেছিলেন রাবেয়া বেগম। কিন্তু সৎ মায়ের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে কিশোর রায়হানকেও।

কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জে এইচ খান লেলিন জানিয়েছেন, রাবেয়া বেগমের ঠোঁটে ক্ষত এবং শরীরে আঘাত রয়েছে। তার দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা দরকার।

মায়ের প্রতি স্ত্রীর এমন আচরণে ক্ষুব্ধ স্বামী মিজানুর রহমানও। এ ঘটনার পর স্ত্রী ও শ্যালকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তিনি। জানান, তিনি স্ত্রীর এই জঘন্য কাজের বিচার চান।

ঘটনার পর থেকেই পলাতক আছেন অভিযুক্ত খায়রুন্নাহার। আর তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নারী সংগঠকরা।

রাবেয়া বেগমের ছেলে মিজানুর রহমান কলাপাড়া পৌরসভার একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া-মাছুয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা তিনি।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে আত্মীয়ের মেয়ে খায়রুন্নাহার হেনাকে পুত্রবধূ করে ঘরে আনেন রাবেয়া বেগম। বিয়ের পর খায়রুন্নাহার উচ্ছৃঙ্খলভাবে চলাফেরা করে আসছিলেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে মতানৈক্য ছিল।

গত ২৫ আগস্ট কাঁচভাঙা গুড়া করে চিনির সঙ্গে মিশিয়ে শাশুড়ি রাবেয়া বেগমকে খাওয়ান খায়রুন্নাহার। এতে রাবেয়া বেগম অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিস বসে। এ ঘটনায় সালিসে ক্ষমাও চেয়েছেন খায়রুন্নাহার।

এরপর গত ২২ নভেম্বর সন্ধ্যায় ঘরের মালপত্রসহ কাপড়চোপড়, স্বর্ণালংকার, টাকা নিয়ে ভাইয়ের বাড়িতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেন খায়রুন্নাহার।

এতে বাধা দিলে শাশুড়ি রাবেয়া বেগমকে বেধড়ক মারধর করেন তিনি। তার ঠোঁট ফেটে রক্ত বের হয়। বুক ও পিঠে লাথি, কিল-ঘুষি মারা হয়। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

পরদিন মঙ্গলবার তাকে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।