Joy Jugantor | online newspaper

হেফাজতের কেন্দ্রীয় আরও এক নেতা গ্রেফতার

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২১:৪১, ৪ মে ২০২১

হেফাজতের কেন্দ্রীয় আরও এক নেতা গ্রেফতার

মাওলানা মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমী।

হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভাদুঘর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জোনের একদল পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রইছ উদ্দিন জানান, ‘হামলার ঘটনার পর থেকে মাওলা কাসেমীর গতিবিধি নজরদারি করে আসছিল পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে কাসেমী সিএনজি চালিত অটোরিকশায় শহরের দক্ষিণ দিকে যাওয়ার পথে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

তিনি আরও জানান, গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত তাণ্ডবের ঘটনায় তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে মাওলানা আব্দুর রহিম কাসেমীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে ভাঙচুর অগ্নিসংযোগের একাধিক মামলায় আসামি করা হতে পারে।

এদিকে জেলা পুলিশের অপর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ হেফাজতে ইসলাম কর্তৃক বিক্ষোভ ও হরতাল কর্মসূচি চলাকালে তাণ্ডবের ঘটনার মূলহোতা এবং তাণ্ডবের ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন কাসেমী। সে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নির্দেশে সরকার উৎখাতের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসা সহ আশেপাশের বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষককে নিয়ে ব্যাপক তাণ্ডবলীলা চালায়। এ সময় সে এবং তার সিনিয়র মুরুব্বিদের প্রত্যক্ষ নির্দেশে হেফাজতের ছাত্র শিক্ষকগণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক তাণ্ডব চালায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হেফাজতের তাণ্ডবে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। এর আগে হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করে গত ২৩ এপ্রিল হেফাজতের তাণ্ডব ইস্যুতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে ওই দিন সাংবাদিকদের কাছে লিখিত বক্তব্য পাঠান আব্দুর রহিম কাসেমী। 

লিখিত বক্তব্যে কাসেমী উল্লেখ করেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী হেফাজতে ইসলামের ডাকে যে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তা নজিরবিহীন ও অমানবিক। দেশ ও জনগণের জানমালের ক্ষতি কোনোভাবেই ইসলামসম্মত হতে পারেনা। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে এ সমস্ত কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় থাকি এবং আমার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সমস্ত মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্রদের এ সমস্ত দেশ ও ইসলামবিরোধী কাজে যোগদান না করতে বাধ্য করি।

তিনি আরও বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে হেফাতে ইসলামের সকল কার্যক্রম ও জাতীয় এবং জেলা কমিটির পদসমূহ থেকে পদত্যাগ করছি। যাদের প্ররোচনায় দেশ ও জনগণের জানমালের এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকার ও প্রশাসনকে বিনীতভাবে অনূর্ধ্ব করছি।

উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অর্ধশতাধিক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকেরা। এ সব ঘটনায় ৫৬টি মামলা দায়ের হয়েছে। এ মামলাগুলোতে এজহারনামীয় আসামি ৪১৪ জন ও অজ্ঞাতনামা ৩৫ হাজারেরও বেশি। এ সব মামলা মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ৪১৪ জনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।