Joy Jugantor | online newspaper

শোষণ-বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে বগুড়ায় সমাবেশ 

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:১৭, ৮ মার্চ ২০২১

আপডেট: ১৮:৩৬, ৮ মার্চ ২০২১

শোষণ-বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে বগুড়ায় সমাবেশ 

সোমবার শহরের সাতমাথায় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছেন সাইফুল ইসলাম। ছবি- জয়যুগান্তর

বগুড়ায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বেলা ১১ টার দিকে জেলা সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম শহরের সামমাথায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। 

এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সংগঠক রাধা রানী বর্মন। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বগুড়া জেলা আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম পল্টু, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জেলা সভাপতি ধনঞ্জয় বর্মন, সদস্য পূজা প্রামানিক প্রমুখ। 

সমাবেশে সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের চেতনার মূলে ছিল নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং শোষণ-বৈষম্যহীন সাম্য সমাজ গড়ার আহ্বান। নারী দিবস ঘোষণার ১১০ বছর পর এবং  মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর পরেও আমাদের দেশের নারীরা সমাজিক-পারিবারিক জীবনের প্রায় সকল ক্ষেত্রে সম-অধিকার থেকে বঞ্চিত।  এত বছর পর এখনও সম্পত্তির উত্তরাধিকারে নারীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা পায়নি। কোন সরকারই সিডও সনদের দুটি ধারা থেকে আপত্তি তুলে নেয়নি। ‘সমকাজে সমমজুরি’ আইনে থাকলেও প্রায় সকল অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের (নির্মাণ কাজ, চাতাল, ক্ষেতমজুর ইত্যাদি) নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে তার বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে ঘরে-বাইরে সর্বত্র নির্যাতন-ধর্ষণ-যৌন হয়রানী।

তিনি আরও বলেন, পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী সারাদেশে নারী শিশু ধর্ষন নির্যাতন প্রতি বছর বেড়েই চলছে। বিবাহিত নারীদের ৮৬ শতাংশ ঘরেই নির্যাতনের শিকার হন। ৯৪ শতাংশ নারী গণপরিবহনে নানা প্রকার যৌন নিপীড়নের শিকার হন। বাল্য বিবাহ ৫২ শতাংশ এটাই স্বাধীনদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীর জীবন চিত্র। এই অবস্থা থেকে পুঁজিবাদী রাষ্ট্র নারীদের মুক্ত করতে পারবে না। তাই নারী- পুরুষ সকলে মিলে এই বৈষম্যার- ভোগবাদী  সমাজ ভাঙ্গার আন্দোলন ঐক্যবদ্ধ ভাবে গড়ে তুলতে হবে।  

রাধা রানী বর্মন বলেন, পুঁজিবাদ মানুষের অসহায়ত্ব, মানুষের আবেগ-অনুভূতি-মূল্যবোধ, নারীর মর্যাদা, নারীর শ্রম-সৌন্দর্য সকল কিছু নিয়েই ব্যবসা করছে। তাই নারীকে একই সাথে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বিরুদ্ধে এবং এই পুঁজিবাদী-ভোগবাদী  বৈষম্যমূলক সমাজ ভাঙ্গার লড়াইয়ে শামিল হতে হবে। সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম মনে করে নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াইকে সাম্য সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের সাথে যুক্ত করত হবে। 

বক্তারা বলেন, পোশাক শিল্পে শতকরা ৬০ ভাগই নারী শ্রমিক। বাংলাদেশ পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম গার্মেন্টস রপ্তানিকারক দেশ। আর বাংলাদেশে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বিশ্বের মধ্যে সর্বনিম্ন। যে হারে পোষাক শিল্প শ্রমিকদের বাড়ি ভাড়া বেড়েছে, দ্রব্যমূল্য বেড়েছে সেই হারে শ্রমিকদের বেতন বাড়েনি। এই রাষ্ট্র এই সমাজ নারীদের ন্যূনতম যে মানবিক অধিকার তাই দেয় না; সম-অধিকার তো আরও দূরের কথা। নারীর মর্যাদা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদার কারার আন্দোলনে  নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।