Joy Jugantor | online newspaper

চা খাওয়ার সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক খুন

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২০:৩৫, ২৫ নভেম্বর ২০২১

আপডেট: ২০:৩৬, ২৫ নভেম্বর ২০২১

চা খাওয়ার সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক খুন

ফাইল ছবি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী সহিংসতায় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ভিপি মারুফের সমর্থক মাসুদ মিয়া প্রতিপক্ষের হামলায় খুন হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার খাগাতুয়া ভোরের বাজারে চা খাওয়ার সময় তাকে কুপিয়ে খুন করা হয়। মাসুদ মিয়া খাগাতুয়া গ্রামের বাসিন্দা।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের খাগাতুয়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ মাসুদ তার ভাগ্নিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। পরে খাগাতুয়া ভোরের বাজারে চা খাওয়ার সময়, ৩টি সিএনজিযোগে নৌকার সমর্থক অ্যাডভোকেট রব মিয়া, শফিক মিয়া, আলম মিয়া, ফজু ও লিটন মিয়ার নেতৃত্বে একদল যুবক এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মাসুদকে রক্তাক্ত অবস্থায় সিএনজিযোগে উঠিয়ে নিয়ে যায়। পরে খাগাতুয়া পশ্চিমপাড়া কবরস্থান সংলগ্ন নৌকার নির্বাচনী ক্যাম্পের সামনে নিয়ে দ্বিতীয় দফায় কুপিয়ে তার হাত ও পায়ের রগ কেটে গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে দিয়ে যায়।

স্থানীয় ও পরিবারের লোকজন মাসুদকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নবীনগর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় রেফার করেন। ঢাকায় নেওয়ার পথিমধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুরে মাসুদ মারা যান।

মাসুদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রতনপুর ইউনিয়নে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রতনপুর ইউনিয়নে সাধারণ মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম আতঙ্ক।

প্রত্যক্ষদর্শী মাসুদের ভাগনি শারমিন আক্তার জানান, আমি এবং আমার মায়ের চোখের সামনে অ্যাডভোকেট রব মিয়া, শফিক মিয়া, আলমসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী সিএনজি দিয়া আইসা আমার মামাকে কুপিয়ে সিএনজি দিয়ে পশ্চিমপাড়া শাকিল মিয়ার নৌকার অফিসের সামনে আবার কুপাইছে, পরে এ বাজারে অটোরিকশা দিয়া আইন্না ফালাই গেছে। আনারস মার্কার নির্বাচন করার কারণে আমার মামারে খুন করেছে।

স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ভিপি মারুফ জানান, আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন বুধবার রাতে মিটিং করে আমার কর্মী মাসুদের ওপর পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়ে তাকে নৃশংসভাবে খুন করেছে। প্রতিপক্ষের লোকজন আমার কর্মী সমর্থকের ওপর বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে নৌকার প্রার্থী সৈয়দ জাহিদ হোসেন শাকিল বলেন, এ ঘটনায় অবশ্যই শক্ত বিচার হওয়া উচিত। কোনো সন্ত্রাসী এবং মাদকসেবীকে আমি আশ্রয় প্রশ্রয় দেই না। মারামারি কাটাকাটি পছন্দ ও সমর্থন করি না। এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো কর্মী সমর্থক জড়িত না। এই তাদের পূর্ববিরোধের জের ধরে ঘটেছে।

নবীনগর থানার ওসি আমিনুর রশিদ বলেন, এটা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একরামুল ছিদ্দিক বলেন, এ ঘটনায় আমি অবগত হয়েছি এবং সঙ্গে সঙ্গে ওসি এবং সার্কেলকে জানিয়েছি, তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নবীনগরে নির্বাচন হবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তার কোনো বিকল্প আমরা ভাবছি না।