Joy Jugantor | online newspaper

‘হামার দিন এখন আর যেতে চাচ্ছে না’

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি 

প্রকাশিত: ১৮:১৬, ৪ মে ২০২১

‘হামার দিন এখন আর যেতে চাচ্ছে না’

সারিয়াকান্দি ফুলবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেটে বসে আছেন লালন।

‘মা, বউ ও ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ম্যালা কষ্টে আছি। কামাই রোজগার হচ্ছে না, হামার দিন এখন আর যেতে চাচ্ছে না।। এক বেলা খাই আরেক বেলা না খেয়ে থাকি। বুড়ো মাকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি গো। লেকেনগো সাংবাদিক সাহেব, হামার জন্য এনা লেকেন দাদা, লেকেন গো’।

অভাবক্লিষ্ট ক্ষীন কণ্ঠে  কথাগুলো বলছিলেন বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের হাটফুলবাড়ী বাজারের লালন রবিদাস (২৮)। ফুলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান গেটে জুতা সেলাইয়ের দোকান নিয়ে বসেন তিনি। 

লালনের সাথে কথা বলে জানা যায়,  করোনা শুরু হবার পূর্বে থেকে তার দৈনিক যে রোজগার করছিলেন এখন আর তা হয় না। করোনার আগে জুতা-সেন্ডেল সেলাই করে দৈনিক তার রোজগার হচ্ছিল ২ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু এখন হয় সেখানে ২০ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪০ টাকা পর্যন্ত। আবার কোন দিন রোজগার একেবারেই হয় না। তিনি জানান, এ অবস্থায় তার সংসার চালানো কঠিন হয়ে পরেছে। তিনি সমাজের কোন ব্যক্তি বর্গের সাহায্য-সহযোগীতা পান না। 

লালন জানান, পাঁচ বছর আগে বাবা মারা যান। মা বেলী (৬০) বেঁচে আছেন। তার সাথেই থাকেন। এ ছাড়া স্ত্রী খুকী (২৫), ছেলে আদিত্য (৩) ও মেয়ে খুকিকে (৫) নিয়ে অভাবের সংসার লালনের। করোনার কারনে আয় রোজগার কমায় খাদ্যকষ্টে রয়েছেন। সরকারিভাবে অনেক সুযোগ সুবিধা থাকলেও এখনও কিছু পাননি তিনি। 

ভূমিহীন ওই লালন রবি দাসের অন্য কোন কাজ জানা নেই। বংশ পরম্পরায় জুতা সেলাই করে সংসারের ঘানী টানেন জানালেন লালন।  

স্থানীয়দের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে শুধু লালনের এমন অবস্থা নয়। ওই এলাকার কালী চরন রবি দাস, জয়েন রবি দাস, রং লাল রবি দাস করোনার কারনে বর্তমানে একই অবস্থা দেখা দিয়েছে। 

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ত্রাণ কর্মকর্তা সারওয়ার আলম বলেন, আমাদের জানা মতে কেউ খাদ্য কষ্টে নেই। কেউ থাকলে আমার অথবা ইউএনও সাহেবের সাথে যোগাযোগ করলে তাদের কষ্ট লাঘব করা সম্ভব।