Joy Jugantor | online newspaper

উদীচী হত্যাযজ্ঞের ২২ বছর পূর্তি আজ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪:২৪, ৬ মার্চ ২০২১

উদীচী হত্যাযজ্ঞের ২২ বছর পূর্তি আজ

ফাইল ছবি।

যশোরে উদীচী হত্যাযজ্ঞের ২২ বছর পূর্তি আজ।  এটিই ছিল দেশে কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রথম বোমা হামলার ঘটনা। এরপর ঘটে রমনা ট্রাজেডিসহ আরো কয়েকটি ঘটনা। উদীচী হত্যাযজ্ঞের দুই দশক পার হলেও থমকে আছে বিচার কার্যক্রম। তাই হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে নিহতদের পরিবার, আহত ও উদীচী কর্মীদের মাঝে।

১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ যশোরের ঐতিহ্যবাহী টাউন হল মাঠে চলছিল উদীচীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠান। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে রাতে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কয়েকশ মানুষ ছিলেন ওই অনুষ্ঠানের দর্শক। গভীর রাতে হঠাৎ মঞ্চের এক পাশে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে।

বিস্ফোরণের রেশ কেটে যাওয়ার পর যখন হতাহতদের উদ্ধার কাজ শুরু হয়, তখন মঞ্চের অপর পাশে ফের বিস্ফোরণ হয়। বাড়ে হতাহতের সংখ্যা। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ছিন্নভিন্ন হয়ে বিভৎস্য মৃত্যু ঘটে ১০ জনের। আহত হন আড়াই শতাধিক মানুষ। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পঙ্গু হয়ে যান।
 
বিভীষিকাময় এ ঘটনায় হতাহতদের পরিবার হামলায় জড়িতদের শনাক্ত ও বিচার দেখতে না পারার বেদনা আজো ব্যক্ত করেন ভুক্তভোগী আর তাদের স্বজনরা।ৎ

যশোরের পাবলিক প্রসিকিউটর ইদ্রিস আলী জানান, ঘটনার পর হত্যাকাণ্ড ও বিস্ফোরণের দুইটি মামলা হয়। তদন্ত করে সিআইডি। ২০০৬ সালের ৩০ মে আদালতে মামলার রায় ঘোষণায় সব আসামি খালাস পেয়ে যায়। রায়ে আদালত মামলার দুর্বল তদন্ত ও চার্জশিটের সমালোচনা করেন। সরকার ওই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করলে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়। 

তিনি আরো জানান, বর্তমানে মামলাটি উচ্চ আদালতে আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এই মামলার ২৩ আসামির মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিরা জামিনে রয়েছেন। তিনি এই মামলা নিয়ে এটর্নি জেনারেলের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তিনি আশাবাদী শিগগির উচ্চ আদালতে মামলাটির কার্যক্রম শুরু হবে। 

উদীচী ট্র্যাজেডিতে নিহত তপনের বোন নাজমুস সুলতানা বিউটি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে অনেক বিচার হচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও উদীচী ট্র্যাজেডির বিচার হচ্ছে না। আমার মা বার্ধক্যে পড়েছেন। মৃত্যুর আগে সন্তান হত্যার বিচার দেখে যেতে চান। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি দ্রুত উদীচী হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হোক।

বোমা হামলায় এক পা হারানো উদীচী কর্মী সুকান্ত দাস বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি চাই। সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সরকারের আন্তরিকতা প্রয়োজন। 

উদীচী যশোরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহবুবুর রহমান মজনু বলেন, দেশে বোমা হামলার কালো অধ্যায় শুরু হয় যশোরে উদীচীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলার মধ্য দিয়ে। নৃশংস এই হামলার ‘খলনায়কদের’ ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রয়েছে। এদেরকে নিশ্চিহ্ন ও বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

প্রতিবছর এই দিনে শহীদদের স্মরণে আলোচনা, স্মরণসভা, শহীদ স্মারকে মোমবাতি প্রজ্জ্বালন আর বিচারের একই  দাবি করে আসছেন স্বজন বন্ধু ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা।